প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] যশোর শিক্ষা বোর্ড পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজড কোটি কোটি টাকার সাশ্রয়সহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধ

যশোর প্রতিনিধি: [২] দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা যশোরে অবস্থিত শিক্ষা বোর্ডটিও পূর্ণ ডিজিটালাইজড হয়েছে। এ কার্যক্রমের শুরু ২০১৫ সালে, যা আজ ঈর্ষণীয় সাফল্যের পথে চলমান। আর এর সুফল পাচ্ছে ৩ হাজার ৩৫৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীসহ ৫২ হাজার শিক্ষক। বছরে কয়েক কোটি টাকার সাশ্রয়ও হচ্ছে।

[৩] বোর্ড সূত্র জানায়, অন লাইনের মাধ্যমে বিদ্যালয় অনুমোদন কার্যক্রম দিয়েই যশোর শিক্ষা বোর্ডের ডিজিটালাইজড কাজ শুরু হয়।

[৪] বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই বোর্ডে বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। তিনি দায়িত্ব নিয়েই বিদ্যালয় অনুমোদনের জন্য অন লাইনে আবেদনের উদ্যোগ নেন।

[৫] এজন্য তিনি নিজেই একটি সফটওয়ার তৈরির কাজে হাত দেন। এক মাসের মধ্যে তা সফল ভাবে তৈরি করা হয়। এরপর বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকলকে জানিয়ে দেয়া হয়, যশোর বোর্ডের ্আওতায় কোন বিদ্যালয় আর অনুমোদনের জন্য ম্যানুয়াল আবেদন না করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

[৬] এতে বিদ্যালয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে চালু হয়ে যায় ডিজিটাল কার্যক্রম। এর পরপরই কলেজ অনুমোদন কার্যক্রমও ডিজিটালাইজড হয়ে যায়। ওই সময় থেকে কোন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আর শিক্ষা বোর্ডে আসতে হয় না। এতে তারা হয়রানি থেকেও রেহাই পেয়েছেন।

[৭] নাম, বয়স তথা সনদেও অন্যান্য যে কোন ভুল সংশোধন, সেগুলোও ই-টিসি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হচ্ছে। কাউকে বোর্ডে আসতে হচ্ছে না। পরীক্ষার ফল স্বয়ংক্রিয় ভাবে পরীক্ষার্থীর মোবাইলে পাঠানোর ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিনা খরচে ফল প্রকাশের ১০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষার্থীরা ফল পেয়ে যাচ্ছে।

[৮] অন লাইন প্রশ্ন ব্যাংক এই বোর্ডের অন্যতম সাফল্য। এজন্য একটি সফটওয়ার তৈরির করতে বুয়েট কোটি টাকা দাবি করেছিল।

[৯] বর্তমান চেয়ারম্যান সচিব থাকাকালে বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তরুণ শিক্ষকদের সহযোগিতায় সেই সফটওয়ার তৈরি করা হয়েছে। আর এতে খরচ পড়েছে মাত্র ২৫ লাখ টাকা। এখন এই সফটওয়ারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা বোর্ডের একক ও মানসম্পন্ন প্রশ্নে গ্রহণ করা হয়।

[১০] বোর্ডের ডকুমেন্টস শাখায় চলে সীমাহীন দুর্নীতি। আর চলে সেবা গ্রহণকারীদের হয়রানি। ডকুমেন্ট শাখার জন্য সফটওয়ার তৈরি হওয়ায় সব দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ হয়েছে।

[১১] স্কান মেশিন দিয়ে কেন্দ্রে ওএমআর স্কান করে অন লাইনে বোর্ডের ওয়েবসাইটে দাখিল করার একটি সফটওয়ার উদ্ভাবন করেছেন চেয়ারম্যান ড. মোল্লা আমীর হোসেন। এখন থেকে কেন্দ্র বা প্রধান পরীক্ষকদের নিকট থেকে আর ওএমআর বোর্ডে আনতে হবে না। এতে বিনা খরচে ওএমআর’র রঙিন ছবি মুহূর্তের মধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইটে জমা হবে ও তা স্বয়ংক্রিয় ভাবে ডাটা হয়ে রেজাল্ট তৈরি হয়ে যাবে। এতে বোর্ডর কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।

[১২] অন লাইনে উপস্থিতির হিসাব সংরক্ষণের একটি সফটওয়ার তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে যশোর শিক্ষা বোর্ড। বোর্ড সূত্র জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ক্লাসে হাজির হয় না। তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ইভটিজিং, জঙ্গী, মাদকাসক্তদের আড্ডায় মেতে থাকে। তারা সারা বছর ক্লাস না করায় পরীক্ষায় পাস করতে পারে না। সম্পাদনা: জেরিন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত