প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসুন, সাহেদ উপাখ্যান থেকে কিছু শিখি

এ বি এম কামরুল হাসান : রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমের কোভিড-১৯ রিপোর্ট জালিয়াতি, অপকর্ম বা প্রতারণা নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে, হচ্ছে । আমি আজ বলবো, সাহেদ আমাদেরকে কি কি বার্তা দিয়ে গেলো। প্রশাসন, রাজনৈতিক দল এবং মিডিয়ার যেসব দূর্বল দিক দেখিয়ে দিয়ে গেলো। কোভিড রিপোর্ট জালিয়াতি এবং হয়রানিতে একদিকে যেমন দেশে কোভিড নিয়ন্ত্রণে আমরা হিমশিম খাচ্ছি, অন্যদিকে বিদেশে আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে । জেকেজি ও রিজেন্ট দ্বারা প্রতারিত হয়েছে বলে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বীকার করে নিয়েছে। সাহেদ কাহিনী লব্ধ দুর্বল দিকগুলোর দিকে এখনই দৃষ্টিপাত না করলে সবাইকে আবারো বোকা বানিয়ে অন্য কোনো সুযোগ সন্ধানী আরো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে।

এক, সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়ানো সাহেদের ছবি দেখে মনে হচ্ছে কার সাথে তার ছবি নাই? সব জায়গাতেই সে পৌঁছে গেছে। সরকার প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে বর্তমান মন্ত্রী, সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর প্রধান, সাংবাদিক, সরকারি দলের বড়নেতা, মাঝারিনেতা, ছোটনেতা এমনকি সাবেক বিরোধী দল বিএনপির নেতারাও রয়েছেন। রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের কাছাকাছি যারা যান, তাদের প্রতি নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ এই সাহেদই আমাদের দিয়ে গেলো।

দুই, সরকার দলীয় নেতারাই বলছেন, সাহেদ এক সময় হাওয়া ভবনের লোক ছিল। হাওয়া ভবনের লোক সহজেই যদি দল বা সরকারের বিভিন্ন স্তরে পৌঁছে যায়, দলকে ব্যবহার করে কাজ বাগিয়ে নেয়, স্বার্থসিদ্ধি করে, কোনো পদে না থেকে দলের উপকমিটির সভায় উপস্থিত থাকে তবে সেটা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুযোগসন্ধানীদের দলে অনুপ্রবেশ বন্ধে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে গেলো সাহেদ।

তিন, সাহেদ নিয়মিতই টক শোতে অংশ নিতো। দেশের টিভি চ্যানেলগুলোর টক্ শোতে অংশ নেয়ার জন্য কোনো নীতিমালা নেই। যে কেউ যে কোনো বিষয়ের ওপর আলোকপাত করতে পারে। অংশগ্রহণকারীর পরিচিতি বা জীবনবৃত্তান্ত যাচাই বাছাই এর কোনো ব্যবস্থা নেই। এ বিষয়গুলো ভাববার তাগিদ দিয়ে গেলো সাহেদ।

চার, সাহেদ নাকি একটি পত্রিকার সম্পাদক। শুনেছি তার নামে অনেক প্রতারণার মামলা রয়েছে। জেলও খেটেছে। পত্রিকায় দেখেছি শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। তারপরও সে সম্পাদক। তথ্য মন্ত্রণালয়ের এ বিভাগকে আরো কার্যকর করার বার্তা দিয়ে গেলো সাহেদ।

পাচ, গত ছয় বছরে রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখারই লাইসেন্স নাই। সাহেদ আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে গেলো, হাসপাতালের ব্যবসা করার জন্য কোনো অনুমোদন লাগে না। এমনকি অনুমোদনহীন হাসপাতালের সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চুক্তি করতেও কোনো বাধা নেই। এইমাত্র একটি অনলাইন দৈনিকে দেখলাম, দেশের দুই তৃতীয়াংশ বেসরকারি হাসপাতাল লাইসেন্স নবায়ন করে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখাকে তৎপর হবার বার্তা দিয়ে গেলো সাহেদ।

ছয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, দেশে মার্চ মাসে যখন ‘আকস্মিকভাবে’ কোভিড সংক্রমণ বৃদ্ধি পায় তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে। কোভিড-১৯ দেশে আকস্মিকভাবে আসেনি। ২/৩ মাস আগেই জানান দিয়েই এসেছে। সংক্রমণ শুরু হবার পর তাড়াহুড়ো করতে যেয়ে ‘বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে’ রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে সমঝোতা স্মারক সই করে। অথচ বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সাথে সমঝোতা করার দরকার ছিল আরো দু এক মাস আগে যখন আমরা ‘অলরেডি রেডি’ বলে তৃপ্ত ছিলাম। সময়ের কাজ সময়ে করার বার্তা দিয়ে গেলো সাহেদ।

এসব অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান বা প্রতিফলিত শিক্ষা থেকে যদি আমরা কিছু শিক্ষা নিতে পারি তবেই আমাদের ভবিষ্যত কর্মকান্ড মসৃন হবে । আসুন, সাহেদ করিম বা রিজেন্ট হাসপাতালের কোনো বিচার হোক বা না হোক, সাহেদ উপাখ্যান থেকে আমরা কিছু শিখি। লেখকঃ চিকিৎসক, কলামিস্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত