প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাকন রেজা: সাহেদদের তৈরি-প্রক্রিয়া, ব্যাকফায়ারের কালি ও কলঙ্কিত মুখ

কাকন রেজা: সাহেদ প্রক্রিয়াটি ব্যাকফায়ার করেছে। সাহেদের আগে করোনাকালের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে ‘একটা কিছু কর’ প্রকল্পের আওতায় আরিফ নামে একজনকে ধরা হলো। তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি প্রতিষ্ঠান খুলেছিলেন। বলা বাহুল্য ঠকবাজ প্রতিষ্ঠান। করোনা পরীক্ষা না করেই সার্টিফিকেট দিয়ে যাচ্ছিলেন। আরিফের স্ত্রী একজন চিকিৎসক এবং যথেষ্ট প্রভাবশালী। প্রভাবশালী বললাম এই জন্য যে, সাহেদের মতন না হলেও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট মানুষের সাথে তার ছবি রয়েছে। তবে আরিফের খবরটি খুব জমে উঠেনি। গণমাধ্যম ও মানুষের মধ্যে খুব একটা আলোচনা হয়নি এই বলে যে, ‘দেখেছো কতো ভালো একটা কাজ হয়েছে।’ সাহেদের ‘টকশো’র ভাষায় বলা হয়নি, ‘কাউকে ছাড়া হবে না।’

তবে সাহেদের বিষয়টি জমে উঠেছিলো। দুই হাসপাতালের মালিককে যদি বাংলা একাডেমির ‘গোরু’ বানানো যায়, তবে এই সময়ে জমবে ভালো, এই ভেবেই মিডিয়া বিষয়টি লুফে নিয়েছিলো। কিন্তু ঝামেলাটা বাধিয়েছে সাহেদের ফটোর সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা। এতোজনের সাথে তার ফটো রয়েছে তা ভেবে উঠতে পারেনি ‘প্রপাগান্ডিস্ট’রা। রাজনীতিবিদদের সাথে ছবি থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়। তারা অনেক সময় না বুঝেও ছবি তুলে ফেলেন। তাদের তুলতে হয় বলে। তাদের বোঝায় ভুল হয়ে যায়। ওই যে, হুমায়ুন আজাদ যেমন শামসুর রাহমান সম্পর্কে তার প্রবচনে বলেছিলেন, ‘শামসুর রাহমান বোঝেন না কার সঙ্গে পর্দায়, আর কার সঙ্গে শয্যায় যেতে হয়’ তেমনি আর কী। সুতরাং রাজনীতিবিদদের বিষয়টি নয় পাশ কাটানো যেতো, কিন্তু মিডিয়ার ‘বিগম্যান’দের সাথেও সাহেদের ফটোও নেহাত কম নয়, ঝামেলাটা সেখানেই। ট্রেনতো গতি পেয়ে গেছে, থামানো সম্ভব নয়। এই অসম্ভবের পথে এখন নানাজনের ছবি বেড়িয়ে আসছে সাহেদের সংগ্রহশালা থেকে। তাই অনেকে বলেন, ব্যাকফায়ারের ধাক্কাটা এবার জায়গামতো লেগেছে।

‘ইতালি ক্র্যাকস ডাউন অন বাংলাদেশ অ্যামিড ভাইরাস কনসার্নস’, এটা একটা খবরের শিরোনাম। করেছে খবরের সংস্থা এপি। এমন শিরোনামের পর ব্যাকফায়ারের ব্যাপকতা বোঝাতে বোধহয় বেশি কিছুর দরকার হয় না। ইতালিতে বাংলাদেশিরা আপাত নিষিদ্ধ হয়েছেন। তারা ইতালিতে ফিরতে বা যেতে পারছেন না। ইতালির পত্রিকাগুলোতেও বিশাল শিরোনামে প্রধান খবর হয়েছে বাংলাদেশের ভুয়া করোনা পরীক্ষার সনদপত্র নিয়ে। বাংলাদেশিদের বহনকারী বিমানকে ভাইরাসবাহী বোমার সাথে তুলনা করা হয়েছে। বাংলাদেশিদের জন্য ইউরোপের শেনজেন ভিসা বন্ধ। ক্রমশ বাইরের দরোজাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরচেয়ে বেশি ব্যাকফায়ার কী হতে পারে, আমাদের ‘প্রপাগান্ডিস্ট’রা কি বিষয়টি অনুধাবন করতে পেরেছেন?

‘একটা কিছু কর’ ধরনের প্রকল্পে ‘একটা কিছু করা হয়েছে’ এমন প্রচারণায় যারা ব্যস্ত হয়ে উঠেন, তাদের জন্য সাহেদের প্রচারণার উল্টো ধাক্কাটি একটি ‘লেসন’। সুতরাং প্রচারণা বাদ দিয়ে প্রচার করতে শুরু করুন। আসল কথা বলুন। সাহেদ তো একটা প্রডাক্ট। সুতরাং প্রডাক্ট নিয়ে না মেতে মেশিনারি’র কথা বলুন। সাহেদদের তৈরি-প্রক্রিয়ার কথা বলুন। ফোকাসটা সেখানে হোক। তাহলে হয়তো আখেরে ব্যাকফায়ারের কালি হতে নিজেদের কলঙ্কিত মুখটা বাঁচবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত