প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আহমেদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের হওয়ায়, তিন দিন বয়সের শিশুর লাশ উত্তোলন করে রাস্তায় ফেলে দিল উগ্রপন্থীরা

বিপ্লব বিশ্বাস: [২]আহমদীয়া মুসলিম জামাতের তিনদিন বয়সের এক শিশুর লাশ স্থানীয় সরকারী কবরস্থানে দাফন করার পর। উগ্রপন্থীরা কবর থেকে সেই লাশ উত্তোলন করে রাস্তায় ফেলে দেয়া। এরপর সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগে ভাইরাল হয়।

[৩] খুজ নিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘাটুরা গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঘাটুরায় সরকারী জায়গায় কবরস্থান হওয়ায় আহমদী মুসলিম ও সুন্নী মুসলিমরা এতদিন গোরস্তানের চিহ্নিত দুই অংশ লাশ মাটি দিয়ে আসছিল। এতোদিন ঘটেনি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। লাশ কবর দেয়া নিয়ে আহমদী ফেরকার মুসলমানদের মধ্যে কোনো বিরোধ ও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করোনা পরিস্থিতিতে শিশুর লাশটি কবর দেয়া নিয়ে আহমদী বিরোধীতার সূত্রপাত ঘটে।

[৪] জানা যায়, মৃত্যুবরণকারী শিশুটি আহমদীয়া জামাতের সদস্য মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কন্যা। শিশুটির বয়স মাত্র ৩দিন। সকাল ৮টার দিকে ঘাটুরা সরকারী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। লাশ দাফন করার পর পরই গ্রামে এক শ্রেণীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মাইকিং করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয় এবং আহমদী শিশুর লাশ কবর থেকে তুলে ফেলে দেয়।

[৪]আহমদী বিরোধীদের অভিযোগ হলো আহমদী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা কাদিয়ানী। তারা মুসলমান নয়। তাই সরকারী গোরস্তানে আহমদীদের মৃত লাশ কবর দিতে দেয়া হবে না। এভাবে আহমদী বিরোধী উত্তেজনা ছড়িয়ে উগ্রপন্থী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী একত্রে জড়ো হয়। এরপর জোরপূর্বক কবর থেকে শিশুর লাশ তুলে ফেলে । অথচ এই শিশুর অনেক আত্মীয় স্বজনেরই কবর এই সরকারী কবর স্থানে রয়েছে।

[৫]পরবর্তীতে সেই লাশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে আহমদীয়াদের নিজস্ব কবরস্থানে দাফন করা হয়। যদিও শত বছর ধরে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যরা ঘাটুরার এই সরকারী কবরস্থানে লাশ দাফন করে আসছিল। কিন্তু এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় অনেকেই বিস্মিত হন।

অনেকেই প্রশ্ম তুলেন,একটি শিশু যখন জন্মগ্রহণ করে তখন সে থাকে নিষ্পাপ, সে হয় পবিত্রতার প্রতীক। তার লাশ উত্তলণ করা মানবধিকার পরিপন্থী।

সর্বাধিক পঠিত