প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আসাদুজ্জামান রিপন: দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর সমন্বয়হীনতার বেড়াজালে করোনা পরীক্ষা

ড. আসাদুজ্জামান রিপন: ভুয়া করোনাভাইরাস রিপোর্ট নিয়ে ভ্রমণের দায়ে ইতালি থেকে বাংলাদেশী যাত্রীদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। এর আগে একই অভিযোগে জাপানসহ বেশ কিছু দেশ বাংলাদেশের সাথে বিমান যোগাযোগ বিছিন্ন করেছে। কেলেঙ্কারির এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জায়গা পেয়েছে বেশ গুরুত্ব সহকারেই। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের সার্বিক ভাবমূর্তির ওপর। যা রীতিমতো চিন্তার বিষয় এবং যুগপৎভাবে একজন নাগরিক হিসেবে লজ্জারও। এছাড়াও বিদেশে আমাদের শ্রমবাজারে এর ধাক্কা লাগার শংকা থাকবে। অভিবাসন সহ আমাদের দেশের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পর্যটকদের বিদেশ ভ্রমণের বেলায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফলাফল সন্দেহের চোখে দেখবে বিদেশি রাস্ট্রগুলো। এমন অবস্থা চলতে থাকলে বাংলাদেশের সাথে সকল আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। আর রাস্ট্র হিসেবে, রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যবস্হার মর্যাদা কোথায় নেমেছে ভাবতে পারেন?

এখন প্রশ্ন উঠবেই কেন এমন অবস্থা সৃষ্টি হলো? ভূয়া ও মানহীন করোনাভাইরাস রিপোর্ট? তা হলে এর জন্য দায়ী কারা?
এ প্রেক্ষিতে কিছু কারণ অন্তত চিন্হিত করা যায়, যাতে ভবিষ্যতে শোধরাবার চেস্টা কেউ যদি করে। কারণগুলো হলোঃ
১.নিজস্ব আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি না থাকার পরও কিছু কথিথ হাসপাতাল/ ক্লিনিক ও প্রতিষ্ঠান করোনাভাইরাস টেস্ট করার অনুমতি পেয়েছে ( যেমন প্রতারক আওয়ামী লীগ নেতা শাহেদ, ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী দম্পতির ভূয়া ফার্ম জেকেজে কোম্পানি সহ আরো কিছু ভূঁইফোড় প্রতিষ্ঠান। যারা কোনো পরীক্ষা না করেই করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট বিক্রি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অন্যদের আনুকুল্যে এসব প্রতারক চক্র শাসক দলের সাথে নিজেদের সংশ্লিস্টতা দেখিয়ে মানুষের শংকা দুর্ভোগের সুযোগে নমুনা পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট দিয়ে দিয়েছে। মূলতঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহারথীদের আনুকুল্যেই এসব ঘটেছে। মহারথীগন আবার কেন এদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে তাতো বুঝতে কারো কস্ট হয়না।)

২. আবার যাদের আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরি আছে, তাদের কারুর কারুর প্রতিষ্ঠানের করোনাভাইরাস পরীক্ষায় প্রায় ৩০ শতাংশ রিপোর্ট ভুল হয়েছে বলে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা আছে।
করোনা পরীক্ষার নামে বাংলাদেশে যা হচ্ছে তা অকল্পনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।
কেননা আরটি-পিসিআর এই যন্ত্রটি করোনাভাইরাস টেস্টের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। তাহলে বাংলাদেশে এত ভুল রিপোর্ট কেন আসছে? সেটাওতো চিন্তা করতে পারতো সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।

এ প্রশ্নটি কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাথায় আসা উচিত ছিলো না?

মোদ্দা কথা হলো, ল্যাবরেটরি-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বলে যে একটা বিষয় আছে, তা বোধ হয় এরা ভুলেই গেছে। করোনা রিপোর্টে এত ভুলভাল, ব্যবস্হাপনায় এতো গলদ, যা আমাদের ল্যাবরেটরি-ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের দৈন্যদশা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো।

যেসব কারণে এ অবস্থা সৃস্টি হতে পারেঃ
(১.) উপযুক্ত ভাবে নমুনা সংগ্রহ না করে, সঠিক সময়ে ও সঠিক তাপমাত্রায় তা ল্যাবরেটরিতে পরিবহন না করলে, (২.) মানসম্পন্ন কিট ব্যবহার না করে পরীক্ষা করলে, (৩.) এসব কাজে প্রশিক্ষিত আর দক্ষ লোকবল কাজে না লাগালে,
(৪.) করোনা পরীক্ষার পদ্ধতি উপযুক্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে তদারকি না করা হলে, (৫.) এসব কিছুর পর টেস্টের ফলাফল যথাযথভাবে বিশ্লেষণ না করে পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি হলে- এরকম হযবরল অবস্হার সৃস্টি হয়।
★ প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট/ প্যারামেডিক্স এর অভাবঃ
এটা ঠিক, করোনা প্যানডেমিক অবস্থা যে জায়গায় গোটা পৃথিবীকে দাঁড় করিয়েছে, তা কারুরই ভাবার কথা নয়। কিন্তু বাংলাদেশ প্রস্তুতির সময় পেলেও অদূরদর্শীতা, বিচক্ষণতার অভাবে, এটাকে জনস্বাস্থ্যের সংকট হিসেবে শুরু থেকেই বিবেচনা না করার ফল জাতি হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
আমাদের দেশে আগে থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন জেলায় MATS( Medical Assistants Training School) ছিল হয়তো এখনো আছে। এর বাইরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মেডিকেল টেকনোলজি পড়ানোর জন্য অনেক বেসরকারি ইন্সটিটিউটকে অনুমতি দিয়েছে। এসব প্রতিস্ঠান থেকে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট / প্যারামেডিক্স বের হওয়ার কথা। এরা হাসপাতালগুলোতে প্রশিক্ষণ / ইন্টার্নশীপ করে নিজেদের ডিসিপ্লিনে অবদান রাখার কথা। এসব জায়গাতেও ভর্তি, আসন বরাদ্দ নিয়েও দুর্নীতি হয় বলে শুনেছি। টাকা ছাড়া কিছু হয়না নাকি! ফলে কোন মানের মেডিকয়াল টেকনোলজিস্ট/ প্যারামেডিক্স তৈরী হচ্ছে, তা এই সঙ্কটের সময় টের পাওয়া যাচ্ছে।
তাহলে পরবর্তী করনীয় কি?
ভবিষ্যতে ল্যাবরেটরী ম্যানেজমেন্ট, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট/ প্যারামেডিক্স এর মত বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করতে হবে। তার মানে অনেক টাকা ব্যয় নয়, দুরদর্শি ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়ে আগানো।
সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ উদার মনে চাইলে দেশ ও জনগনের স্বার্থে (বিনা সম্মানীতে)সহযোগিতা করতে রাজি আছি।

ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত