প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু: রেগুলার কোর্ট চালু করতে প্রতিটি বারকে উদ্যোগ নিতে হবে

অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবু: করোনাভাইরাস পৃথিবীর উপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিয়েছে। সেই ঝড় কোথায় কতটুকু প্রভাব ফেলেছে তার খোঁজ রাখিনি। তবে বাংলাদেশের নিম্ন আদালতে প্রাকটিস রত আইনজীবীদের উপর দিয়ে যে সুনামি বয়ে যাচ্ছে তা উপলব্ধি করতে পারছি। দীর্ঘ দিন ধরে প্রাকটিস করে সঞ্চিত মামলার ফাইল গুলোতে ধূলো জমতে শুরু করেছে। রেগুলার কোর্ট বন্ধ তাই আইনজীবীরা বাসায় অলস সময় পার করছে। কিছু উকিল সাহেবরা ভার্চুয়াল কোর্টে কিছু জামিন শুনানি করছে বটে তবে তা খুবই সীমিত। আইনজীবীদের আয়ের প্রধান উৎস মক্কেলের হাজিরা,পিটিশন শুনানি, সাক্ষী, জেরা, যুক্তিতর্ক শুনানি। এসব করে যা আয় হয় তা দিয়ে অনেক আইনজীবীর জীবন জীনিকা নির্বাহ হয়। রেগুলার কোর্ট বন্ধ থাকায় এই সমস্ত আইনজীবীরা চরম হতাশায় দিনযাপন করছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি মানুষ যাতে আর্থিক সংকটে না পড়ে সেজন্য সব কিছু সচল রেখেছেন। মিল কলকারখানা, গার্মেন্টস থেকে শুরু করে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছেন। বিভিন্ন সেক্টরে প্রনোদনা দিয়েছেন লক্ষ কোটি টাকা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গরুর হাট বসছে! শপিং মল খুলেছে,গন পরিবহন চলছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধু কোর্ট কাচারি খুলতে যত অসুবিধা। গরুর রাখাল স্বাস্থ্য বিধি মানতে জানে, গরুর খদ্দেরও জানে, গাড়ির হেলপার, ড্রাইভার স্বাস্থ্যবিধি জানে, জানেনা শুধু উকিল সাহেবরা। সরকার সবার কথা ভাবছে। কৃষক, সাংবাদিক, ডাক্তার,আমলা, খেটে খাওয়া মানুষ এমনকি যারা দেশের বাহিরে থাকে প্রবাসী কিন্তু ভাবছে না শুধু আইনজীবীদের কথা। আইনমন্ত্রী সংসদে বলেছেন আগামী সপ্তাহ থেকে সীমিত পরিসরে আদালত খোলা কিন্তু বাস্তবে ঘটল উল্টো। কোর্ট খুলার ব্যপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত নয়। কারন বিচার বিভাগ স্বাধীন এখানে সরকার হস্তক্ষেপ করতে পারেনা। আদালত চালু না বন্ধ থাকবে, একচুয়াল না ভার্চুয়াল হবে তার সিদ্ধান্ত নিবে মাননীয় প্রধান বিচারপতি। তিনি সকল জজ সাহেবদের অবিভাবক। জজ সাহেবগন ভার্চুয়ালে পরম শান্তি পেয়েছেন! এই আরাম তারা ত্যাগ করতে চায়না ফলে অবিভাবক হিসাবে প্রধান বিচারপতি তার অধিনস্ত জজ সাহেবদের আরাম ভংগ করে তাদের নিকট অপ্রিয় হতে চান না। স্বাস্থ্যবিধি মতে একজন মানুষ থেকে আরেক জনের দুরত্ব হতে হবে ছয় ফুট। জজ সাহেবগন যেখানে বসেন সেখান থেকে আইনজীবীদের শুনানির ডায়াচের দুরত্ব ছয় ফুটের অধিক তো কম না। তাহলে কেন তারা রেগুলার কোর্ট চায়না আমার তা বোধগম্য নয়। সম্ভবত তারা বছরের পর বছর বিচার পরিচালনা করতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তাছাড়া আরামবোধটাও পেয়ে বসেছে।

উকিল সাহেবদের প্রধানতম অবিভাবক বার কাউন্সিল তারা অজ্ঞাত কারনে নীরব। প্রতিটি বার সমিতির দায়িত্ব উকিলদের ভালমন্দ দেখার। এক্ষেত্রে এই সমিতি গুলোর আচারন দেখে মনে হচ্ছে আইনজীবীরা ভোট দিয়ে যোগ্য নেতা নির্বাচনে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে এই দূর্যোগে আইনজীবীদের দূর্যোগের শেষ নেই। আইনজীবীরা সারাজীবন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন। যেখানে মানবতা লঙ্ঘিত হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে সভা সমাবেশ করেছেন। কিন্তু আজ নিজে কাজ করে খাওয়ার অধিকার ফিরে পেতে আন্দোলন করতে হচ্ছে। অতি সম্প্রতি কিছু আইনজীবী সংগঠন সাধারণ আইনজীবীদের জীবীকা উপার্জনের পথ সুগম করতে সচেষ্ট ভুমিকা রাখছেন। আমিও ক্ষুদ্র পরিসরে চেষ্টা করছি। এই চেষ্টায় যে কাজ হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি তারপরও ফেসবুকে লিখছি বিভিন্ন জনকে বলছি। রেগুলার কোর্ট খুলার দাবিতে ফেসবুকে আইনজীবীরা যতটা সরব বাস্তবে ততটা না। তারা ভাবছে এসব করে কোন লাভ নেই। যারা নিজেদের অধিকার রক্ষায় যত্নবান নন তাদের হায় হুতাশ না করে ঘরে বসে স্ত্রী,ছেলেমেয়েদের সাথে লুডু খেলাই ভাল। তাতে অন্তত পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিনের সময় না দেওয়ার অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ মিলবে। কোর্ট খোলার ব্যপারে আইনজীবীদের এই নিরবতা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল। কেউ ভাবছেন কোর্ট খোলার দাবি করলে তা সরকারের বিরোধীতার পর্যায়ে পড়বে কিন্তু আমি তা মনে করি না। রেগুলার কোর্ট খোলা এখন সময়ের দাবি যেহেতু সব কিছু খোলা। সরকারকে বরং কেউ কেউ ভুল বুঝিয়ে আইনজীবীদের নিকট সরকারকে হেয় করছে। নবীন কিংবা সাধারণ আইনজীবীরা মাননীয় প্রধান বিচারপতি মহোদয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু তিনি আইনজীবীদের দুঃখ-কষ্ট কতটা উপলব্ধি করছেন আমি জানি না। আইনজীবীরা কষ্টে আছেন একথা চরম সত্য কিন্তু কে বলবে তাকে? মানিক বন্দোপাধ্যায়ের একটি সুন্দর উক্তি এরকম `ঈশ্বর থাকেন ভদ্র পল্লীতে এখানে তাহাকে খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আমাদের আবেদন নিবেদন কি তাহার নিকট পৌছাবে? নিম্ন আদালতের উকিল সাহেবদের ভাগ্য অনিশ্চয়তার সূতায় ঝুলছে। এভাবে চলতে থাকলে অনেকেই তার প্রিয় পেশা থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হবে। বার সমিতির নেতাদের উদ্যোগে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে। সমস্ত বার প্রধান বিচারপ্রতি ও আইনমন্ত্রীকে বোঝালে তারা নিশ্চয় বুঝবে। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট বার এবং ঢাকা বার সাহসী ভুমিকা নিতে পারে। আইনজীবীরা তাদের নিকট এমন প্রতাশা করে বৈকি।

লেখক – আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত