প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সংসদে গভর্নরের চাকরির বয়স বৃদ্ধি করে বিল পাস

মনিরুল  ইসলাম:  [২] বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণরের বয়স দুই বছর বাড়িয়ে জাতীয় সংসদে বিল পাস করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে অর্থমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে পরিকল্পনা মন্ত্রী আবদুল মান্নান ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অ্যাক্ট-২০২০’ নামে বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা ১১ টা ৩৩ মিনিটে  কণ্ঠভোটে পাস হয়।

[৩] স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপি’র সদস্যরা জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। ওই প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, রওশন আরা মান্নান ও পীর ফজলুর রহমান এবং বিএনপি’র মো. হারুনুর রশীদ।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলীয় সদস্যরা বলেন, সরকার একজন বিশেষ ব্যক্তিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর পদে রাখতে এই বিল আনা হয়েছে।

[৪] জবাবে বিল পাসের আগে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তার বক্তব্যে বলেন, কোন ব্যক্তির জন্য এই বিলটি আনা হয়নি। গভর্নর পদের জন্যই আনা হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও আমেরিকায় গভর্নর পদে কোন বয়সসীমা নেই। ‘৭২ সালের পর এবারই এ পদের বয়সসীমা বাড়ানোর বিল আনা হলো।

[৫] পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমাদের অর্থ ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় স্তম্ভ। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে অর্থনীতির পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের বিশাল ব্যাপ্তি তার সঙ্গে তুলনা করে সকল ক্ষেত্রেই পরিবর্তন করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের পূর্বের গভর্ণর যারা ছিলেন, তারা সকলেই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ ছিলেন। এমনকি সরকারি কর্মচারীদের আগে বয়স ছিল ৫৭ বছর। আমরা যখন চাকরি করতাম তখন ৫৭ ছিল। এখন সরকার পরিবর্তন করে বাড়ানো হয়েছে। বিচারপতিগণের ৬৭ বছর পর্যন্ত উপভোগ করছেন। সুতরাং সময়ের পরিবর্তনে স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে। অনেক বেশি নতুন নিয়ম কানুন আসছে। এটার সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করতে গিয়ে আইন কানুন পরিবর্তন করতে হয়। তিনি আরো বলেন, গভর্ণরের বয়স বাড়ানো কোন ব্যক্তির বিষয় না। এখন থেকে যারা গভর্ণর হবেন, এই সংসদ পুনরায় পরিবর্তন না করা পর্যন্ত এই ৬৭ বছর থাকবে।

[৬] পাস হওয়া বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ১৯৭২ এর আর্টিকেল ১০ এর (৫) এর শর্তাংশ অনুযায়ী গভণর্রের কার্যকাল বা মেয়াদ ৪ বছর এবং তাকে পুন:নিয়োগ করা যাইবে। তবে, উক্ত ক্লোজ (৫) এ উল্লেখ রয়েছে যে ৬৫ বছর বয়স পূর্তির পর কোন ব্যক্তি গভর্ণর পদে আসীন থাকিতে পারিবে না। আরো বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের রাজস্ব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কার্যকর মুদ্রনীতি প্রণয়ন, মুদ্রা সরবরাহ ও ব্যাংকের ঋণ সরবরাহ ও ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ মুদ্রামান-সংরক্ষণ, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের সঙ্গে সমন্বয় সাধন প্রভৃতি বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশের সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যকর ও উন্নতর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাই উক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রাজ্ঞতা, বিচক্ষণতা কর্মদক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ববাচক গুণাবলি প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যের মূল নিয়ামক শক্তি বিবেচনায় উক্ত পদে যোগ্য ও উপযুক্ত ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অপেক্ষা অধিকতর বয়সে নিয়োগের সুযোগ রাখা কিংবা প্রয়োজনবোধে উক্ত পদে সমাসীন ব্যক্তিকে বিদ্যমান বয়সসীমা অতিক্রমণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা অনুসারে পুনর্নিয়োগ প্রদান কিংবা উক্ত ব্যক্তির নিয়োগের নিরবচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা বজায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সমীচীন। তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ বছরের স্থলে ৬৭ বছর নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত