প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি এম কামরুল হাসান : এক প্রবাসীর ভাবনা, মাতালের কথোপকথন

সবকিছু দেখেশুনে আর সহ্য হচ্ছে না। অস্থির লাগছে । বন্ধুরা বলে, বিদেশে আছো। ভালোই আছো। একটা সেফ জোনে আছো। দেশ নিয়ে চিন্তা করে মাথা নষ্ট কোরো না। নিশ্চিন্তে থাকো । কেমনে থাকি ? দেশটা তো আমারও। বৃদ্ধা মা আছে দেশে। আছে বৃদ্ধা শাশুড়ি। ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধব, অন্যান্য আত্মীয় স্বজনতো আছেই। আছে রাস্তার পরিচিত গন্ধ, ট্রাফিক জ্যামে বসে ফেসবুকিং, অসময়ে যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, মেট্রো রেলের বিশাল কর্মযজ্ঞ। এসব না দেখলে কি আর মন ভরে ? দেশে গেছিলাম গত বছর কোরবানির ঈদে। প্রতি বছর এ সময় যাই, চেষ্টা করি যেতে। বাচ্চাদের স্কুল ছুটি থাকে বছরের এ সময়টাতে। আপাতত দেশে যাবার পথ বন্ধ। কারণ, কোভিড মহামারী । এদেশে বসবাসরতদের বিদেশ যাওয়ায় রয়েছে এখনো নিষেধাজ্ঞা। সহসা হয়তো এ আজ্ঞা উঠে যাবে। কিন্তু উড়ে যাবার জাহাজ ? ঢাকা যাবার উড়ো রাস্তা বন্ধ। বন্ধ মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুর থেকে। এ দু দেশের সিভিল এভিয়েশন এখনো অনুমতি দেয়নি। সেও হয়তো চালু হবে দু এক মাসে। তারপর ঢাকা যেয়ে দু সপ্তাহের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন। এ দেশে ফিরে আবার কোয়ারেন্টাইন। তাহলে কি দাঁড়ালো ? এক মাস তো পথেই।

এত ঝক্কি ঝামেলা পেরিয়ে দেশে না হয় গেলাম। কোভিড আক্রান্ত হলাম কিনা কেমনে বুঝবো ? স্যাম্পল দিলে ওটা যে মেশিনে ঢুকলো কিনা, তা জানার উপায় নেই। কোনটা জেকেজি’র মতো আর কোনটা তাদের মতো না -সেটা কিভাবে বুঝবো ? কর্তাব্যক্তিরা হাসপাতাল পরিদর্শনে না গেলেও জেকেজি পরিদর্শনে যান। এসব ছবি বা ভিডিও যখন দেখি, তখন এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে আমাদের বিশ্বাসের মাত্রা বেড়ে যায়। রিপোর্ট পজিটিভ বা নেগেটিভ – যাই হোক – সেটা যে সত্যি তা জানবার রাস্তা কি কারো জানা আছে ? সত্যি সত্যি কোভিড আক্রান্ত হলে কোথায় যাবো ? কোনটা রিজেন্ট হাসপাতালের মতো, কোনটা সেরকম না – কিভাবে বুঝবো ? মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের উপস্থিতিতে স্বারক স্বাক্ষর হলেও ওই হাসপাতালের নাম যে সরকারি খাতায় নেই, অনুমোদনহীন, কেমনে বুঝবো ? এতসব প্রশ্ন যখন মাথায় আসে তখন সত্যি বিষন্নতায় ভুগি।

জেকেজি কেলেঙ্কারি, রিজেন্ট কেলেঙ্কারি- এসব হয়তো বিশ্ববাসী জানে না। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভাইরাসবাহী বিমান ইতালি যাবার পর তারা ঢাকা-রোম ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজের আরেকটি ফ্লাইট ইতালি যাওয়া ১২৪ বাংলাদেশিকে তো উড়োজাহাজ থেকে নামতেই দিলো না। কি এক বিব্রতকর অবস্থা । অপমাজনকও বটে । আমাদের মানসম্মানের আর কি বাকি রইলো ? এরপর হয়তো আরো অনেক দেশ ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিবে। নিষেধাজ্ঞা তুলতে হয়তো আরো অনেক সময় নিবে। তাহলে কবে দেশে যাবো ? মনে হচ্ছে, রোম কাহিনী আমাদের দেশে যাওয়া আরো পিছিয়ে দিলো। উড়োজাহাজে উঠার আগে কারা এদের স্যাম্পল টেস্ট করেছিল ? জেকেজি, রিজেন্ট নাকি অন্য কেউ ? কিভাবে এতো কোভিড আক্রান্ত মানুষ দেশান্তরী হলো । খতিয়ে দেখুন। আমাদের ইজ্জত রক্ষা করুন।

দুর্নীতি কখনোই সমর্থন যোগ্য নয়। আর মহামারীকালে দুর্নীতি ? মানুষের জীবন নিয়ে দুর্নীতি ? ভাবাই যায় না। বেঁচে থাকাটাই যেখানে এ বছরের সেরা চ্যালেঞ্জ, সেখানে জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা গর্হিত অপরাধ, অমার্জনীয় অপরাধ। দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে এসব অপরাধের বিচার না করলে এসব দুর্নীতি, অপকীর্তি চলমান থাকবে। কোভিডকালে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে, মানুষ অন্যের অপকীর্তির দায়ে মারা যাবে। বিচারের জন্য অপরাধের প্রমান বা clue অত্যাবশ্যক। কিন্তু সেই clue এর জন্য কত দেরি গ্রহণযোগ্য ? এ প্রসঙ্গে দুই মাতালের কথোপকথন দিয়ে আজকের লেখা শেষ করবো।

প্রথম মাতাল: তুই যদি বলতে পারিস যে আমার ব্যাগে কি আছে তাহলে এই ব্যাগের সবগুলো ডিম তোর। আর যদি বলতে পারিস কটা ডিম আছে তাহলে দশটা ডিমের দশটাই তোর। আর যদি বলতে পারিস ডিমগুলো কিসের তবে ডিম পাড়া মুরগিটাও তোর। দ্বিতীয় মাতাল: ভাই, কোন clue দেয়া যাবে ?

লেখকঃ ব্রুনেই প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত