প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]ওয়ারি লকডাউন: নানা অজুহাতে বাসিন্দাদের বের হওয়ার চেষ্টা, তৎপর পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক

সুজন কৈরী : [২] রেড জোন চিহ্নিত হওয়া রাজধানীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয় দিনের মতো রোববার লকডাউন চলছে। লকডাউনের নিয়ম অনুযায়ী এলাকা থেকে প্রবেশ-বাহিরে কড়াকড়ি থাকলেও বাসিন্দাদের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যাঙ্কারসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর লোকজন কেউ কেউ নানা অজুহাতে তা করছেন। খাতায় নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করে বা দায়িত্বরতদের অনুরোধ করে তারা বের হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ব্যক্তি সরকারের ‘উচ্চ পদস্থ’ কর্মকর্তার পরিচয়ে হুমকি দিয়ে বের হচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্বেচ্ছাসেবীদের।

[৩] তবে তৎপর রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকরা। যারা বিশেষ কাজে বের হচ্ছেন তাদের খাতায় এন্ট্রি করিয়ে বের হতে দিচ্ছেন তারা।

[৪] রোববার ওই ওয়ার্ড ঘুরে সকাল থেকেই খোলা দুটি প্রবেশপথে একসঙ্গে অনেককে বের হতে এবং জটলা করতে দেখা গেছে। স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের লাইনে দাঁড করিয়ে খাতায় নাম-ঠিকানা লিপিবব্ধ করে একে একে বের হতে বললেও অনেকেই মানতে চাচ্ছেন না ওই নিয়মও। কিন্তু এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই লকডাউন মানছেন এবং বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতাও করছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বেচ্ছাসেবকরা এলাকাবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে কিছুক্ষণ পরপর মাইকিং করছেন।

[৫] স্বেচ্ছাসেবকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে এলাকাকে সুরক্ষিত রাখা ও বাসিন্দাদের নিরাপদ রাখতেই তাদের এই তৎপরতা।

[৬] তাসফিয়া নামের এলাকার বাসিন্দা ও আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, লকডাউন আমাদের ভালোর জন্যই। কিন্তু হঠাৎ ব্যাংকের জরুরি একটা কাজ পড়ে গেছে। যেটা অন্য একজনকে বুঝিয়ে দিয়ে আসতে হবে। এজন্য বের হওয়া জরুরি।

[৭] ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৪১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেন আলো বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা যারা আছেন খুব জরুরি কাজ না থাকলে বের হতে পারবেন না। সরকারি বা বেসরকারি কর্মকর্তা হোক, আসলে কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকেই আইন মানতে হবে। সবাইকেই লকডাউন মানতে হবে। দুই একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও প্রথমদিনের তুলনায় রোববারের অবস্থা অনেক ভালো। এলাকাবাসীও যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। তবে কেউ কেউ বুঝতে চান না। এধরনের পরিস্থিতিতে তারা এর আগে কখনো পড়েনি। এজন্যই হয়তো এমন হচ্ছে। তবে আমাদের পক্ষ থেকে তাদেরকেও বুঝিয়ে-শুনিয়ে বাসায় থাকতে বলা হচ্ছে।

[৮] তিনি বলেন, ঘরে থাকা ও অপ্রয়োজনে বের না হওয়াসহ এলকাবাসীকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে সার্বক্ষণিক মাইকিং করা হচ্ছে। জরুরি কাজে নিয়োজিতদের প্রবেশ-বাহিরে কড়াকড়ি শিথিল রয়েছে। যাদের ঘরে খাবার নেই, ফোন দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন। কোনো বাসিন্দা কোনো পণ্যসামগ্রী চেয়ে হটলাইন নম্বরে ফোন দিলে তার বাসায় চাহিদা অনুযায়ী পণ্য পৌঁছে দেয়া হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। চিকিৎসাসহ রোগী বহণের জন্য সার্বক্ষণিক এ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। শনিবার রাতেও একজন রোগীকে এ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কেউ মারা গেলে দাফনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

[৯] হট কেট গলিতে কর্তব্যরত ওয়ারী থানার সাব-ইন্সপেক্টর সুকান্ত বলেন, লকডাউন এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা যেন না হয়, সে বিষয়টি আমরা তদারকি করছি। নির্দেশনা অনুযায়ী এলাকা থেকে জরুরি সেবা দানকারী কর্মীরা বের হতে পারবেন আর বিশেষ বিবেচনায় বিভিন্ন রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখানোর পর বের বা প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত