প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিদ্যুতায়নে বন বিভাগের বাঁধা: কমলগঞ্জে কালেঞ্জী পুঞ্জিসহ গ্রামবাসীর মানববন্ধন

হৃদয় ইসলাম, মৌলভীবাজার: [২] মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা করেছিলেন। তবে বনবিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগের রশি টানাটানিতে শতভাগ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হতে পারেনি কমলগঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকায় কালেঞ্জী খাসিয়াপুঞ্জি ও পুঞ্জির বাহিরের কালেঞ্জী গ্রাম। নতুন করে কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হলে শনিবার দুপুর ১২টায় কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জির প্রবেশপথে পুঞ্জি ও গ্রামের নারী পুরুষ মিলে দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

[৩] পুঞ্জির হেডম্যান রিটেঙেন খেরিয়াম-এর সভাপত্বিতে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, পুঞ্জির সহকারী হেডম্যান উয়াংবর সুটিং ,সাবেক হেডম্যান নাইট খেরিয়েম, সামায়েল খেরিয়াম প্রমুখ।

[৪] এ সময় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুয়ায়িত ঘোষনা করা হলে ও আমরা কমলগঞ্জের বাসিন্দার বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। তাই অতিশীগ্রই আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার দাবী জানাচ্ছি। অন্যতায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।

[৫] আদমপুর ইউপির চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও তার সাথের গ্রাম বিদ্যুতায়নের আওতায় আসতে হবে। গত মার্চ মাসে বনবিভাগ সর্ব শেষ সরেজমিন তদন্ত করেছে। শনিবার বিদ্যুৎ বিভাগ আবার কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও সাথের গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করলে বনবিভাগ বাঁধা সৃষ্টি করে। যাহা সম্পূর্ণরুপে অযোক্তিক।

[৬] তিনি আরো বলেন, বনাঞ্চলে অন্যান্য খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও কেন বন বিভাগ কালেঞ্জী পুঞ্জিতে বাঁধা সৃষ্টি করছে তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

[৭] আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় বলেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জিও গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য ইতিপূর্বে বন বিভাগ একটি জরিপ সম্পন্ন করলে বিদ্যুতায়ন কাজ শুরুর করার সম্পর্কে তার কাছে বন বিভাগের কোন নির্দেশনা আসেনি। তাই তিনি আপাতত কাজটি বন্ধ রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছেন।

[৮] কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কমলগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত হলেও কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও একটি গ্রাম বিদ্যুৎ সুবিধার বাহিরে রয়েছে। বন বিভাগের বাঁধা তা হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

[৯] মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কালেঞ্জী খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জী গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজনও খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বনবিভাগের আপত্তির কারণে এ দুটি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত