প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কামরুল হাসান মামুন : কোভিড-১৯ নিয়ে, জীবন ও জীবিকার নামেও আমাদের বাণিজ্য

কামরুল হাসান মামুন : জেকেজি নামে প্রতিষ্ঠান ওভারনাইট বিখ্যাত হয়ে গেলো। তাদের কথা প্রথম শুনলাম একাত্তর চ্যানেলে। এই চ্যানেলের মধ্যরাতের এক প্রোগ্রামে দেখি রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুইপক্ষের দুইজনকে ডাকা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ছিল যে তারা করোনা চিকিৎসার নামে ক্যাম্পাসের কিছু অংশ দখল করে রাত বিরাতে পার্টি করে, গেইটের দারোয়ানকে মারধোর ও বেপরোয়া চলাফেরা। সেখানে জেকেজির পক্ষে এক সুন্দরী নারীকে ডাকা হয়েছে যিনি পেশায় একজন ডাক্তার এবং জেকেজির ডিরেক্টরের স্ত্রী। তখন একাত্তর চ্যানেল তাদের স্বাভাবসুলভ ভঙ্গিতেই এমনভাবে তিতুমীর কলেজের শিক্ষককে জেরা করছিলেন যেন কলেজ কর্তৃপক্ষ সমাজের প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রতিনিধিত্ব করছে আর জেকেজি এই করোনার প্যান্ডেমিকে মানবতার কাজে নিয়োজিত। কেন একাত্তর চ্যানেল এই কাজটি করলো? কারণ তাদের ধারণা ছিল জেকেজি কর্ণধার খ্যাত স্বামী-স্ত্রী আওয়ামী লীগের খুব কাছের। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সাথে মহররম-মহররম আছে এবং আছে অনেক মন্ত্রীর ব্লেসিংস।

অথচ আজ জানি জেকেজি কে? আমাদের দেশে করোনা পরিস্থিতি যখন খারাপ হতে লাগলো ঠিক তখন জেকেজি নামক একটা ক্লিনিক সরকারের কাছে আবেদন করে, তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগীর নমুনা সংগ্রহ করবে; ল্যাবরেটরিতে টেস্ট হবে। টেস্টের রেজাল্ট তারা জানিয়ে দেবে রোগী বা তার পরিবারকে। সরকার সরল বিশ্বাসে তাদের অনুমতি দেয়। শুধু তাই না তারা পিপিই ও মাস্কের জন্যও আবেদন করে। যখন কেউ পিপিই পায় না তারা দ্রুততার সাথে পেলো এবং পরিমানে অনেক পেলো। তারা প্রতিদিন ৩০০-৪০০ নমুনা সংগ্রহ করে। প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ হাজার থেকে আট হাজার টাকা নেয়। তারপর নমুনাগুলো এক দম্পতি ফেলে দেয়। তারপর নকল লেটারহেড প্যাডে রিপোর্ট বানায়। ইচ্ছা হলে লেখে পজিটিভ। ইচ্ছা হলে লেখে নেগেটিভ। প্রতিদিন তারা ১৫ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা আয় করে। পুরোটাই প্রতারণা।

একটু ভেবে দেখুন তারা একেকটা পরিবারে কী দুর্ভোগ তারা নামায়। যার হয়তো করোনা ছিলো না, তাকে তারা দিচ্ছে করোনা পজেটিভ। পুরো পরিবার কাঁদছে। হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ফিরছে। আর যার পজেটিভ, তাকে তারা দিচ্ছে নেগেটিভ। সেই রোগী তখন সবার সঙ্গে মিশছে। শিশুর সঙ্গে, বৃদ্ধের সঙ্গে। সে হয়তো বিনা চিকিৎসায় বা ভুল চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে। আর সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমিত করছে কতজনকে। এর চেয়ে প্রাণঘাতী প্রতারণা পৃথিবীতে আর কেউ কোনো দিনও কি করেছে? করোনার প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে সরকারের কাছের লোকজন নেমে গেলো পিপিই ও মাস্ক আমদানির ব্যবসায়। নিম্নমানের পিপিই ও মাস্ক বেশি দামে সরবরাহ করে দেশে এক অবর্ণননীয় ক্ষতি করেছে। দেশে যে বিপুল সংখ্যক স্বাস্থ্যকর্মী মারা গেলো তার দায় এইসব নকল পিপিই ও মাস্কের এবং এর সাথে জড়িত সকলের। করোনা নিয়েও জীবন ও জীবিকার নামে আমাদের বাণিজ্য! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত