প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিজেএমসির কাছে ১০ কোটি টাকার বিল পাওনা থাকায় বিক্ষুব্ধ মাগুরার পাট ব্যবসায়ীরা

রক্সী খান, মাগুরা প্রতিনিধি : [২] নতুন পাটের মৌসুম চলে এলেও তবু ও বিজেএমসির (বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন) কাছে ১০ কোটি টাকার বিল পাওনা রয়েছে মাগুরার পাট ব্যবসায়ীদের। বিলের বদলে তাদের অনেককে দেওয়া হয়েছে পাটজাত দ্রব্য । যা আবার বাজারে বিক্রি করতে হয়েছে লোকসানে। এ অবস্থায় বকেয়া বিলের দাবিতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা রাজপথে নেমেছেন ।

[৩] ব্যবসায়ী ও বিজেএমসির শাখা গুলোর সাথে কথা বলে জানা গেছে, জেলায় বিজেএমসির চারটি ক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে জেলা সদরে তিনটি এবং শ্রীপুর উপজেলার লাঙ্গলবান্ধে একটি কেন্দ্র রয়েছে। এখানে পাটের মৌসুমে ব্যবসায়ীরা পাট দিয়ে থাকেন। চারটি ক্রয় কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার বিল পাওনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অব্যাহত চাপে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ বিলের বদলে তাদেরকে বাজারে বিক্রির জন্য শতকরা ১৬ ভাগ ছাড়ে পাটজাত দ্রব্য দিয়েছে। এর পরপর বিজেএমসি একই দ্রব্য ২০ ভাগ মূল্যছাড়ে বাজারে ছেড়েছেন। ফলে পাট ব্যবসায়ীদের পাটজাত দ্রব্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লোকসানে বিক্রি করতে হযেছে।

[৪] মাগুরা শহরের বিশিষ্ট পাট ব্যবসায়ী উদয় সাহা বলেন, বিজেএমসির কাছে আমার ১ কোটি টাকার পাট বিল বাকি আছে। এরমধ্যে তাদের অনুরোধে আমি ৫০ লক্ষ টাকার পাটজাত দ্রব্য নিই। বাজারে বিপনন করতে গিয়ে দেখি ইতিমধ্যেই তারা ২০ ভাগ কমিশনে ওই দ্রব্যগুলো বাজারে ছেড়েছে। বাধ্য হয়ে আমরা লোকসানে তা বিক্রি করেছি।

[৫] মাগুরার কৃষি ও প্রকৃতি বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা পল্লী প্রকৃতির নির্বাহী পরিচালক শফিকুর রহমান পিন্টু বলেন, এবছর মাগুরায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩৫৩৫০ হেক্টর জমিতে। সেখানে চাষ হয়েছে ৪৩০৮৫ হেক্টর জমিতে । অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে বলা যায়।

[৬] এবার আবহাওয়াও অনুকুলে। আশা করা যায় উৎপাদনও বাম্পার হবে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা যদি বকেয়া বিলের কারনে পাট কিনতে আগ্রহী না হয় বাজার দর তখন কমে যাবে। এতে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে, যা দেশের পাট শিল্পের জন্য আশংকার কারণ হতে পারে। সরকারের এখনই বিষয়টি দেখা দরকার।

[৭] বিজেএমসি মাগুরা নতুন বাজার ক্রয় কেন্দ্রের সহকারি ম্যানেজার মশিউর রহমান বলেন, অনেক ব্যবসায়ীর বিল বাকি আছে এটা সত্য। তবে আমরা পর্যায়ক্রমে বিল গুলো দিয়ে দিই। এই মুহূর্তে আমাদের তহবিলের অবস্থা খুবই খারাপ। আবার গোডাউনে বিপুল পরিমান পাটজাত দ্রব্য অবিক্রিত রয়ে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করছি একটা সমাধান হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত