প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বৈধ কাগজ নিয়েও দুই মাস ধরে ভারতে বন্দি ২৬ বাংলাদেশি

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] করোনাভাইরাস লকডাউনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরার পথে প্রায় দুই মাস আগে ভারতের আসাম রাজ্যের ধুবড়ি জেলায় গ্রেফতার হন ২৬ বাংলাদেশি। এখনও আটক এসব বাংলাদেশির বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে ভারতীয় পুলিশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বৈধ পাসপোর্ট ও ভ্রমণ ভিসা থাকার পরেও শ্রমজীবী এসব বাংলাদেশির বিরুদ্ধে অপরাধী আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।

[৩] ভারতে দ্বিতীয় ধাপের লকডাউন চলার মধ্যে গত ২ মে ওই ২৬ জন পুরুষ বাংলাদেশি দুটি মিনিবাসে করে আসামের জোরহাট জেলা থেকে রওনা দেয়। পশ্চিমবঙ্গের চেংরাবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা ছিল তাদের। এর আগে তারা আসামের আন্তঃজেলা ভ্রমণ পাস সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জেলে ও খামার কর্মী হিসেবে কাজ করা এসব বাংলাদেশিকে পরদিন (৩ মে) সকালে বাহালপুর এলাকা থেকে আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। করোনা পরীক্ষার পর তাদের পাঠানো হয় প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে।

[৪] গত ৫ মে ওই ২৬ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে জালিয়াতি এবং ফরেনার্স (সংশোধিত) অ্যাক্ট, ২০০৪ এবং পাসপোর্ট অ্যাক্ট, ১৯৬৭’র ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাসপোর্টধারী এসব বাংলাদেশি টি-ওয়ান ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করে। এই ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি না থাকলেও আসাম পুলিশের অভিযোগ এই বাংলাদেশিরা রাজ্যের জোরহাট, গোলাঘাট এবং শিবসাগর এলাকায় কর্মসংস্থান কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছেন।

[৫] বর্তমানে ধুবড়ি জেলা কারাগারে আটক রয়েছেন এসব বাংলাদেশি। গত শুক্রবার (২৬ জুন) বিলাসিপারা সাব ডিভিশনাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তাদের মামলার শুনানি হয়। আগামী ৬ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

[৬] আটক এসব বাংলাদেশি নাগরিকের প্রত্যেকের কাছে পাসপোর্ট এবং একাধিকবার ভারতে প্রবেশের বৈধ ভিসাও রয়েছে। এসব ভিসায় তাদের প্রতিবার ৯০ দিন পর্যন্ত ভারতে থাকার অনুমতি রয়েছে। তবে তারা শেষ কবে ভারতে প্রবেশ করেছেন তা স্পষ্ট নয়। আসাম পুলিশের দাবি, এসব বাংলাদেশি নাগরিক সম্ভবত চেংরাবান্ধা বন্দরের বিভিন্ন চেকপোস্ট দিয়ে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিভিন্ন সময়ে ভারতে প্রবেশ করে।

[৭] আটক হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন মো. মানিক মিয়া (২৮) ও মো. আবু হানিফ নামে দুই ভাইও রয়েছেন। তাদের বাবা মো. লাল মিয়া ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ফোনে জানিয়েছেন, তারা দুই ভাই মাছ ধরা ও কৃষি কাজ করে। তিনি বলেন, ‘দুই ছেলে আমার শক্তি। তারা আগেও ভারতে গেছে, তখন কোনও সমস্যা হয়নি… আমি অসুস্থ, কাজ করতে পারি না। আমার দুই মেয়েও আছে। আমরা খুব গরিব। ছেলেরা ফিরে না আসলে আমরা কি খাবো?’

[৮] ধুবড়ি পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট যুবরাজ বলেন, ‘তারা ভ্রমণ ভিসা নিয়ে আসলেও কাজ করে উপার্জন করছিল। তারা পরিষ্কারভাবে ভিসার শর্ত ভঙ্গ করেছে। তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে আর এখন মামলাটির তদন্ত চলছে।’

[৯] আটক বাংলাদেশিদের আইনি সহায়তা দেওয়া ভারত সরকারের লিগ্যাল এইড কাউন্সেল রাজর্ষি দাসগুপ্ত বলেছেন, এরা কোন জায়গায় কাজ করেছেন তার কোনও প্রমাণ নেই। তিনি বলেন, ‘তারা মাছ ধরা জেলে আর কোথাও তারা কোনও কাজে যুক্ত ছিলেন না। লকডাউনের কারণে তারা এখানে আটকা পড়েন।’

[১০] রাজর্ষি দাসগুপ্ত আরও বলেন, এসব ব্যক্তির কাছে বৈখ কাগজপত্র রয়েছে। তিনি বলেন, ‘ধরা পড়ার পর এসব ব্যক্তিরা নিজেদের ভারতীয় দাবি করেনি। তারা জানিয়েছিল যে তারা বাংলাদেশি এবং নিজ দেশে ফিরতে চায়। আর বাংলাদেশও তাদের ফিরিয়ে নিতে চায়। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মামলা দায়ের ঠিক হয়নি।’

[১১] এদিকে, বাংলাদেশ থেকেও আটক ওই ২৬ জনকে মুক্তি দেওয়ার আহŸান জানানো হয়েছে। আটককৃত এসব ব্যক্তিদের স্বজনদের নিয়ে বাংলাদেশের চিলমারী বন্দরে এক বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন অ্যাকটিভিস্ট নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে দুনিয়ার এই অংশে মানুষ দুই দেশে যাওয়া-আসা করেছে। কুড়িগ্রামের বহু মানুষ বৈধ কাগজ নিয়ে ভারতে যায়।’

[১২] ভারত-বাংলাদেশ পিউপিল’স সলিডারিটির বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘এসব ব্যক্তি খুবই গরিব। তারা পর্যটন আর কর্মী ভিসার পার্থক্য খুব কমই বোঝে। তারা শুধুমাত্র মাছ ধরা জেলে।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত