প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অস্বচ্ছল পরিবারের ১৩ জনের তালিকায় চেয়ারম্যানের নিজ পরিবারের ৮ জনের নামে ঢেউটিন বিতরন

লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ অস্বচ্ছল পরিবারের ১৩ জনের তালিকায় স্বামী, মা, ভাই ও বোনসহ নিজ পরিবারের ৮ জনের নামে ঢেউটিন বিতরনের অভিযোগ উঠেছে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) জেসমিন আকতারের বিরুদ্ধে।

[৩] জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল (এডিপি) থেকে পিআইসি কমিটির মাধ্যমে ১৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ২১লাখ ৩৫ হাজার টাকা এবং দরপত্র ও রেট ফর কোটেশন (আরএফকিউ) মাধ্যমে ৫২ টি প্রকল্পের বিপরীতে ৬৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৩ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। দরপত্রের মাধ্যমে ৫২টি প্রকল্পের মধ্যে আরএফকিউ প্রকল্পের ৬টি, একটি সরাসরি ক্রয়, একটি ভাইচারমুলে এবং বাকীগুলো দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেয়া হয়। যার মধ্যে আরএফকিউ ও পিআইসি কমিটির প্রকল্প নিয়ে রয়েছে নানান অভিযোগ। উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) রোজিনা বেগম সম্পা প্রকল্প সভাপতি হিসেবে আরএফকিউ প্রকল্পের মাধ্যমে এক লাখ টাকা ব্যায়ে ১১ জন নারীকে সেলাই মেশিন বিতরন করেন। যার মাষ্টারোলে সুবিধাভোগীর পুর্নাঙ্গ ঠিকানা ব্যবহার করা হয়নি। বাকীগুলো মনগড়া ভাউচারে জায়েজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

[৪] আদিতমারী উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ঢেউটিন বিতরনের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি আরএফকিউ প্রকল্প দেয়া হয়। এ প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে তা বাস্তবায়ন করেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) জেসমিন আকতার। এ প্রকল্পে উপজেলার ১৩ জন সুবিধাভোগীর মাঝে সাম্প্রতি ২৩ বান ঢেউটিন বিতরন করা হয়। সেই অস্বচ্ছল পরিবারের তালিকায় ১৩ জনের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) নিজের পরিবারের ৮ জনের নাম দিয়েছেন। বাকীরাও তার স্বজন। যার মধ্যে রয়েছে তার স্বামী রফিকুল ইসলাম, মা জিন্নাতুন নেছা, ভাই টিটু মিয়া ও মনিরুজ্জামান, ভাইয়ের বউ মুক্তা বেগম ও ফাতেমা বেগম, বোন পারভীন বেগম, খালাত ভাই লিটন মিয়ার নাম।

[৫] সরেজমিনে দুর্গাপুর বিওপি ক্যাম্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন আকতারের দুই ভাই পৃথক পরিবারে থাকলেও মা জিন্নাতুন নেছা থাকেন ছোট ভাইয়ে সংসারে। সেখানে ছোট ভাই টিটু মিয়া বাড়ি পাকা করছেন। পাকা ঘরের ছাউনির টিনের জন্য বোন ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন তাদের পরিবারের ৭ জনের নাম দিয়ে ভাইকে ঢেউটিন উপহার দেন।

[৬] তাদের বাড়ির ছবি তুলতে গেলে ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই মনিরুজ্জামান এ প্রতিবেদকের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। তার নিজের নামে দুই বান ও স্ত্রী মুক্তার নামে এক বান টিন মিলে তার ঘরে পাওয়া যায় ৩বান টিন। তবে টিন প্রসঙ্গে মনিরুজ্জামান বলেন, আমার বোন আত্নসাৎ করেনি। আমাদের নাম দিয়েছেন এবং টিনও বিতরন করেছেন। আমরা বিক্রি করি নাই। ঘরে লাগাব।

[৭] ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিনের খালাত ভাই লিটন মিয়া প্রভাবশালী। বৈঠকখানাসহ চার দিকে বারান্দা দেয়া তার আলিসান বাড়ির বেড়া দিতে বোন ভাইস চেয়ারম্যান এ প্রকল্পের দুই বান টিন দিয়েছেন। তিনিও টিন পেয়ে বেশ খুশি। তবে খুশি হতে পারেনি ভাইস চেয়ারম্যানের বাবার বাড়ির পাশ্বের অস্বচ্ছল পরিবারের ছিন্নমুল খেটে খাওয়া মানুষগুলো। যাদের অনেকের ঘরের ছাউনী ফুটো হয়ে বৃষ্টির পানিতে শরীর বিছানা ভিজে যায়। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোটের সময় ফুসলিয়ে ভোট নিয়েছে। চেয়ারম্যান হয়ে ভাই বোন ছাড়া কাউকে কোন সহায়তা দেন নি জেসমিন আকতার। এসব টিন কি সরকার পাকা বাড়ির মালিককে দেয়ার জন্য দিয়েছেন? – প্রশ্ন তুলেন তারা।

[৮] এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান(মহিলা) জেসমিন আকতার বলেন, পাকা বাড়ি হলেও রান্না ঘরের ছাউনি নষ্ট হয়েছে তাই স্বামীর নামে টিন নিয়েছি। মা,বোন ও ভাইদের দিয়েছি তাদের পাওয়া অধিকার আছে। অস্বচ্ছলরা সরকারী সকল সুবিধা ভোগ করে। আমার বাবার বাড়ির লোকজন কিছুই পায় না। তাই তাদেরকে মাত্র ২ বান করে ঢেউটিন দিয়েছি। আমার নির্বাচনে ১৮ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এ টাকা আমাকে কে দিবে? – উল্টো প্রশ্ন তুলেন তিনি।

[৯] আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মুহাম্মদ মনসুর উদ্দিন বলেন, অস্বচ্ছলদের বঞ্চিত করে নিজের পরিবারের স্বচ্ছল এবং একই পরিবারে সরকারী ঢেউটিন বিতরন বিধিসম্মত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত