প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাপুলের গ্রেপ্তারের বিষয়ে তথ্য নেই সংসদ সচিবালয়ে, তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও নেই !

আবুল বাশার নুরু : লক্ষ্মীপুর-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল কুয়েত কারাগারে আটক রয়েছেন- এমন কোনো তথ্য জানা নেই সংসদ সচিবালয়ের। তাই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগও নেই। তার বিষয়ে সংসদ কীভাবে জানতে পারে- এমন প্রশ্নে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, দুইভাবে এটা সম্ভব হতে পারে। প্রথমত-কুয়েত কর্তৃপক্ষ সরাসরি সংসদ সচিবালয় বা স্পিকারকে অবহিত করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত-বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানাতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমপি পাপুলের বিষয়টি কোনোভাবেই সংসদ অবহিত নয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, কুয়েত আদালতে যদি এমপি পাপুল দোষী সাব্যস্ত হন এবং তা সরকারের পক্ষ থেকে সংসদকে অবহিত করা হয় তাহলে স্পিকার তার আসন শূন্য ঘোষণা করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী মানবজমিনকে বলেন, এমপি পাপুলের কুয়েতে আটকের বিষয়টি আমরা অবহিত নই।

সরকারের পক্ষ থেকে যদি অবহিত করা হয় তাহলে সংসদকে জানানোর বিধান রয়েছে। যেহেতু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানি না তাই এ নিয়ে আপাতত করার কিছুই নেই। একই প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার এডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া মানবজমিনকে বলেন, দেশে কিংবা বিদেশে নৈতিক স্খলনজনিত কারণে কোনো এমপি’র দুই বছরের বেশি শাস্তি হলে সরকারের পক্ষ থেকে যদি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদকে জানানো হয় তাহলে স্পিকার ওই এমপি’র আসন শূন্য ঘোষণা করতে পারেন। তিনি বলেন, এমপি পাপুলের বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। কিন্তু তার আটকের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয় জানে না।

তাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সংসদের কিছু করার নেই। প্রসঙ্গত ৬ই জুন কুয়েতের মুশরিফ এলাকার বাসা থেকে শহিদ ইসলাম পাপুলকে আটক করে কুয়েতের সিআইডি। এরপর তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে তদন্ত কর্মকর্তারা জেনেছেন সেখানকার রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে তিনি ভিসা বাণিজ্যের নামে মানবপাচার করেছেন। কুয়েতে বিভিন্নজনকে নগদ ও চেকের মাধ্যমে ঘুষ দেয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেছেন। এছাড়া কুয়েত থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে তিনি টাকা পাচার করেছেন এমন তথ্যও পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তার এক সহযোগীর পাশাপাশি কুয়েতের বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে। পাপুলের ১৩৮ কোটি টাকার একাধিক ব্যাংক হিসাব এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আর তাকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংসদ অধিবেশন চলাকালে কোনো সংসদ সদস্য গ্রেপ্তার হলে সাধারণত সেটা সংসদকে অবহিত করেন স্পিকার। অধিবেশন না থাকলে সংসদ থেকে চিঠি দিয়ে এমপিদের জানানো হয়।

কিন্তু গত কয়েকদিনে চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনাটি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রকাশ হলেও এখনো সংসদকে জানানো হয়নি। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কার্যপ্রাণালি বিধির ১৭২ ধারা অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলে কিংবা কোনো আদালত কর্তৃক কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে বা কোনো নির্বাহী আদেশক্রমে আটক হলে গ্রেপ্তারকারী বা দণ্ডদানকারী বা আটককারী কর্তৃপক্ষ বা জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে স্পিকারকে জানাবেন। এরপর ১৭৬ বিধি অনুযায়ী স্পিকার যত দ্রুত সম্ভব সংসদ অধিবেশন থাকলে সংসদে তা পাঠ করবেন, কিংবা সংসদ অধিবেশন না চললে সদস্যদের অবগতির জন্য তা প্রচার করার নির্দেশ দেবেন।

কিন্তু এমপি পাপুলের আটকের বিষয়টি বিদেশের মাটিতে হওয়ায় সংসদকে অবহিত করার দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। এদিকে এমপি পদ বাতিল প্রসঙ্গে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী একজনের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হতে পারে, ‘কোনো উপযুক্ত আদালত যদি তাকে অপ্রকৃতিস্থ বলে ঘোষণা করেন, তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর যদি দায় থেকে অব্যাহতি লাভ না করেন, তিনি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করেন কিংবা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা বা স্বীকার করেন, তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে কমপক্ষে দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন, তিনি যদি প্রজাতন্ত্রের কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন, সংসদের অনুমতি ছাড়া তিনি যদি একটানা ৯০ বৈঠকে অনুপস্থিত থাকেন এবং সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের আলোকে তিনি যদি তার দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোট দেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাপী আলোচিত সংসদ সদস্য পাপুল গ্রেপ্তারের ঘটনাটি দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন্ন করেছে।

কিন্তু সংবিধান অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি কুয়েত আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হন এবং সেটি যদি ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে দুই বছরের বেশি সাজা হয়, তাহলে তার সংসদ সদস্য পদ হারাবেন। এজন্য বাংলাদেশ সরকার ও জাতীয় সংসদকে কুয়েত আদালতের চূড়ান্ত রায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এদিকে সম্প্রতি কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামের ব্যাংক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে সিআইসি। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত