প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিশু প্রহার, কী বলে ইসলাম

ইসমাঈল আযহার: [২] স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা অর্থাৎ প্রায় সব শিক্ষাব্যবস্থায় বেত্রাঘাত কমে গেছে। শিশুদের আনন্দদায়ক পরিবেশে শিক্ষা দেওয়ার জন্য আবিষ্কার করা হচ্ছে নানা কলাকৌশল। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় কোথাও কোথাও বেতের ব্যবহার একেবারেই নেই। কোথাও বেত আছে প্রহার নেই। গড়ে বেত আছে প্রহার নেই নীতি অবলম্বন বেশি হচ্ছে। মৃদুপ্রহার পদ্ধতিও চালু আছে। কঠোর আঘাত বা নির্যাতনের মতো ঘটনা বিচ্ছিন্ন বললেও অস্তিত্ব আছে। ইসলামের দৃষ্টিতে শিশু প্রহার বা শিশু নির্যাতন চরমভাবে ঘৃণিত। শিশু প্রহার বা শিশু নির্যাতন শিক্ষকের জন্য যেমন অপরাধ তেমনি বাবা-মার জন্যও।

[৩] শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেমন শিশুদের আঘাত করা যাবে না, তেমনি বাসা-বাড়িতেও বাবা-মা শিশু সন্তানের গায়ে হাত তুলতে পারবে না। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে শিশুরা গায়রে মুকাল্লাদ । গায়রে মুকাল্লাদ মানে হলো ইসলামের সব রকম আইন-কানুন বা জবাবদিহিতা থেকে মুক্ত। তাছাড়া শিশুরা শরীরিক ও মানসিকভাবে খুবই দুর্বল। কোনােভাবেই তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ কিংবা শারীরিক-মানসিক নির্যাতন নয়, শিশুদের সঙ্গে কোমল আচরণই কাম্য।

[৪] পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক মহানবী সা.। মহান এই শিক্ষকের ভাষ্য হলো- হজরত আয়েশা সিদ্দিকা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাকে হঠকারী ও কঠোরতাকারীরূপে প্রেরণ করেননি; বরং সহজ-কোমল আচরণকারী শিক্ষকরূপে প্রেরণ করেছেন। (মুসলিম শরিফ) ইমাম গাজালি রহ. এ হাদিসের ব্যাখায় বলেন, শিক্ষার্থীর ভুল-ত্রুটিগুলো যথাসম্ভব কোমলতা ও উদারতার সঙ্গে সংশোধন করতে হবে এবং দয়া ও করুণার পথ অবলম্বন করতে হবে। ধমক ও ভর্ৎসনা নয় ।

[৫] হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেন, তোমরা শিক্ষাদান কর, সহজ ও কোমল আচরণ কর: কঠোর আচরণ করো না। যখন তুমি রাগান্বিত হবে তখন চুপ থাক। এ কথা তিনবার বললেন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, নবীজিকে জিজ্ঞেস করলেন, কোন জিনিস আমাকে আল্লাহর গজব থেকে রক্ষা করবে? তিনি বললেন, তুমি রাগ করো না। (মুসনাদে আহমদ)

[৬] এ বিষয়ে হাকিমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানভি রাহ. বলেন, কখনও রাগান্বিত অবস্থায় শিশুকে প্রহার করবে না। বাবা-মা বা উস্তাদ সবার জন্যই এ কথা। এ সময় চুপ থাকবে। যখন রাগ দূর হয়ে যাবে তখন ভেবেচিন্তে শাস্তি দেবে। এতে শাস্তির মাত্রা ঠিক থাকবে। সীমালঙ্ঘন হবে না ।

[৭] মায়ারেফুল কুরআনের লেখক মুফতি মুহাম্মাদ শফি রাহ, বলেছেন, শিশুদের প্রহার করা খুবই ভয়াবহ। অন্যান্য গুনাহ তওবার মাধ্যমে মাফ হতে পারে। কিন্তু শিশুদের ওপর জুলুম করা হলে এর ক্ষমা পাওয়া খুবই জটিল। কেননা এটা হচ্ছে বান্দার হক। আর বান্দার হক শুধু তওবার দ্বারা মাফ হয় না। যে পর্যন্ত না যার হক নষ্ট করা হয়েছে সে মাফ করে। এদিকে যে শিশুর ওপর জুলুম করা হয়েছে সে হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক। অপ্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষমা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য এ অপরাধের মাফ পাওয়া খুবই জটিল। আর তাই শিশুদের প্রহার করা এবং তাদের সঙ্গে মন্দ ব্যবহার করার বিষয়ে সাবধান হওয়া উচিত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত