প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড মোকাবেলায় সেনাবাহিনীকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সেনাপ্রধান

ইসমাঈল ইমু : [২] সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ সেনাবাহিনীর সকল পদবীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ঘূর্ণিঝড় আম্ফানসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চলমান নির্দেশনা অনুস¥রণ করে দরবারের আয়োজন করা হয়।

[৩] ভার্চুয়াল আলোচনায় সকল সেনানিবাসে একযোগে সেনাবাহিনী প্রধান বক্তব্যের শুরুতেই বাংলাদেশের স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সশ্রদ্ধচিত্তে স¥রণ করেন। এছাড়াও তিনি ভাষা আন্দোলনের শহীদদের এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্নদানকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

[৪] সেনাবাহিনী বলেন, প্রধানমন্ত্রী করোনা মোকাবেলায় যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। আমরা সৈনিক এবং এই যুদ্ধে আমরা সর্বোতভাবে নিয়োজিত থেকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ ও জনগণের কল্যানে আত্ননিবেদন করছি। দেশের এই ক্রান্তিকালে সেনাবাহিনীকে জনগণের সেবায় আত্ননিয়োগের সুযোগ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনীর সকল সদস্যের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

[৫] তিনি করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী তথা সকল পদবীর সদস্যদের কঠোর পরিশ্রম ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির ভূয়সী প্রসংশা করেন। একই সাথে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জনগণের সাহায্যে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান। সেনাবাহিনী প্রধান জাতি গঠনমূলক কর্মকান্ড যেমন এন-৮ এক্সেস কন্ট্রোলড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সেনাবাহিনীকে সুযোগ প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। সকল সেনাসদস্যকে নিষ্ঠার সাথে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন।

[৬] সেনাবাহিনীর সদস্যদের মনোবল অটুট রাখতে গৃহিত সময়োপযোগী কল্যাণমূলক পদক্ষেপসমূহ সকলকে অবহিত করেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনাসমূহ উপস্থাপন করেন। তিনি সেনাসদস্যদের আবাসন সমস্যা সমাধান, জীবন বীমা সুবিধা চালু করা, দু:স্থ মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য কল্যানমূলক কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

[৭] ‘কঠোর প্রশিক্ষণই একজন সৈনিকের প্রকৃত কল্যাণ’ এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণ ও কার্যকরী প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রধান সকলকে নির্দেশনা দেন। সেনাবাহিনী প্রধান ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ এর আলোকে একটি সক্ষম সেনাবাহিনী গঠনের লক্ষ্যে গৃহিত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দিক-নির্দেশনা ও নিরবচ্ছিন্ন সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

[৮] শৃঙ্খলা সেনাবাহিনীর প্রাণ এবং আনুগত্য সেনাবাহিনীর চালিকা শক্তি-এই চেতনাকে ধারণ করে সেনাবাহিনীর সকল সদস্যকে চেইন অব কমান্ড অনুসরণ করা এবং কোন ধরনের গুজবে প্ররোচিত না হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যখনই দেশে কোন ভাল কাজ হয় তখনি স্বার্থান্বেষী মহল/কুচক্র সেই কৃতিত্বকে মলিন করার অপচেষ্টা করে আসছে।

[৯] সাম্প্রতিককালে সেনাবাহিনী করোনা যুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যখন ভাল কাজ করছে তখন ঐ কুচক্রী মহল সম্প্রতি সেনাবাহিনীকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। সুশৃংখল সেনাবাহিনীকে অতীতের ন্যায় এধরনের অপচেষ্টা/প্রপাগান্ডার বিরূদ্ধে সতর্ক থাকতে উপদেশ দেন। সেনাবাহিনী সর্বদাই সরকার, দেশের সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে দায়িত্ব পালনের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুরক্ষার জন্য যে কোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত