প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেন সিনেমা— চাঁদার দাবিতে কাজই বন্ধ করে দিল চবির কথিত ‘ছাত্রলীগ’ (ভিডিও)

চট্টগ্রাম প্রতিদিন প্রতিবেদন : যেন মারদাঙ্গা সিনেমার ট্রেলার! হঠাৎ ১০ যুবক এসে একসঙ্গে ঢুকলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরিন সায়েন্স অনুষদের নির্মাণ প্রকল্পে। সময় তখন সোমবার রাত ৮টা ২৭ মিনিট। এ সময় ভেতরে বসে থাকা কয়েকজন শ্রমিককে কিছু বলতে দেখা গেল থ্রি-কোয়ার্টার পরা এক যুবককে। এরপরই শ্রমিকদের চলে যেতে দেখা যায়।

আরেকটি ফুটেজে দেখা গেল সাদা শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা একজনের হাতে লোহার রড।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মেরিন সায়েন্স অনুষদ ভবনের নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করে চাঁদা না পেয়ে নির্মাণাধীন ভবনে এভাবেই ভাঙচুর চালিয়ে মারধর করা হল শ্রমিকদের। ভাঙচুরের সময় নিজেদের ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দেন বলে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইয়াকুব অ্যান্ড ব্রাদার্স।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৩ জুন) নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর চিঠি দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইয়াকুব অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক নাঈম উল ইসলাম।

এ বিষয়ে নাঈম উল ইসলাম বলেন, ‘রোববার (২১ জুন) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ছাত্রলীগ পরিচয়ে পাঁচ যুবক নির্মাণাধীন ভবনে এসে হুমকি দেন। এ সময় তারা বলেন তাদের সঙ্গে আলোচনার আগ পর্যন্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। সোমবার (২২ জুন) রাত ৮টা ১৫ মিনিট তারা আবার আসেন। এ সময় সাইট অফিস ভাঙচুর এবং শ্রমিকদের মারধর করেন তারা।
ফলে নিরাপত্তাহীনতায় শ্রমিকরা মঙ্গলবার নির্মাণকাজ বন্ধ রাখেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নাঈম উল ইসলাম।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘ভাঙচুরের ঘটনা জানতে পারার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়। ঠিকাদার এই ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। তবে তারা সেখানে সুস্পষ্ট কারও নাম উল্লেখ করেনি। যদি সুস্পষ্টভাবে কারও নাম উল্লেখ করে তবে আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

তবে এই ঘটনার দায়ভার ছাত্রলীগ নেবে না বলে জানিয়েছে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু চট্টগ্রাম প্রতিদিনকে বলেন, ‘চবিতে ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল আমি আর সভাপতি রুবেল ভাই। যেহেতু এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি, তাই অন্য কারও ছাত্রলীগ নেতা দাবি করার সুযোগ নেই। আর করোনার এই দুর্যোগে ছাত্রলীগের নাম ভেঙে কেউ যাওয়ার কথাও না। আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেও নাই। অভিযোগ আসলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখবো।’

এদিকে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সোমবার রাত ৮টা ২৭ মিনিটে মেরিন সায়েন্স অনুষদের নির্মাণ প্রকল্পে ১০ জন যুবক প্রবেশ করেন। এ সময় ভেতরে বসে থাকা কয়েকজন শ্রমিককে কিছু বলতে দেখা যায় থ্রি-কোয়ার্টার পরা এক যুবককে। এরপরই শ্রমিকদের চলে যেতে দেখা যায়। আরেকটি ফুটেজে দেখা যায় সাদা শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা একজনের হাতে লোহার রড।

মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে তিনটি বাইকে করে আবার নির্মাণাধীন ভবনে যান সাত যুবক। এ সময় বাইক থেকে নেমে এক যুবককে ভবনের ফটকে লাথি মারতে দেখা যায়। পরে তারা বাইক নিয়ে চলে যান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় অংশ নেওয়া ১০ জনের মধ্যে পাঁচজন চবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। তারা হলেন সাবেক সহ-সভাপতি মনসুর আলম, আল আমিন রিমন, আবদুল মালেক, সুমন নাছির ও সাবেক সদস্য প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয়। বর্তমানে এদের কারও ছাত্রত্ব নেই। এদের মধ্যে মনসুর আলম, আবদুল মালেক ও প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী। অন্য দুজন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিলেও এ ধরনের কোনো গ্রুপের অস্তিত্ব চবিতে আগে দেখা যায়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত