প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এ বি এম কামরুল হাসান: আহা, এমন যদি হতো !

কোভিড-১৯ জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। ছয় মাসের জন্য এনেস্থেটিস্ট ও ক্রিটিকাল কেয়ার স্পেশালিস্ট নেয়া হবে। আমি একটি দেশে সার্থকভাবে কোভিড নিয়ন্ত্রণের প্রত্যক্ষদর্শী, সম্মুখযোদ্ধা । নিজদেশে অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতেই পারে। নাগরিক হিসেবে আমার যেমন রাষ্ট্রের প্রতি দায় আছে, তেমনি রাষ্ট্রেরও আছে আমার প্রতি। রাষ্ট্রের কাছে সেই প্রত্যাশিত দায়গুলো দাবি আকারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে পেশ করছি।

আমাকে কোনো বেতন দিতে হবে না। দেশসেবা করবো। আবার বেতন কেন? তবে রোগী মারা গেলে আমাকে মারধর করা যাবে না। খুন করা যাবে না। আদালতে সোপর্দ করা যাবে। পছন্দের ব্রান্ডের পিপিই দিতে হবে। দিনে যতগুলো প্রয়োজন, ততগুলো দিতে হবে। নিশ্চয়তা দিচ্ছি, কোন সুরক্ষাসামগ্রী কর্মস্থলের বাইরে নিয়ে যাবো না। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ও ওয়ার্ল্ড এনেস্থেসিয়া সোসাইটির নীতিমালা অনুযায়ী রোগীর এবং আমার সুরক্ষার্থে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। অদৃশ্য ভাইরাস এর পাশাপাশি মানুষরুপি দৃশ্যমান ভাইরাস থেকে সুরক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক পিপিই সম্বলিত সশস্ত্র পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়োগ পেলে আমি কোভিডমুক্ত সনদ নিয়ে আসবো। কোয়ারান্টিনে পাঠাবেন না। দেশে যাবার পর কোনো ঘৃণিত ব্যক্তির পরিবারের সাথে সংশ্লিষ্ট করে কোনো মিথ্যা অপপ্রচার যাতে না হয় তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

দায়িত্ব পালনকালে আমি বা আমার পরিবারের কেউ কোভিড আক্রান্ত হলে সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ‘চিকিৎসকদের জন্য সংরক্ষিত হাসপাতালে’ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। মারা গেলে বহুলপ্রচারিত কোনো জাতীয় দৈনিকে প্রথম পাতা জুড়ে আমার ছবি ছাপানোর ব্যবস্থা করতে হবে । যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শোকবার্তা পাঠাতে হবে। দায়িত্বকালে স্বাস্থ্যখাতে কোনো দুর্নীতি হবে না এবং কোনো মিথ্যা আশ্বাস দেয়া হবে না -এমন নিশ্চয়তা দিতে হবে। চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আমার ওপর নির্ভরশীলদের আমৃত্যু দায়িত্ব নিতে হবে।

লেখকঃ প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট। ফেইসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত