প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] জীবন ও জীবিকা সচল রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : মোহাম্মদ এ আরাফাত

ভূঁইয়া আশিক : [২] বিশেষ সাক্ষাৎকারে সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, বিগত ১১ বছরে যদি আমাদের বড় রকমের উন্নয়নটা না হতো, শেখ হাসিনা যদি আজকে বাংলাদেশের নেতৃত্বে
না থাকতেন, কোভিড-১৯ এর এই মহাদুর্যোগে আমরা কোথায় থাকতাম, তা ভাবতেও ভয় হয়। একটা
ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অবলম্বন করে জীবন ও জীবিকা সচল রাখার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

[৩] কোভিড-১৯ মহামারী বিশ^কে এক কঠিন সময়ের মধ্যে ফেলেছে। বিশে^র প্রায় সব দেশই কমবেশি ভুক্তভোগী। লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, একইসঙ্গে মারাও যাচ্ছে হাজার হাজার। প্রতিটি দেশই চেষ্টা করছে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করতে। সবার একটাই চেষ্টা, যতোটা সম্ভব ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায়। কারণ করোনা ধনী-গরিব দেশ বলে কিছু বোঝে না, কে ধনী, কে গরিবÑ কোনো বাছবিচার নেই, কাউকেই ছাড় দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশও পড়েছে। এর ফলে দেশের মানুষকে অনেক কষ্টও করতে হচ্ছে। সরকার প্রথম থেকেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করে আসছে, যাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি যতোটা সম্ভব মিনিমাইজ করা যায়। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পৃথিবীর বহু দেশের তুলনায় ভালো আছে। এই ভালো থাকার পেছনে একজন মানুষ দিনরাত পরিশ্রম করছেন, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, প্রতিটি কাজে সম্পৃক্ত থেকে মানুষকে অভয় দিচ্ছেন। বলছেন, ভয় পাবেন না, অদৃশ্য শত্রুর কাছে পরাজিত হবে না অদম্য বাঙালি। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেই ভয়কে জয় করার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে পারছেন।

[৪] কোভিড-১৯ এর কারণে দেশের মানুষ শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে তা নয়, সমাজের মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে। সামাজিক ও মনস্তাত্তিক সমস্যাও তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে অর্থনৈতিক সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। এই সমস্যা শুধু স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সমাধান সম্ভব নয়, এজন্য অন্য মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গেও তা সমন্বয় করে করতে হচ্ছে। এখানেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খুব সাহসিতার সঙ্গে সবকিছু মোকাবেলা করছেনÑ কোনো কিছুতেই পিছু হটছেন না। এমন কোনো কাজ নেই যে, তিনি করোনার কারণে বন্ধ রেখেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজের এই স্পিরিটটা তিনি জারি রেখেছেন।

[৫] ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অবলম্বন করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কী কী করছেন? অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে ভাইরাসকে কীভাবে কনটেন্ট করা যায়, অচলাবস্থা থেকে বের হওয়া যায়, প্রতিটি কাজ জারি রাখা যায় কোনো কিছু না থামিয়ে। পৃথিবীর অনেক দেশ জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করতে পারেনি, কিন্তু বাংলাদেশ সেটা পেরেছে। আমরা শুধু জাতীয় বাজেট প্রণয়নই করিনি, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছি। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ৮৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে ২৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই সবকিছই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যয় হবে।

[৬] অনেকেই বলে থাকেন, বড়লোকদের বাজেট। তা কতোটা সঠিক? বড়লোকদের ছেলেমেয়েরা তো বিদেশে পড়ালেখা করে, এ টাকা তো তাদের শিক্ষায় ব্যয় হয় না, সাধারণ মানুষের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা নিশ্চিতেই তো তা ব্যয় হয়। বড়লোকেরা বিদেশে যায় চিকিৎসা করতে, স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দকৃত টাকা তো সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় ব্যয়। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের পুরো টাকা তো হতদরিদ্রদের জন্য ব্যয় হয়। জনপ্রশাসনে বিশাল অংকের টাকা ব্যয় হয়, সেখানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা তো সাধারণ মানুষের কাছেই বেশি যায়। জনপ্রশাসন তো সচিবালয়ের সচিবরাই নন। একেবারে জেলা-উপজেলার ডিসি, ইউএনও, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছে। তারা তো তৃণমূলের সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করছে। পুরো বাজেটই তো সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই শেখ হাসিনার সকল পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন হয়।

[৭] করোনার এই মহাদুর্যোগেও কেন শেখ হাসিনা বাজেট প্রণয়ন করলেন? কারণ করোনাকে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সার্বক্ষণিকভাবে সারাদেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরামর্শ দিচ্ছেন। কোনো বিরাম নেই। ক্লান্তিহীন। রাতদিন পরিশ্রমের কারণে ক্লান্তি চলে আসার কথা, কিন্তু সেটা নিজের মধ্যে ভিড়তে দিচ্ছেন না। কারণ তার মধ্যে স্পিরিটের কোনো অভাব নেই। প্রধানমন্ত্রীর শরীর হয়তো ক্লান্ত হচ্ছে, কিন্তু তার বিশ^াস বা চেতনার মধ্যে কোনো ক্লান্তি নেই।

[৮] লকডাউন দাও, লকডাউন দাও করে করে আমরা অনেকেই ‘পাগল’ হয়ে যাচ্ছি। অনেকেই বলছেন, সব খুলে দাও। কিন্তু আমরা এটা বুঝতে পারছি না, সব থামিয়ে দিলে হবে না, আবার সবকিছু খুলেও দেওয়া যাবে না। একটা ভারসাম্যপূর্ণ নীতি আমাদের অবলম্বন করতে হচ্ছে, যাতে জীবন ও জীবিকা সচল থাকে। মানুষের খেয়ে-পরে বাঁচার পথটা খোলা থাকে। সবকিছু খুলে দিলে ভাইরাসটিকে আমরা থামাতে পারবো না। আবার সবকিছু থামিয়ে দিলে ভাইরাস আটকাতে পারবো, কিন্তু জীবিকা বা খাদ্যের অভাবে সাধারণ মানুষ মারা যাবে। অর্থনীতিতে মহামন্দা দেখা দেবে। মানুষ দরিদ্র থেকে দরিদ্র হতে থাকবে। ফলে আমাদের একটা ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত দরকার ছিলো, সেই সাহসী কাজটিই করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সর্বাধিক পঠিত