প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পুত্রবধূর নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধার পাশে আগৈলঝাড়া থানার ওসি

বরিশাল প্রতিনিধি : ভরণ-পোষণ চাইতে গিয়ে পুত্রবধূর শারীরিক নির্যাতনের শিকার নব্বই ঊর্ধ্ব বৃদ্ধাকে চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফজাল হোসেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় থানার এ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হাজির হন নব্বই ঊর্ধ্ব গেনোদা রানী সরকারের বাড়িতে।

ওসির এমন উপস্থিতি ও পাশে দাঁড়ানোয় নির্যাতিতা বৃদ্ধা গেনোদা রানী সরকার আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং নির্যাতিত হওয়ার কথা তুলে ধরেন।

এসময় ওসি বৃদ্ধার সব অভিযোগ শোনেন এবং তাকে আইনগত সার্বিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বৃদ্ধার শারীরিক ক্ষতস্থানে চিকিৎসা দেওয়া শেষে ওষুধ ও উপহার হিসেবে চাল, ডাল, আটা, তেলসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বুঝিয়ে দেন।

ওসির এ কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, পুলিশ যে জনগণের কল্যাণে তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পুলিশ কর্মকর্তা আফজাল হোসেন।

ওসি মো. আফজাল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা গ্রামে জগদীশ সরকারের মা গেনোদা রানী সরকার। বয়স্ক এ নারী তার ভরণ-পোষণের দাবি তুললেই জগদীশের স্ত্রী শিখা সরকার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করেন। সর্বশেষ গত সোমবার (১৫ জুন) শিখা নারী ওই বৃদ্ধাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। বিষয়টি মঙ্গলবার জানতে পেরে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং ওই বৃদ্ধার সার্বিক খোঁজখবর নিই।

তিনি বলেন, এ সময় নির্যাতনে ওই বৃদ্ধার হাতের ক্ষতস্থানে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি তার জন্য ওষুধও কিনে দেই। পাশাপাশি কিছু খাদ্যসামগ্রীও দিই।

ওসি বলেন, বৃদ্ধা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তার চিকিৎসা খরচ আমি ব্যক্তিগতভাবেই বহন করবো। প্রয়োজনে আরও কিছু খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে। আর ওই বৃদ্ধাকে নির্যাতনের ঘটনায় তার এক নাতি চন্দন সরকার বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি নির্যাতনকারী ও বৃদ্ধার ছেলে বউ শিখা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার বৃদ্ধার শরীরে করোনা ভাইরাসের জীবাণু থাকার আশঙ্কায় প্রায় দুই মাস ধরে ঘরে না রেখে বাইরের একটি মন্দিরের সামনে রাখা হয়। সর্বশেষ সোমবার দুপুরে খাবার চেয়ে না পেয়ে নিজের নামের বয়স্ক ভাতার টাকা চাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়ে বৃদ্ধাকে গুরুত্বর আহত করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্যাতনের সময় বৃদ্ধার চিৎকারে তাকে বাঁচাতে অনেকে এগিয়ে এলে পুত্রবধূ শিখা রানী তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। বিষয়টি কাউকে জানালে তাদের নামে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত