প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দুবাই থেকে ৩৯১ লন্ডন থেকে ১৫৩ বাংলাদেশি ফিরলেন

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] করোনার কারণে আটকে পড়া ৩৯১ জন বাংলাদেশি দুবাই থেকে দেশে ফিরেছেন। ভোরে বাংলাদেশ বিমানের স্পেশাল ফ্লাইটে ফিরেন তারা। এদিকে বিমানের পৃথক ফ্লাইটে লন্ডন থেকে ১৫৩ বাংলাদেশি ফিরেছেন। স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তাদের ফ্লাইট হিথ্রো ছাড়ে।

[৩] বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিশেষ ফ্লাইটে দুবাই থেকে ফিরেন পর্যটক, ব্যবসায়ী ও ট্রানজিট সুবিধা নেয়া যাত্রীরা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাহেরা খন্দকার জানান, দুবাই থেকে আসা স্পেশাল ফ্লাইটটি শনিবার ভোররাত ৪টা ৩৬ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের নিয়ে অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে ৩৯১ জন বাংলাদেশি ফিরেছেন। আবুধাবিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মিজানুর রহমান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনেক বাংলাদেশি করোনার কারণে আটকা পড়ে আছেন। তারা ভ্রমণে এবং ব্যবসার কাজে দুবাই গিয়েছিলেন। তাদের পর্যায়ক্রমে ফেরানো হচ্ছে। এটি দুবাই থেকে ঢাকাগামী বাংলাদেশ বিমানের দ্বিতীয় স্পেশাল ফ্লাইট ছিল।

[৪] এর আগে ৩০শে মে আরব আমিরাতে আটকে থাকা ২৬২ বাংলাদেশিকে ফিরিয়ে আনা হয়। আবুধাবিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং দুবাইস্থ কনস্যুলেটের যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ বিমানের ভাড়া করা স্পেশাল ফ্লাইটে ফিরেন তারা। সেই ফ্লাইটের ভাড়াসহ নানা রকম অব্যবস্থাপনার গুরুতর অভিযোগ ছিল। দূতাবাস ১৯৪০ দিরহামে ইকোনমি ক্লাসের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত দিলেও টিকিট কালোবাজারি, ট্রাভেল এজেন্টের কারসাজিতে সেই টিকিট ২১শ’ থেকে ২৬শ’ দিরহামে বিক্রি হয়েছিল। দ্বিতীয় ফ্লাইটে টিকিট নিয়ে তেমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল।

[৫] করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে ১৯শে মার্চ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বৈশ্বিক ওই মহামারিতে আমিরাতে অনেকেই কর্মহীন, কাজ না থাকায় তারা অন্তত দেশে ফিরলে থাকা খাওয়ায় সমস্যা হবে এই ভেবে সাময়িকভাবে ফিরতে চান। তবে দেশটিতে ভ্রমণে গিয়ে আটকে পড়াও নিতান্ত কম নয় বলে দাবি করে এক কর্মকর্তা বলেন, গোটা আমিরাতে ব্যবসায়িক কাজে বা বেড়াতে এসে আটকা পড়ে আছে এমন বাংলাদেশির সংখ্যা হাজার খানেকের কম হবে না।

[৬] লন্ডন থেকে দ্বিতীয় ফ্লাইটে ফিরলেন আরো ১৫৩ বাংলাদেশি: ওদিকে লন্ডন থেকে দ্বিতীয় স্পেশাল ফ্লাইটে ফিরেন করোনার কারণে বৃটেনে আটকেপড়া আরো ১৫৩ বাংলাদেশি। বাংলাদেশ হাইকমিশন লন্ডনের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনায় বাংলাদেশিদের ফেরাতে পরিচালিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর বিশেষ ফ্লাইটটি (বিজি-৪১০৬) শনিবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০ টায় লন্ডন হিথ্রো এয়ারপোর্ট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ে।

[৭] লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, বৃটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদ মুনা তাসনীম হিথ্রো এয়ারপোর্টে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকারী যাত্রীদের বিদায় জানান। হাইকমিশনের মিনিস্টার (প্রেস) আশিকুন নবী চৌধুরী প্রচারিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি মতে, এই বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করায় হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বলেন, করোনার কারণে বিভিন্ন দেশে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে নিরাপদে ফিরিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দূতাবাসগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন দু’টি প্রত্যাবসন ফ্লাইটের মাধ্যমে বৃটেনে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করেছে।

[৮] হাইকমিশনার এজন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আন্তরিক ধন্যবাদও জানান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিমানের এই বিশেষ ফ্লাইটটি মূলত ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রীদের নিয়ে রোমে এসে সেখান থেকেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু, লন্ডন মিশনের বিশেষ অনুরোধে বাংলাদেশ সরকার বিমানটিকে রি-রুট করে লন্ডন হিথ্রো হয়ে বৃটেনে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিয়ে ঢাকা যাওয়ার নির্দেশনা দেয়।

[৯] হাইকমিশনার ইউকে ফরেন ও কমনওয়েলথ অফিস, ইউকে হোম অফিস, ইউকে বর্ডার এজেন্সি এবং হিথ্রো এয়ারপোর্ট কর্তৃপক্ষকে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তনে সহযোগিতা করায় বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ করোনা মহামারির দুঃসময়ে এবং লকডাউনের মধ্যেও লন্ডন মিশন আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য সাফল্যের সঙ্গে দু’টি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করেছে। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের করোনা মহামারির কারণে উদ্ভূত বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে এবং ২৪ ঘণ্টা কনস্যুলার হটলাইন ও হাইকমিশনের একটি ‘জরুরি কোভিড হেল্পলাইনের’ মাধ্যমে সম্ভাব্য সব ধরনের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী জুলাই মাসে বাংলাদেশ হাইকমিশন, লন্ডন ‘মুজিব শতবর্ষ কনস্যুলার ও কল্যাণ সেবা পক্ষ’ পালন করবে। এ সময়ে করোনাভাইরাস সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা মেনেই হাইকমিশন থেকে সেবা গ্রহীতাদের বিভিন্ন ধরনের কনস্যুলার ও কল্যাণ সেবা এবং দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য বিষয়ে পরামর্শসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সেবা দ্রুততার সঙ্গে দেয়া হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত যথাসময়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং হাইকমিশনের ওয়েব সাইট ও ফেসবুকের মাধ্যমে জানানো হবে।

[১০] উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে গত ১০ই মে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে ও বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ভাড়া করা একটি বিশেষ বিমানে প্রথম শতাধিক আটকেপড়া বাংলাদেশি বৃটেন থেকে দেশে ফিরেছেন।মানবজমিন, প্রিয়ডটকম

সর্বাধিক পঠিত