প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মোহন রায়হান : আপনি কি জানেন খাবারের নব্বই ভাগই এক ফোঁটা তেল ছাড়া রান্না করা যায়?

মোহন রায়হান : আপনি কি জানেন, আমাদের খাবারের নব্বই ভাগই এক ফোঁটা তেল ছাড়া রান্না করা যায়? এমনকি মচমেচে ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করতেও কোনো তেলের দরকার পড়ে না। যদিও অধিকাংশ রাধুনীই জানেন না যে তেল ছাড়াও মজাদার খাবার রান্না করা যায়। আর সাওল রান্নার এই ভুল পদ্ধতিটি ভাঙতে চায়। সাওল হার্ট সেন্টার বিশেষত হৃদরোগীদের জন্য বিনা তেলে রান্না খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে। রান্না করার সময় অতিরিক্ত তেল বা চর্বি যুক্ত না করে কীভাবে খাবার তৈরি করা হয় তা আমাদের অবশ্যই জানতে হবে। প্রকৃতি প্রতিটি খাবারে পর্যাপ্ত পরিমানে ফ্যাট সরবরাহ করেছে যা আমাদের প্রয়োজনীয় ফ্যাট বা চর্বির চাহিদা মেটাতে সক্ষম। বিনা তেলে রান্না খাবারকে আমরা ‘জিরো অয়েল ডায়েট’ বলব।

 

চর্বিযুক্ত আরেকটি উপাদান রয়েছে যা মানুষকে বিশ্বের সবচেয়ে ঘাতক রোগ- হৃদরোগের দিকে ধাবিত করে। তাহলো কোলেস্টেরল। শরীরে বেশি কোলেস্টেরল জমে গেলে তা হৃৎপি-ের ধমনী এবং মস্তিষ্কের ধমনীতে রক্ত চলাচল আটকে দেয়। এই কোলেস্টেরল অতিরিক্ত গ্রহণের ফলাফল- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, মায়োকার্ডিয়াল ইনফারকশন ও স্ট্রোক। তাই স্বাস্থ্যকর ডায়েটের মানদ-ে সাওল সাধারণ মানুষকে লাল মাংস ও তেল এড়িয়ে নিরামিষভোজী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।
সাওলের বিনা তেলে রান্না শিক্ষার বইতে তেল ছাড়া রান্না করার বিস্তারিত পদ্ধতি বর্ণনা করা আছে। বিশেষত নারীরা যারা বেশিরভাগ রান্নার দায?িত্বে থাকেন তারা বইটি পড়ে অনায়াসেই বিনা তেলে রান্নার পদ্ধতি শিখে নিতে পারবেন। ফলে বিনা তেলে রান্না খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা সহজেই হৃদরোগ মুক্ত থাকবেন। এছাড়া দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবারে কোলেস্টেরল থাকে। দুধ খাওয়ার আগে দুই বার ফুটিয়ে ওপর থেকে সর তুলে ফেললে অনেকটাই কোলেস্টেরেলর মাত্রা কমে যায়। এভাবে দুধ খেলে শরীরে কোনো সমস্যা হবে না।

 

বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে আমরা অনেকটাই কর্মবিমুখ হয়ে পড়েছি। ফলে আমাদের কঠোর শারীরিক ক্রিয়াকলাপ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তাই আমাদের ক্যালরির খরচও কমে গেছে। একদিকে কম ক্যালরি খরচ, অন্যদিকে অধিক ক্যালরি গ্রহণ করায় আমাদের মধ্যে স্থুলতা বা মোটা হয়ে যাবার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সাওল ধারনাটি কেবল খাদ্য গ্রহণ এবং রান্না সম্পর্কে নয়। সাওল চায় সমাজের প্রতিটি মানুষ তাদের জীবনযাত্রার মানসিকতাকে ইতিবাচক করুক। জীবনের বাস্তবতাগুলোকে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাক। নিয়মিত ৩৫ মিনিট হাঁটুন। যোগব্যায়াম ও মেডিটেশন অনুশীলন করে চাপকে নিয়ন্ত্রণে এনে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল হন। শুধুমাত্র একটি শান্ত ও ইতিবাচক মন আপনাকে জীবনে অবিচল থাকতে, খাদ্যাভাসের সাথে মেনে চলতে এবং কাজের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে সাহায্য করবে। এক্ষেত্রে ‘সাওল’ আদর্শ উপায়ে জীবনযাপন ও খাদ্যাভাস পরিবর্তনের একটি নতুন উপায়। তথ্যসূত্র : সাওল ব্লগ। সাওল হার্ট সেন্টার, বাংলাদেশ। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত