প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ দেখা দেয়ার তিনমাস পেরিয়ে গেলেও আইসিইউ সেবা বাড়েনি

শাহীন খন্দকার : [২] দেশে প্রয়োজনের তুলনায় আইসিইউ শয্যার সংখ্যা আগে থেকেই কম বলে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান। জেলা উপজেলা পর্যায়ে আইসিইউ নেই বললেই চলে। বর্তমানে প্রতিদিন যে হারে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে এই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের চাহিদা।

[৩] এ ব্যাপারে সচিব হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমানে তারা নতুন আইসিইউ স্থাপনে নয়, বরং যে আইসিইউ ইউনিট রয়েছে সেগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “নতুন অবকাঠামো করতে সময় লাগবে। চেষ্টা করছি যেটা আছে, সেটারই সর্বোচ্চ ব্যবহারের।

[৪] তিনি আরো বলেন, এখন আইসিইউ এর চাইতে অক্সিজেনের সরবরাহ বেশি প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। “স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, দেশব্যাপী প্রায় ১২০০টি আইসিইউ ইউনিট রয়েছে, এরমধ্যে ৩৯৯টি কোভিড-১৯ এ আক্রান্তদের জন্য বরাদ্দ করা আছে।

[৫] তবে এসব আইসিইউ এর সবগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অর্থাৎ একটি আধুনিক আইসিইউ ইউনিটে যে ধরণের আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল প্রয়োজন সেটা সব জায়গায় নেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি দেশের সব জেলা হাসপাতালে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের নির্দেশ দেন কিন্তু এ ধরণের আধুনিক আইসিইউ ইউনিট এবং দক্ষ জনবল রাতারাতি গড়ে তোলাও সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বেনজির আহমেদ।

[৬] নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি বিভাগের একজন ডাক্তার জানান, আইসিইউ একটি বিশেষায়িত সেবা। দক্ষ প্রশিক্ষিত জনবল ছাড়া এই সেবা দেয়া যায় না। দেশে এ বিষয়ে কোনো ডিগ্রী নেই।

[৭] নতুন করে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতেই পাঁচ থেকে সাত বছর সময় লাগবে। এমন অবস্থায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের যেন আইসিইউতে ভর্তি হতে না হয় সে জন্য প্রতিরোধের ওপর বেশি জোর দিতে বলেছেন তিনি। যাতে রোগীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে। রোগী এই হারে বাড়তে থাকলে, কোনোভাবেই সামাল দেয়া সম্ভব না বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

[৮] এ ক্ষেত্রে তিনিও জেলা উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে প্রতিটি হাসপাতালে অক্সিজেন সেবা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত রোগীদের খুব বেশি শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাদের তৎক্ষণাৎ আইসিইউতে নিতে হয়। অথচ প্রতিদিন একটি আইসিইউ শয্যা পেতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে একাধিক রোগীকে। কে কোন সময়ে এই সেবা পাচ্ছেন সেটাই গড়ে দিচ্ছে তাদের জীবন-মৃত্যুর তফাৎ।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। তাদের মধ্যে অনেকেই মারা যাচ্ছেন যথা সময়ে আইসিইউ সেবা না পেয়ে।

[৯] এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে কোভিড-১৯ এর রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশব্যাপী ৩৯৯টি আইসিইউ ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে কিন্তু রোগীর চাপে তার কোনোটিই ফাঁকা পাওয়া যায় না। অন্যদিকে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ আছে এমন রোগীকে নন-কোভিড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি নেয়া হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, রোববার (৭ জুন) পর্যন্ত ৫৫ টি পরীক্ষাগারে পরীক্ষার কথা বললেও গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি ল্যাবেমোট ২৪ ঘন্টায় সনাক্তের হার ২০.৮৮%। সনাক্ত বিবেচনায় তার হার ২১.১৪% এবং সনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৩৫%।

সর্বাধিক পঠিত