প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ আক্রান্ত জোন ঘোষণা হলেই করণীয় বিষয়ে আদেশ জারি করবে স্ব স্ব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ [২] প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত : জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

আনিস তপন : [৩] সাধারণ ছুটি আর না বাড়িয়ে এলাকা ভিত্তিক লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এরই প্রথম পর্যায়ে আজ শনিবার রাজধানীর ওয়ারী ও রাজাবাজার এলাকাকে লকডাউন করেছে সরকারের রোগ তত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সিটিটিউট।

[৪] পরবর্তীতে রাজধানীর বাইরে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী জেলার যেসব এলাকায় করোনা সংক্রমন বেশি সেসব এলাকা পর্যায়ক্রমে লকডাউন করা হবে।

[৫] এমন বিবেচনা থেকেই সীমিত পরিসরে দেশের অর্থনীতি চালু রাখার পাশাপাশি জীবন ও জীবিকা চালিয়ে যেতে কি কি করা যায় অথবা কি করা উচিৎ তা খুঁজে বের করতে গত মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

[৬] প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ৩১ মে বৈঠক করে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকা (উত্তর ও দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের দুই মেয়র, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ছাড়াও মন্ত্রপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মূখ্য সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবসহ ম্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

[৭] বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, সারাদেশের বেশি বিপদজনক এলাকাকে রেড জোন, কম বিপদজনক এলাকাকে হলুদ জোন ও নিরাপদ বা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী নেই এমন এলাকাকে সবুজ জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

[৮] এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শনিবার বিকেলে এই প্রতিবেদককে জানান, সম্প্রতি সরকারের কয়েকটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। সেই বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলো নিয়ে সমন্বিত একটা প্রস্তাবনা সুপারিশ আকারে তৈরী করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা আগামীকাল রোববার প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী বেশ কিছু দিন ধরেই ভিতরে ভিতরে কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ। তবে টেকনিক্যাল কাজগুলো করেছে আইসিটি বিভাগ। আইসিটি বিভাগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে। যেমন, সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিদিন আক্রান্ত ব্যক্তিদের মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করে করোনা মানচিত্র আপডেট করা হবে। আক্রান্তের ঘনত্ব অনুযায়ী এই মানচিত্র হবে তিন ধরনের- রেড, ইয়েলো ও গ্রিন। এ কাজটি আইসিটি বিভাগ করছে।

[৯] প্রস্তাবনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একেক জায়গার জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রস্তাব করেছি এবং এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে এর সম্ভাব্য প্রভাব বিষয়েও বলা হয়েছে প্রস্তাবনায়।

[১০] এই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনার পর তিনি প্রস্তাবনাগুলো পর্যালোচনা করবেন, সংযোজন/বিয়োজন করবেন। তার পর সিদ্ধান্ত জানাবেন। কারণ পুরো বিষয়টিই প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তাই এলাকা চিহ্নিত (রেড, ইয়েলো, গ্রীন) করে কি কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না। কারণ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাদের অংশের নির্দেশনা বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

[১১] কবে নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পাওয়া যেতে পারে জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত জানাবেন। জোন চিহ্নিত হলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নার্দেশনা কি হতে পারে? এ সম্পর্কে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েরর সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে। যেমন, ইতোমধ্যে জনগণকে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থবিধি মানতে পরামর্শ দিয়েছে। না মানলে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের আওতায় শাস্তি দেয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রশাসনও সেভাবেই কাজ করছে। এজন্য আগে জানতে হবে, জনপ্রশাসনের কাছে কি চায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। জানতে হবে তাদের বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত এলাকায় কি করা যাবে আর কি করা যাবে না বলে মত দেয়। কারণ চিহ্নিত এলাকায়।মাঠ প্রশাসন কিভাবে কাজ করবে তার নির্দেশনা ও সুপারিশ থাকতে হবে। এসব নির্দেশনা ও সুপারিশ পেলেই তা মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত