প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে হারিকেন 

মুসবা তিন্নি : [২] এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বড় অংশই হয়তো চিনে না হারিকেন। অথচ এই হারিকেনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কতই না সুখদুঃখের স্মৃতি।
[‌৩] বাংলাদেশের গ্রামীণজনপদে যখন বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, তখন আলোর প্রধান উৎসই  ছিলো হারিকেন। সন্ধ্যের আগে বাড়িতে  বাড়িতে চলতো চিমনি পরিস্কার ও সলতে বদলানোর কাজ। লেখাপড়া, রান্নাবান্না, খাওয়াদাওয়া ও গৃহস্থালির সবকাজ চলতো হারিকেনের আলোতেই।
[৪] এখনোও বাংলাদেশের যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি, সেখানে হারিকেনের আলোই ভরসা। তবে হারিকেনের ব্যবহার একেবারে কমে আসছে। উন্নতবিশ্বে অনেক আগেই জাদুঘরে গেছে হারিকেন। এশিয়া ও আফ্রিকার গরিব দেশেগুলোতে এখনো আছে হারিকেনের ব্যবহার।
[৫] একপরিসংখ্যানে জানা যায়, শুধু হারিকেনে  বছরে কেরোসিন পোড়ে ৭৭ বিলিয়ন লিটার। দৈনিক লাগে ১.৩ মিলিয়ন ব্যাড়েল।
[৬] নবম শতকে হারিকেন আবিস্কার করেন পারস্যের দার্শনিক ও অপরসায়নবিদ আবু হাতিম আহমদ ইবনে হামদান আল রাজি। অপরিশোধিত খনিজতেল তিনি হারিকেনে ব্যবহার করেন। তিনি তার ‘কিতাব আল-আসরার’ গ্রন্থে এ কথা উল্লেখ করেন। ১৮৪৬ সালে আব্রাহাম পিনিও গেসনার খনিজ কয়লার পাতন দিয়ে হারিকেনের বিকল্পজ্বালানি বানান। পরবর্তীতে ১৮৫৩ সালে পোল্যান্ডের ফার্মাসিস্ট ইগনেসি লুকাসিউইজ হারিকেনে ব্যবহার করেন কেরোসিন ।
[৭] হারিকেন প্রধানত তিনপ্রকার। ডেড ব্লাস্ট, হট ব্লাস্ট ও কোল্ড ব্লাস্ট।
১৮৫০ থেকে ১৮৬০ সালের মধ্যে তৈরি ডেড ব্রাস্ট হারিকেনে খোলা পলিতা থাকতো। চিমনির উপরিভাগ ছিলো উন্মুক্ত।
১৮৬৯ সালের ৪ মে হট ব্লাস্ট হারিকেনের ডিজাইন করেন জন এইচ আরউন। পরে তিনি ১৮৭৩ সালের ৬ মে এই ডিজাইনকে আপডেট করে নাম দেন কোল্ড ব্লাস্ট। কোল্ড ব্লাস্ট ডিজাইনের হারিকেনই চলছে এখনো।
সূত্র : তক্ষশীলা

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত