প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোভিড-১৯ এ শুধু মানুষ নয়, মরেছে আমাদের বিবেকও

আক্তারুজ্জামান : ভয়, অজ্ঞতা আর অমানবিকতা গ্রাস করছে নিচ্ছে আমাদের বিবেক? করোনা (কোভিড-১৯) লক্ষণ নিয়ে মারা যাওয়া এক শিক্ষক ও আলেম পরিবারের সঙ্গে ঘটেছে অমানবিক ঘটনা। কুমিল্লা শহরে ভাড়া বাড়ির মালিক থেকে প্রতিবেশী, নিজ গ্রামের জনপ্রতিনিধি থেকে স্থানীয় সবাই করোনার কাছে তাদের বিবেক বিসর্জন দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) কুমিল্লায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাওলানা শেখ আতিকুর রহমানকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান তিনি।

তার মৃত্যুর পর তার পরিবারের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অমানবিক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন তার এক  আত্মীয়। সাইদুল আজীম নামে ওই আত্মীয় বৃহস্পতিবার তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে ঘটনার বর্ণনা দেন।

স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো- করোনায় মরে গেছে আমাদের বিবেক!! আজকে সকালে আমার চাচাতো বোনের স্বামী মাওলানা শেখ আতিকুর রহমান মারা গেছেন। তিনি কুমিল্লার এক স্কুলের ধর্মীয় শিক্ষক ও মসজিদের খতিব ছিলেন।

কুমিল্লা থেকে ঢাকায় আনার পথে সকালে মারা যান তিনি। ওনার লাশ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কান্দুঘরে ওনার নিজ বাড়িতে পর্যন্ত নিতে দেয়নি এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যানরা। সরাসরি কবরাস্থানে নিতে হয়। এলাকার কেউ পাশে এসে দাড়ায়নি। চাচা নিজের মেয়ের স্বামীকে গোসল দিয়েছেন, নিজে জানাজা নামাজ পড়িয়েছেন। চাচা, চাচাতো ভাই আর ভাগিনা ছাড়া কেউ ছিল না সেখানে। এলাকার মানুষ সামাজিক দূরত্বে ছিলেন!

সব থেকে মর্মান্তিক হলো- তার স্ত্রী সন্তানদের নিজ বাড়িতেও (শেখ বাড়ি) ফিরতে দেয়নি এলাকার মানুষ! কুমিল্লার বাসায়ও ফিরতে পারেনি তারা। সেখানে বাড়িওয়ালা বাসা তালা দিয়ে দিয়েছে! বাধ্য হয়ে অনেক কষ্টে লুকিয়ে গ্রামের পাশে চাচাতো বোনের নানার বাড়িতে উঠেছে। সেখানকার মানুষ জানার পর তাদের বাড়ির আশপাশে বেড়া দিয়ে দিয়েছে। সে বাড়ির কাউকে বের হতে দিচ্ছে না!

এই সমাজে আপনজন হারিয়ে ফেলা এই মানুষগুলো কতটা নিরুপায়। অথচ এখন চাচাতো বোন তার দুই ছেলেকে নিয়ে কুমিল্লার ভাড়া বাসায় (বাড়িওয়ালা তালা দিয়েছে) থাকতে পারলে অন্তত তার ছেলেদের বাচিয়ে রাখার ভরসা পেতেন।

কুমিল্লার ওই বাসার আসপাশের মানুষগুলোর মানসিকতাও ভয়ংকর! ওরা বলাবলি করছে, করোনা তো আর ভালো মানুষের হয় না! নিশ্চই পাপ করেছে! এমটাই বুঝানোর চেষ্টা করে কথা বলছে। অথচ আমার বোন জামাই ওই শহরেরই মসজিদের খতিব মাওলানা। নামাজের বিছানা থেকেই তাকে সরাসরি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। অনেক ভালো মানুষ ছিলেন তিনি।

আমার চাচাতো বোনের পাশের বাসায় তার ছোট বোনের বাসা। সেখানেও বাড়িওয়ালা তাকে হুমকি দিয়ে রেখেছে- তার ভাগিনারা যদি এই বাসায় আসে তাহলে তাকেও বের করে দেবে! কী ভয়ংকর! কী অমানবিক! তারা কী একবারও ভাবে না এটা মহামারী- যে কারো হতে পারে, কালকে আমার, পরদিন আপনারও হতে পারে। (ওনি করোনা লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন। ৩ জুন করোনা টেস্ট করা হয় এখনো টেস্টের রেজাল্ট আসেনি।)

সর্বাধিক পঠিত