প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকা কিন্তু রেড জোনের মধ্যে জানালেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা

শাহীন খন্দকার : [২] স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা বলেন, রেড, গ্রীন এবং ইয়োলো জোনের ব্যাপারটা আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে চিন্তা করছি। আমরা কিন্তু জানি ঢাকা কিন্তু রেড জোনের মধ্যে। তিনি বলেন, আমরা যদি হিসাব করি তাহলে ৫৪ শতাংশ কেইস ঢাকা মহানগরীর মধ্যে আর ঢাকা জেলার মধ্যেই দেশের সবচেয়ে বেশি কেইস।

[৩] এদিকে অঘোষিত লকডাউন তুলে দেয়ার পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কিছু এলাকায় কারফিউ দিতে হবে বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, “সাধারণ ছুটির কথা যখন বলেছিল তখন কিন্তু লকডাউনের কথাই বলেছিল। শুধু ‘লকডাউন’ উচ্চারণ করেনি। কিন্তু তাতে কাজ হয়নি। সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, হয়তো কোনো কোনো জায়গায় কারফিউ দিতে হবে। পরিস্থিতি অলরেডি এমন হয়ে গেছে, রেডজোনে কারফিউ দেয়া ছাড়া আর কী করবে ? তবে বাংলাদেশে যেখানে সরকারিভাবে লকডাউন শব্দটিই ব্যবহার করা হয়নি, সেখানে কারফিউ দেয়া হবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় রয়েছে।

[৪] আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন কারফিউ না দিয়েও পরিস্থিতি মোকাবেলা করা যায়। যেমন শুরুর দিকে কঠোর লকডাউন দিয়ে সফলতার নজির রয়েছে শিবচরে। তবে তিনি স্বীকার করেন সংক্রমণের হটস্পট ঢাকায় লাল, হলুদ সবুজ এলাকা ঘোষণা এবং তার বাস্তবায়ন জটিল। “ঢাকায় খুবই মুশকিল। আমরা যারা ঢাকায় বসবাস করি তারা হয়তো মতিঝিল অফিস করি, উত্তরায় থাকি। এখন উত্তরা যদি গ্রিন জোন হয় আপনি রেড জোনে এসে আপনি অফিস করতে পারবেন কিনা – এগুলো একটু জটিল সিদ্ধান্ত।

[৫] ডা.আলমগীর বলছেন, “এখানে চ্যালেঞ্জও আছে। রেড জোনে আমি যদি শক্তভাবে পালন না করতে পারি সব নিয়মকানুন তাহলে দেখা যাবে যে গ্রিন জোনে যাওয়ার জন্য মানুষ আকুল হয়ে থাকবে। আবার ছুটতে শুরু করবে। এগুলি মাথায় রাখতে হচ্ছে, এগুলোতো চ্যালেঞ্জ বটেই। ইতিমধ্যেই সরকার পরিকল্পনা করছেন আন্ত:মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে রেডজুনকে ও ইয়ালোজুনকে গ্রীন করা। সেই সাথে গ্রীনজুন যেনো কোন অবস্থাতেই রেড বা ইয়ালোজুন না হয়।

[৬] যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও প্রতি মিলিয়নে সবচেয়ে কম পরীক্ষা করছে বাংলাদেশ। তাই আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলেই আশঙ্কা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবধরনের গণপরিবহন চালু এবং অফিস আদালত, দোকানপাট খুলে দেয়ার কারণে সংক্রমণ কতটা বৃদ্ধি পায় সেটি বোঝা যাবে আগামী ৭ থেকে ১০দিনের মধ্যেই। এদিকে বাংলাদেশের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআর জানাচ্ছে সবকিছু খুলে দেয়ার ফলে সংক্রমণ বাড়বে এবং জুনের মাঝামাঝি থেকে সংক্রমণ কমতে শুরু করতে পারে।

[৭] ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সারাদেশের আক্রান্ত এলাকায় লাল, হলুদ ও সবুজ অঞ্চলে ভাগ করার যে পরিকল্পনা জানানো হয়েছে সেখানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানার সুপারিশ করা হচ্ছে। আইইডিসিআর এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, “ঢাকা এবং সারাদেশের জেলা উপজেলা পর্যায়ে এটা করতে হবে। আমরা এলাকা অনুযায়ী ছোট ছোট জায়গায় সম্পূর্ণ লকডাউন, সেটা বাড়ি থেকে বের হওয়া, দোকান-পাট অফিস আদালত সবকিছু বন্ধ রেখেই এ কাজটা করতে চাচ্ছি।” তিনি বলেন আগামী দু বছর আমাদের সবাইকে মাক্স পড়তে হবে।সেই সাথে জীবনের অঙ্গোকরে নিতে হবে প্রতি বিশমিনিট অন্তর হাতধোওয়ার। জরুরি কাজ ছারা বাহিরে যাওয়া যাবে না। সবাইকে দুরত্ব বজায়ে চলতে হবে বলে জানালেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত