প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]র‌্যাব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর মামলা

সুজন কৈরী : [২] র‌্যাব সদর দপ্তরে কমিউনিকেশন অ্যান্ড এসআইএস উইংয়ে কর্মরত এএসপি নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে নির্যাতন, যৌতুক দাবি ও ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন তার স্ত্রী ইশরাত রহমান।

[৩] বৃহস্পতিবার রাতে রমনা থানায় এ মামলা করা হয় বলে জানিয়েছেন থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।

[৪] তিনি বলেন, ইশরাত রহমান মামলায় তার স্বামী নাজমুস সাকিব, শ্বশুর সফিউল্লাহ তালুকদার, শাশুড়ি খালেদা সুলতানাকে আসামি করেছেন। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

[৫] ওসি বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ই-মেইলের মাধ্যমে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান থানায় অভিযোগটি পাঠান। তবে ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ আমরা মামলা হিসেবে না নেয়ার কথা জানিয়ে তাকে স্বশরীরে থানায় আসতে বলি। পরে তিনি থানায় এলে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

[৬] মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নাজমুস সাকিবের (৩৪) সঙ্গে ইশরাত রহমানের ২০১৭ সালে মার্চে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুর, শাশুড়ি তাদের যৌতুকলোভী এবং অত্যাচারী মনোভাব প্রকাশ করতে থাকেন। তারা বিভিন্ন সময় ইশরাতকে তার বাবার কাছ থেকে নগদ টাকা এনে দিতে চাপ দিতে থাকেন। টাকা না দিলে অভিযুক্তরা মিলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের ভয়ে তিনি তার বাবার কাছ থেকে প্রায়ই নগদ টাকা এনে তাদের দিতেন।

[৭] অভিযোগে আরও বলা হয়, ১২ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় অভিযুক্তরা ইশরাতের ওপর নির্যাতন চালাতে থাকেন। ওই সময় ইশরাত গর্ভবতী হলে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তারা তালাকের ভয় দেখিয়ে ইশরাতকে গর্ভপাত করানোর চাপ দিতে থাকেন। ইশরাত রাজি না হলে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে। একপর্যায়ে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে ইশরাতের স্বামী নাজমুস সাকিব তালাকের ভয় দেখিয়ে গর্ভপাত করান। মারধরে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাও নিতে হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করেছেন ইশরাত।

[৮] এদিকে নাজমুস সাকিব জানান, এটা পারিবারিক কলহ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মণমালিণ্য হয়েছে। আগেও দুজনের মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। স্ত্রীর মারধরে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে থেকে চিকিৎসাও নিয়েছেন উল্লেখ করে নাজমুস সাকিব জানান, বিয়ের পর থেকেই মারধর, চাকরি খেয়া ফেলা ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল ইশরাত। এছাড়া আমার বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করারও জন্যও চাপ দিচ্ছিলো ইশরাত। এ ঘটনায় গত ১ মে রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। এছাড়াও রংপুর কোতয়ালী, ঢাকার কদমদলীসহ মোট চারটি জিডি করা হয়েছে বলে জানান সাকিব।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত