প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসিনা আকতার নিগার : বিত্তবানদের জন্য সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ

হাসিনা আকতার নিগার :  সারা দেশের মানুষ করোনা ভাইরাস থেকে  বাঁচাতে মরিয়া। অসুস্থ রোগীর চিকিৎসা নিয়ে হতাশ পরিবার। আবার পেটের ক্ষুধা মেটাতে  ঘর থেকে বাহিরে  ছুটছে মানুষ  ত্রানের আশায় ।।লকডাউন মানছে না কেউ।  কর্মহীন মানুষ পাচ্ছে না কোন স্বস্তির আশ্বাস। এটাই এখন সমাজের বাস্তব চিত্র  । কিন্তু  দেশের মানুষকে এ করোনার কালে বিস্মিত করেছে বিত্তবান  কিছু মানুষ ।  কোভিড১৯ মানুষের  অন্যায়, মিথ্যাচার, দাম্ভিকতা  বদলাতে পারেনি।  আর সে কারণে শিকদার গ্রুপের রন হক শিকদার ও দিপু হক শিকদার  ঋনের নামে ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত টাকা নিতে মানুষ হত্যা করার মত হীন কাজ করার চেষ্টা করে।  আবার     মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে  অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে দেশ ছেড়েছে নির্যাতন ও হত্যার হুমকির   মামলা থেকে বাঁচতে। তবে তারা কি করে কাদের সহায়তায়  এ পরিস্থিতিতে  অবলীলায় দেশ ছাড়ল তা সত্যি রহস্যময়।
অন্যায় করে পার পেয়ে যাবার আর একটি উদাহরণ সৃষ্টি হল এদেশে  করোনার কালে।  ব্যবসায়ীদের হাতে  দেশ কতটা জিম্মি তা ব্যাংকের টাকার লুটপাট দেখে বোধগম্য হয়। এক্সিম ব্যাংকের এম ডি কে হত্যার হুমকি নির্যাতনের মামলা সরকার  বা প্রশাসনের  কোন অজানা বিষয় ছিল না। কিন্তু তাদের আটক করা হয়নি।  বরং অসুস্থতার নাটক সাজিয়ে রাতারাতি দেশ ছাড়ার জন্য রন হক শিকদার ও দিপু হক শিকদারকে সহযোগিতার করা হয়।  বিত্তবান ব্যবসায়ীদের    প্রভাবের দৌরাত্ম্যে  কোন পর্যায়ে আছে তা কল্পনা করাও  সত্যি  অসম্ভব। তাই প্রশাসন থেকে এ সম্পর্কে যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি এখন অবধি । আইনের অপব্যবহার ধনীদের কাছে তুচ্ছ ব্যাপার। বাংলাদেশের শ্রেনী বৈষম্যতায় এটাই বারবার প্রমাণিত হয়ে আসছে।
সারা বিশ্বকে ঘর বন্দি করেছে কোভিট১৯। এজন্য দেশের বিত্তশালীরা এ রোগের চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাড়ি দিতে পারছে না। কারন এ ভাইরাস থেকে মুক্তির উপায় এখনো অজানা। তবে এ অবস্থায় যখন বিমান ভাড়া করে  দূর্নীতি দমন কমিশনের অভিযোগে  অভিযুক্ত    মোর্শেদ  খান  সস্ত্রীক  দেশ ত্যাগ করে,  তখন মনে হয় দেশের আইন প্রশাসন চলে কেবল কাগজে কলমে।
কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে আক্রান্তের হার বৃদ্ধির সাথে সাথে। উন্নত  দেশে এ ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে আসার অপেক্ষায় ছিল বিত্তশালীরা। তাই বেক্সিমকো গ্রুপের সোহেল এফ রহমান ও তার স্ত্রী চ্যাটার্ড বিমান করে পাড়ি দিয়েছেন যুক্তরাজ্যে।  বাংলাদেশের  মত রাষ্ট্রের  শুধু মাত্র দুজন ব্যাক্তি করোনা মহামারীর কালে  বিশাল বিমান ভাড়া করে বিদেশ যায় তা অত্যন্ত  বাকরুদ্ধকর ঘটনা।  অর্থের প্রাচুর্যতার এমন বহিঃপ্রকাশ এ সময় মানুষের বিবেককে নাড়া দেয়। যেখানে দেশের মানুষের চিকিৎসার সুব্যবস্থা নাই ;সেখানে ধনীরা নিজেদের  জন্য কেবল ভাবছে। বিত্তবানদের বিদেশ চলে যাবার ঘটনা আরও ঘটবে আগামীতে। কারণ দেশে কোভিড১৯ এর চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা এখন দৃশ্যমান। এত দিন বিত্তবানরা দেশে ছিল উন্নত দেশের কোভিড১৯  নিয়ন্ত্রণহীন ছিল বলে।  বিধাতা অদৃশ্য এ ভাইরাস দিয়ে অনেক কিছুই   আজ স্পষ্ট  করে দিয়েছে।
দেশের গরীব মানুষের  ঘামে ভেজা  পয়সাকে পকেটে নিয়ে প্রভাবশালীরা  অর্থের পাহাড় গড়ে তুলে কিভাবে অন্যায় করে পার পাচ্ছে তা মানুষ এখন জানে । আর এ সব কিছু করা সম্ভব হয় বাংলাদেশে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।  কারণ এখানে দূর্নীতির সাথে সখ্যতা করে ব্যক্তি স্বার্থে কাজ করে রাষ্ট্রযন্ত্রের  ক্ষমতাবানরা। ব্যবসায়ীরা দেশকে তাদের মুঠিবদ্ধ করেছে বলে মানুষের নির্বাক চাহনিতে কেবল প্রশ্নবোধক চিহ্ন  ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত