প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন, আশানুরুপ মূল্য পাচ্ছেনা চাষিরা

তৌহিদুর রহমান নিটল : [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কয়েকটি উপজেলার মর্ধ্যে একটি হচ্ছে বিজয়নগর। পরিবেশ অনুকূল ও মাটি উর্বর থাকায় পূর্ব সীমান্ত ঘেঁষা এই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি মৌসুমী ফল লিচুর চাষ হয়। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মোতাবেক, পাহাড়পুর, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, খাটিঙ্গা, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, চম্পকনগর, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামাল মোড়া, নুরপুর, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, চান্দপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, রূপা, শান্তামোড়া, কামালপুর, কচুয়ামোড়া, ভিটিদাউপুর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক ছোট-বড় লিচুর বাগান রয়েছে। এ বছর এখানে ৩৭০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে। যা গতবছর থেকে প্রায় ২০ হেক্টর বেশি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আনুমানিক

[৩] ২০০১ সাল থেকে বিজয়নগর উপজেলায় লিচুর আবাধ শুরু হয়েছে পুরোদমে। কম খরচে ও পরিশ্রম অনুযায়ী বেশি লাভ হওয়া এখানকার চাষিরা প্রতিবছরই বাড়ির সামনে ছোট-বড় আঙ্গিনা, পেছনে জমি উঁচূ করে মাটি ফেলে আবাধ উপযোগী করে লিচু বাগানে রূপান্তর করছেন। এখানকার বাগানে উৎপাদিত লিচুর মর্ধ্যে রয়েছে দেশী লিচু, এলাচি লিচু, চায়না লিচু, পাটনাই লিচু ও বোম্বাই লিচু । উৎপাদিত লিচু মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় সারা দেশেই এর কদরও রয়েছে বেশ। দেশের অন্যান্য জায়গায় এপ্রিল মাসের শেষ সময়ে লিচুর ফলন হলেও এখানকার বাগানে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুরোপুরি লিচু বাজারে আসে। উপজেলার আউলিয়া বাজার, সিংগারবিল, হরষপুর, চান্দুরা, বিষ্ণুপুর, ছতরপুর, আজমপুর, চম্পকনগর বাজারে বিক্রি হয় অধিকাংশ লিচু। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ও রাজধানীর ব্যবসায়ীরা পায়কারী ধরে লিচু কিনে নিয়ে যান।উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে প্রতিদিন গড়ে বেচা-কেনা হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি লিচু। করোনা প্রার্দুভাবের ফলে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই চাষি ও বাগান মহাজনদেন মাঝে। উৎপাদন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও উপযুক্ত মূল্য না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন চাষিরা।

[৪] লিচু চাষি ও ব্যবসায়ী জানান, সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হচ্ছে পাহাড়পুর ইউনিয়নের আউলিয়া বাজার। ভোররাতে চাষি ও বাগানের মহাজনরা লিচু নিয়ে বাজারে আসেন। ভোর পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে সকাল নয়টার মধ্যেই

[৫] কয়েক ঘন্টার মর্ধ্যে অধিকাংশ লিচু বেচা-কেনা করে শেষ হয়ে যায়। তারা আরোও জানান, এখান বাজারে দেশী লিচু প্রতি হাজার দেড় হাজার টাকা, এলাচি ও চায়না লিচু প্রতি হাজার ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা, পাটনাই ও বোম্বাই লিচু প্রতি হাজার ২ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। করোনায় এই পরিস্থিতি না হলে দাম আশানুরুপ পাওয়া যেত বলে জানান তারা। নরসিংদী থেকে আসা ব্যবসায়ী কাজল মিয়া জানায়, কিছুদিন যাবৎত তিনি এ বাজারে আসছেন। প্রতিদিন কম-বেশি গড়ে ৭০/৮০ হাজার টাকার লিচু কিনেন। করোনার কারনে গাড়ী ভাড়া বেশি আর আসতে সমস্যা হয়েছে। তবে লাভের হার একটু কম হলেও এখানকার লিচু অনেক ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় চাহিদা অনেক বেশি। বিজয়নগর উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা হাদিউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাগান মালিককে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগীতাসহ সার, কীটনাশক ব্যবস্হা করে দিয়েছি। এছাড়া ব্যবসায়ীরা যাতে সহজেই মাল অন্যএ নিয়ে যেতে পারে সর্বাত্নক সহযোগিতা করা হচ্ছে।