প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ কী?

ডেস্ক রিপোর্ট : চলচ্চিত্রে দুর্দিন চলছে অনেক দিন থেকে। এবার করোনা ভাইরাসের কারণে ওই দুর্দিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। সুদিন আসা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। করোনার আগে থেকেই একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সিনেমা হল। এখন তো সব হলই বন্ধ রয়েছে। আবার এগুলো চালু করতে কতদিন লাগবে, এটা কেউ বলতে পারছেন না।

দেশজুড়ে চালু থাকা প্রায় ৮০টির মতো সিনেমা হল বন্ধ করে রাখা হয়েছে। আড়াই মাস পার হলেও করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং দিনে দিনে অবনতি হচ্ছে। তা হলে সিনেমা হলের ভবিষ্যৎ আসলে কী! এমন প্রশ্নের উত্তরে কেউ সুনির্দিষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না। অনেকের ধারণা, সবকিছু ঠিক হলেও চলচ্চিত্রে সুদিন ফিরতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

এসব নিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি কাজী শোয়েব রশিদ বলেন, ‘করোনার কারণে সব সেক্টরই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে আছে দেশের চলচ্চিত্র ও সিনেমা হল। কয়েক মাস পর সবকিছু যদি স্বাভাবিক হয়, তা হলেও চলচ্চিত্রাঙ্গন স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে কয়েক বছর। সিনেমা হল চালু হলেও দর্শক আদৌ আসবে কিনা, সেটিও একটা প্রশ্ন। তার পরও ভালো সিনেমা দিয়ে বাঁচাতে হবে চলচ্চিত্রকে। আর চলচ্চিত্র বাঁচলে সিনেমা হলও বাঁচবে। পাশাপাশি সিনেমা হল বাঁচাতে সরকার প্রণোদনা দিলে দেশের অধিকাংশ সিনেমা হলই হয়তো ভবিষ্যতে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।’

এ নিয়ে মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখারউদ্দিন নওশাদ বলেন, “মানসম্মত ছবির অভাব, সময় উপযোগী সিনেমা নির্মাণে অক্ষমতা, স্যাটেলাইট ও অনলাইন প্ল্যাটফরমের আধিক্য-এ রকম অসংখ্য কারণে হলবিমুখ দর্শক। করোনার আগে স্বাভাবিক অবস্থাতেও চলচ্চিত্রে খুব একটা জৌলুস ছিল না, বরং ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে এসেছে করোনা ভাইরাস। তার পরও সিনেমা হল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খুলে দিলেই ভালো হবে।”

প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিঁয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘সিনেমা ব্যবসা হতো শুধু ঈদের সময়। পাশাপাশি শাকিব খানের সিনেমা এলে সবাই একটু স্বস্তি পেত। কিছু বন্ধ সিনেমা হলও খুলত। ১৮ মার্চ থেকে করোনার কারণে সিনেমা হল ও সিনেমা অঙ্গনে যে ক্ষতি চলমান, তা পুষিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে। আগেও সরকারের কাছে আমরা প্রণোদনা চেয়ে আশ্বাস ছাড়া কিছু পাইনি। সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে যদি সরকার প্রণোদনা না দেন, তা হলে বন্ধ থাকা অধিকাংশ সিনেমা হল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও আর খুলবে না।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘সরকার নজর না দিলে চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। আমার বিশ্বাস, বর্তমান সরকার এ ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’

শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেন, ‘সরকারকে ১০০ সিনেমা হল রেনোভেশন করতে হবে। এই ১০০ হল থেকে আগামী ৩ বছর কোনো কর নেওয়া যাবে না। এখানে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হবে। এ ছাড়া নতুন নতুন মার্কেট হলে সেখানে মাল্টিপ্লেক্স নির্মাণ করতে হবে। সিঙ্গেল স্ক্রিনকেও সম্মান দিতে হবে। কারণ মাল্টিপ্লেক্সে ৩০০ টাকা দিয়ে আমজনতা সিনেমা দেখবে না। তাদের জন্য টিকিটের মূল্য ১০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে। এসব পদক্ষেপ না নিলে করোনার পর সিনেমা ও সিনেমা হল শেষ হয়ে যাবে।’

বুকিং এজেন্ট সমিতির সভাপতি সারোয়ার ভুঁইয়া দিপু বলেন, ‘আগামীতে করোনা পরিস্থিতি ঠিক হলেও আমার চারটি হলের কোনোটিই আর চালু হবে না। এর পাশপাশি টিকাটুলির বিখ্যাত ‘অভিসার সিনেমা’ হলও আর খুলবে না। মধুমিতা, বলাকা ছাড়া ঢাকার বাইরের অধিকাংশ সিনেমা হল খোলার সম্ভাবনা নেই।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত