প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : [২]ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণগ্রহণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাচ্ছে। বাজেটের ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও এখন অতিক্রম করতে হচ্ছে। জুনে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ট্রেজারি ও বিল বন্ডের মাধ্যমে শুধু নিট ঋণ নেয়া হবে ১৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকা। এ সুবাদে চলতি অর্থবছর শেষে সরকারের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার অঙ্ক দাঁড়াবে ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা থেকে ১৫ হাজার ২২৭ কোটি টাকা বেশি। তবে, এটাও ছেড়ে যেতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

[৩]জানা গেছে, জাতীয় বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে প্রথমে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। বলা চলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারছে না। এর ফলে সরকারের ব্যয় ঠিক রাখতে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়। সংশোধিত বাজেটে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নেয়ার এই লক্ষ্যমাত্রা সংশোধন করে ৭২ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু ৩১ মে পর্যন্ত শুধু ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমেই সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৭৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চলতি জুনে আরো ১৪ হাজার ১৮০ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার কর্মসূচি বাংলাদেশ ব্যাংকে দেয়া হয়েছে। ফলে এ ঋণ নেয়ার কর্মসূচি আর পরিবর্তন না করলে অর্থবছর শেষে শুধু ব্যাংকব্যবস্থা থেকেই সরকার নিট ঋণ নেবে ৮৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।

[৪]বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, সরকারের এ ঋণ নেয়ার কর্মসূচি আরো বাড়তে পারে। ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরো ঋণ নেয়ার সুযোগ আছে। উপায় উপকরণের মাধ্যমে ৬ হাজার কোটি টাকা এবং ওডির (ওভার ড্রাফট) মাধ্যমে আরো ৬ হাজার কোটি টাকা ধার নিতে পারবে সরকার। অর্থাৎ সরকার আপৎকালীন ব্যয় মেটানোর জন্য ১২ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য ধার নিতে পারে।

[৫]ওই সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান যে হারে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিচ্ছে তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বেশি হারে ঋণ নিতে হতে পারে। ৩১ মে পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নিট ঋণ নেয়া হয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। এতে পরিবর্তন করা হতে পারে ঋণ নেয়ার কর্মসূচি। আর তা হলে একটি অর্থবছরে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নিতে হবে সরকারকে, যা এ যাবৎকালে সর্বোচ্চ ঋণ বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

[৬]ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, তারা পড়েছেন বহুমুখী চাপে। এক দিকে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন বেড়ে গেছে। অপর দিকে সরকারের বেশি মাত্রায় ঋণের জোগান দিতে হচ্ছে। এ দিকে প্রণোদনার অর্থও ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হচ্ছে। সব মিলেই তারা এখন মহাবিপাকে পড়ে গেছেন। ইতোমধ্যে বেশির ভাগ ব্যাংকেরই আয় কমে গেছে। দুই মাসের সুদ-আয় স্থগিত করায় যেসব ব্যাংক কখনো লোকসানে ছিল না তাদেরও লোকসান গুনতে হচ্ছে।

[৭]বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের বিকল্প নেই। কারণ, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারছে না সরকার। আবার সঞ্চয়পত্র থেকেও আগের মতো ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সরকারের রাজস্ব ব্যয় কমছে না, বরং করোনার কারণে বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যয় ঠিক রাখতে হলে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিতেই হবে। আর ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতের ঋণের উপর চাপ বেড়ে যাবে। কেননা ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা আর আগের মতো নেই। এমনিতেই আমানত কমে যাওয়ায় ও খেলাপি ঋণের কারণে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা কম ছিল, করোনার কারণে চলমান অবস্থায় ব্যাংকগুলোর আরো সমস্যা রয়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেয়া এখন কঠিনই হয়ে পড়েছে ব্যাংকগুলোর জন্য।

উৎসঃ নয়াদিগন্ত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত