প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রোগীকে কষ্ট না দিয়ে তার সেবা-যত্ন ও খোঁজ-খবর নেওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে ইসলাম

ইসমাঈল আযহার: [২] সুস্থতা আল্লাহ তায়ালার বড় নিয়ামত। সবাই সুস্থ থাকতে চায়। এরপরও আমরা অসুস্থ হই। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হই। অসুস্থ ব্যক্তির সেবা-যত্ন করা, তার খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাকে শান্তনার বাণী শোনানো মহানবী (সা.)-এর সুন্নত। কিন্তু বর্তমানে আমরা এই সুন্নত পালনে বড়ই অবহেলা করছি। কারও সামান্য জ্বর কাশি হলে আমরা তাকে মানসিকভাবে কষ্ট পৌঁছাচ্ছি। ইসলামে মানুষকে মানসিকভাবে কষ্ট দেওয়াও হারাম।

[৩] পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের কেউ অসুস্থ হলে তার খোঁজ-খবর নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের অবহেলা করা উচিত নয়। অসুস্থতার কারণে রোগীকে ঘৃণা, অবমাননা বা মানসিকভাবে কষ্ট পৌঁছানো নাযায়েজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটা ঘৃণ্যতম একটি কাজ।

[৪] ইসলাম সুস্থ ব্যক্তির কল্যাণ কামনার পাশাপাশি অসুস্থ মানুষের প্রতিও দয়াশীল। রাসূল (সা.) যখনই কোন অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যেতেন তখন তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং তাকে সুসংবাদ দিতেন।

[৫] হযরত মুহাম্মদ (সা.) রোগীর সেবাযত্ন করাকে সর্বোৎকৃষ্ঠ নেক আমল ও ইবাদত ঘোষণা করেছেন। সাহাবি হযরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা রোগী দেখতে যাও এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করো, কেননা তা তোমাদেরকে পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।’ (মুসনাদে আহমদ)

[৬] রাসুল (সা.) বলেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা কর এবং বন্দি মানুষকে মুক্ত কর।কোনো অমুসলিমও দুঃখ-কষ্টে থাকলে তার প্রতিও সাহায্যের হাত বাড়ানো উচিত। রাসুল (সা.) মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমেরও সেবা করেছেন।

[৭] একজন মহিলা সাহাবী (রা.) বলছেন, একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাসূল (সা.) আমার সেবা শুশ্রূষা করতে এসে বলেন, হে উম্মু আলা, তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা, মুসলমানদের অসুখের কারণে আল্লাহ্ তাআলা তাদের গুনাহসমূহ এমন ভাবে দূর করে দেন যেমন ভাবে আগুন সোনা-রূপার মধ্যেকার ভেজাল দূর করে দেয়। (আবূ দাউদ)

[৮] একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে শান্তনার বাণী শোনালে, খোঁজ-খবর নিলে, একটু সেবা-যত্ন করলে তার দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। সে অন্তরে প্রশান্তি পায়। তাই মানবিক বিচারে রোগীর খোঁজ-খবর নেওয়া, সেবা-যত্ন করা উচিত।

[৯] রাসূল (সা.) বলেন, এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের ৫টি হক রয়েছে। তা হলো- ১. সালামের জবাব দেওয়া, ২. হাঁচির উত্তর দেওয়া, ৩. দাওয়াত কবুল করা, ৪. অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া ও ৫. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। (সহিহ বোখারি)

[১০] রোগী দেখার অসংখ্য ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসূল (সা.) কে বলতে শোনেছি, যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা বিকাল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করে। (সুনানে তিরমিজি)

[১১] রাসূল (সা.) বলেন, কোনো মুসলমান অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে গেলে সে বেহেশতের ফল আহরণ করতে থাকে। অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখাশোনা করলে সওয়াবের নিশ্চয়তা দিয়েছেন রাসুলে (সা.)।

[১২] অসুস্থ মানুষকে সাহায্যের হাত বাড়ালে সাহায্যকারীর প্রতি আল্লাহ অনেক খুশি হন। তাকে আরও কাছে টেনে নেন। আসুন, আমরা অসুস্থ মানুষের সেবা করি। অসহায়দের চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অসুস্থ মানুষের সেবা করার তাওফিক দান করুন। আমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত