প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারা এখন কী করছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : মনোমুগ্ধকর অভিনয় কিংবা মডেলিংয়ের গুণে তারা পৌঁছে গিয়েছিলেন প্রতিটি বাসার ড্রইংরুমে। তাদের নিয়ে আড্ডা জমত পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে। টেলিভিশন খুললেই তাদের দেখা যেত নিয়মিত। বলা হচ্ছে সেই সব অভিনয়শিল্পী-মডেলের কথা, যারা ছিলেন টিভি নাটক-অনুষ্ঠান-বিজ্ঞাপনের সোনালি যুগের চালক। তাদের মধ্যে বেশিরভাগই কাজ ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন দেশের বাইরে। অনেকে

আবার কাজ করছেন পর্দার আড়ালে কিংবা অন্য ভুবনে। কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের মনে রেখেছে। আমাদের আজকের আয়োজন তাদের মধ্য থেকে চার তারকাকে নিয়ে।

তমালিকা কর্মকার

মঞ্চ থেকে অভিনয় জীবনের শুরু হয় তমালিকা কর্মকারের। ১৯৯২ সালে আরণ্যক নাট্যদলের ‘পাথর’ তার অভিনীত প্রথম নাটক। মামুনুর রশীদের লেখা এ নাটকটি নির্দেশনা দেন আজিজুল হাকিম। শুরুটা মঞ্চ দিয়ে হলেও টিভি নাটক আর চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তমালিকা। ‘রাঢ়াঙ’-এর শ্যামলী, ‘ময়ূর সিংহাসন’-এর কৃষ্ণা এবং ‘বিদ্যাসাগর’-এর রাধা চরিত্রগুলোর জন্য তিনি দর্শকের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত।

নব্বইয়ের দশকে টেলিভিশনেও তমালিকা নিয়মিত মুখ ছিলেন। কাজ করেছেন অসংখ্য নাটকে। ‘কিত্তন খোলা’ ছবিতে অভিনয় করে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। তবে এই দশকের শুরু থেকেই তাকে টিভিতে খুব একটা দেখা যায়নি। মঞ্চে ছিলেন নিয়মিত মুখ। ২০১৮ সালে তমালিকা হঠাৎ করেই যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। যাওয়ার সময় বলেছিলেন, সেখানেই স্থায়ী হবেন তিনি। ভক্তদের ধারণা ছিল, তাদের প্রিয় অভিনেত্রী বোধহয় আর কখনো দেশে ফিরবেন না। কিন্তু গত বছর আবার তিনি মঞ্চে ফিরেছেন এবং এ বছর মা দিবসের নাটক ‘শেষ বিকেলের আলো’য় অভিনয় করেছেন।

জিতু আহসান

টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রের প্রয়াত কিংবদন্তি অভিনেতা সৈয়দ আহসান আলী সিডনির ছেলে জিতু আহসান। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে ‘জোয়ার ভাটা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি অভিনয় শুরু করেন। এর পর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বেশ কিছু বিজ্ঞাপন আর টিভি নাটকে অভিনয় করে জয় করে নিয়েছিলেন দর্শকদের মন। জিতু তার অভিনয়ের স্বাতন্ত্র্যতার কারণে দর্শকের কাছে হয়ে ওঠেন প্রিয় অভিনেতা। দীর্ঘদিন ছোট পর্দায় অভিনয় করা এই তারকা বদরুল আনাম সৌদের ‘গহীন বালুচর’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় নাম লেখান। ছবিটিতে তার অভিনয় দেখে দর্শকরা মুগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে পর্দায় নিয়মিত নন তিনি। স্ত্রী, সন্তান আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে মাঝে মাঝে ব্যতিক্রম কিছু চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে।

ত্রপা মজুমদার

মঞ্চ ও টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ত্রপা মজুমদার। জন্ম থেকেই সাংস্কৃতিক আবহে বেড়ে উঠেছেন তিনি। নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারের একমাত্র সন্তান ত্রপা মজুমদার। মঞ্চ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও নব্বইয়ের দশকে তিনি টেলিভিশনে নিয়মিত মুখ ছিলেন। অভিনয় করেছেন অসংখ্য নাটকে। টিভি নাটকে তার অভিনয় ও বাচনভঙ্গির কারণে তিনি ছিলেন বেশ জনপ্রিয়। তবে টিভি নাটকে এখন আর নিয়মিত নন ত্রপা। মাঝে মাঝে বিশেষ দিবসের নাটক, রিয়েলিটি শোয়ের বিচারক কিংবা উপস্থাপক হিসেবে তার দেখা পাওয়া যায়। যদিও মঞ্চ নাটকে সব সময় সরব তিনি। মঞ্চে অভিনয়ের পাশাপাশি তাকে নাটক নির্দেশনাও দিতে দেখা যায়। ভবিষ্যতেও এই মাধ্যমে ব্যস্ত থাকতে চান এ অভিনেত্রী। বর্তমানে শিক্ষকতা, অভিনয় ও নির্দেশনার পাশাপাশি ত্রপা ব্যস্ত আছেন নিজেদের বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাজ নিয়ে।

লিটু আনাম

মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের অতি পরিচিত একজন অভিনেতা লিটু আনাম। ১৯৯১ সালে হুমায়ুন ফরীদি নির্দেশিত মঞ্চ নাটক ‘ভূত’-এ প্রথম অভিনয় করেন তিনি। সেই থেকে অভিনয়ে পথচলা শুরু তার। ১৯৯৮ সালে শমী কায়সারের বিপরীতে মোহন খান পরিচালিত ‘দূরে কোথাও’ নাটকের মাধ্যমে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করেন লিটু। তার অভিনীত নাটকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার। সংখ্যার দিকে তাকালেই বোঝা যায়, তিনি কতটা ব্যস্ত সময় পার করেছেন মিডিয়ায়। ছোট পর্দার পাশাপাশি তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন। ‘নন্দিত নরকে’, ‘নিরন্তর’ তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবি। তবে এখন টিভি পর্দায় নিয়মিত দেখা যায় না তাকে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন বেশি। এ ছাড়া বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে ‘এল এ হেলথ এইড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয় লিটুর জন্মস্থান ঠাকুরগাঁও থেকে।

সর্বাধিক পঠিত