প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]অফিস খোলার পরে কঠোর অবস্থানে যাবেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র তাপস

সুজিৎ নন্দী : [২] ৯০ ভাগ কাজে পুরো বিল পরিশোধ করা প্রকৌশলীরা আতংকে।

[৩] দায়িত্ব নেয়ার পরপরই দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে দেখা যাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে। ইতোমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে অনেকটাই ‘হার্ডলাইন’ অবস্থানের জানান দিচ্ছেন তিনি। ঈদের ছুটির পরে তিনি দীর্ঘদিন যারা অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুনীতির সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। আর এতে বেশ তটস্থ অবস্থায় আছেন ডিএসসিসির এক ঝাঁক প্রকৌশলী ও কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

[৪] মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের সঙ্গে সঙ্গে ডিএসসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ইউসুফ আলী সরদার ও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুজ্জামানকে চাকরিচ্যুত করেন। এর তিনদিন পরেই চাকরি হারান রাজস্ব বিভাগের ‘বাজার সার্কেল-৩’ এর কর্মকর্তা আতাহার আলী খান। সে সময় ডিএসসিসির নগর পরিকল্পনা বিভাগে সংযুক্ত ছিলেন আতাহার আলী।

[৫] একাধিক কর্মকর্তা জানান, দর্শানো, তদন্ত কমিটি গঠন, সাময়িক অব্যাহতির মতো বিভিন্ন কালক্ষেপনীয় পদক্ষেপ বলয়ের বাইরে গিয়ে ‘ডিরেক্ট ডিসিশন’ এর এমন ঘটনা ডিএসসিসি তো বটেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের জন্যও বেশ বিরল।

[৬] দায়িত্ব গ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাপস বলেন, ঢাকাবাসীর জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেবো। আর এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে কোনো বাধা এলে তা মানা হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও দায়িত্ব পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের কোনো কিছু নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে অতীতে যারা অনিয়ম ও দুনীতি ও অনিয়ম এবং ‘সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পদোন্নতি’ নিয়েছেন তাদের ব্যাপারেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা যায়।

[৭] ডিএসসিসির সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ‘চার ইউনিয়ন প্রকল্পে দনিয়া, ডেমরা, সারুলিয়া ও মাতুয়াইল এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ ও ড্রেন নির্মাণ’ প্রকল্পের ৯০ ভাগ কাজ করে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর যোগসাজগে পুরো বিল তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সেই প্রকৌশলী এখন নগর ভবনে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে আছেন। এই প্রকল্পে মাটি দিয়ে সিমেন্ট এবং বাঁশ দিয়ে রড়ের কাজ করেছিলেন দায়িত্বে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী। তার কিছু না হলেও একজন সহকারি প্রকৌশলী এবং একজন উপ-সহকারি প্রকৌশলীকে বরখাস্ত করা হয়। এই প্রকল্পের পাশাপাশি ‘অতিবৃষ্টি’ প্রকল্পসহ তিন প্রকল্পের জন্য কাজেও বড় রকম অনিয়ম উঠে এসেছে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টি প্রকল্পে অঞ্চল-৩, অঞ্চল-৪ এ সুইপার কলোনী নির্মাণসহ প্রায় ৮টি কাজের বিল সাবেক মেয়রের বিদায়ের মহুর্তে পরিশোধের চেষ্টা করে বলে একটি সূত্র জানায়। একটি বড় অংশ অর্থ এরই মধ্যে প্রকৌশলীদের যোগসাজগে পরিশোধ হয়েছে বলে জানা যায়।

[৮] নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসসিসির একাধিক কর্মকর্তা অন্যসব প্রকল্পে করপোরেশনের নিজস্ব তহবিল থেকে ম্যাচিং ফান্ড দেওয়ার কথা থাকলেও হাতেগোনা ৩/৪টি প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে জিওবি ফান্ড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড় করা হয়েছে।

[৯] ইতোপূর্বে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস জানিয়েছিলেন, অনিয়ম সম্পর্কে তিনি অবগত। দীর্ঘদিন প্রভাব বিস্তার করা প্রকৌশলী, কর কর্মকর্তা আর ঠিকাদারা বেশ দুশ্চিন্তায়। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এমনটাই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত