প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লিবিয়ায় গুলিতে নিহত হলেন সালথার কামরুল, দিশেহারা পরিবার !

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি : [২] ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লবদি ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে গত ২৮ মে লিবিয়ায় গুলিতে নিহত কামরুল ইসলাম এর বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। গতকাল এই খবর তাদের বাড়িতে আসার পর থেকে তাদের পরিবার ও আশে পাঁশের প্রতিবেশিরা শোকে মূহুমান হয়ে পড়েছে। তিন ওই এলাকার কবির শেখের পুত্র। কামরুলের এক স্ত্রী ও দুই বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। কামরুলকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। লিবিয়ায় মানব পাচারকারীদদের গুলিতে নিহত ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে রয়েছেন কামরুল(২৮)। টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর জানার পর থেকে পরিবারে চলছে এখন শোকের মাতম।

[৩] নিহত কামরুলের পিতা কবির শেখ কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, অভাব অনটনের সংসার। আশা ছিলো ছেলেকে বিদেশে পাঠায়ে যদি একটু সুখের মুখ দেখা যায়। সেই আশা নিয়ে দালালের কথা মতো সমিতি থেকে লোন ও জমি বিক্রির সাড়ে চার লাখ জোগার করে গত ডিসেম্বর (পাচঁ মাস) মাসে ছেলেকে পাঠিয়েছিলেন বিদেশে। ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পাঁশাপাশি পরিবারের স্বচ্ছ্লতার কথা ভেবেই তাকে বিদেশ পাঠানোর তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কবির শেখ। কিন্তু স্বপ্ন পূরণতো দূরের কথা উল্টো লিবিয়া থেকে দালালরা ফোন করে ১০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলো কিছুদিন যাবত। তিনি বলেন, পাঁশের গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর থানার গোয়ালা গ্রামের দালাল আব্দুর রব এর মাধ্যমে ভারত ও দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পৌঁছান কামরুল।

[৪] নিহতের বড় ভাই ফারুক শেখ গণমাধ্যমকে জানান, দালাল চক্র লিবিয়ার একটি শহরে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন শুরু করে। তাদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে পাচারকারী চক্রটি। ভাইয়ের জীবনের কথা ভেবে টাকা দিতে রাজিও হন তারা। কিন্তু টাকা পাঠানোর আগেই খবর এলো দালাল চক্র লিবিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মিজদা শহরে কামরুলসহ ২৬ বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করেছে।

[৫] সালথা উপজেলার নির্বাহী অফিসার হাসিব সরকার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করবো ওই পরিবারকে। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে কামরুলের মরদেহ আইনী প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার উদ্যোগ করা হবে। এছাড়া যে দালাল চক্রের দ্বারা এমন ঘটনা ঘটেছে তাদের কে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

[৬] সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ্ গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে পরিবারের লোকজনের সাথে কথা বলেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত