প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা : ঢাবির রত্নকক্ষ মহসীন ৬৪৫, উপহার দাও আরো আরো নূর মোহাম্মদ-আবু আলম-আব্দুল মান্নান

মাসুদ রানা : আমি ছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ছাত্র। আবাস ছিলো হাজী মুহম্মদ মহসীন হল। কক্ষ নং ছিলো প্রথম ৬৪৫, তারপর ৬২৪।

আমার মহসীন হলে আবাসিক হওয়া ছিলো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল। তখন মহসীন হলের ভিপি নূর মোহাম্মদ ভাই আমাকে প্রভোস্ট, চিরকুমার অধ্যাপক ওদুদুর রহমানের কাছে নিয়ে গেলে, তিনি সময় উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

তারপর স্বয়ং ডাকসু ভিপি মাহমুদুর রহমান মান্না ভাইয়ের নির্দেশে ডাকসু জিএস আখতারুজ্জামান ভাই আমাকে নিয়ে গেলেন কঠোর সেই অধ্যাপকের কাছে। শেষপর্যন্ত তিনি গজগজ করতে করতে কয়েকটি কঠোর কথা শুনিয়ে আমাকে আবাসিকতা দিলেন।

নূর মোহাম্মদ ভাই ততোক্ষণে ৬৪৫ ছেড়ে সিঙ্গেল রুমের বাসিন্দা। তাঁর ছেড়ে যাওয়া ৬৪৫ নং রুমে আবু আলম ভাই ও আমি থাকলাম বেশ কিছু দিন।

এক সময় আবু আলম ভাই চলে গেলেন সিঙ্গেল রুমে। থাকলাম আমি একা আরও অনেক দিন, যদিও বাস্তবে একা ছিলাম না কখনও, কারণ রাতে থাকতো অনেকেই।

শেষ পর্যন্ত আমি চলে গেলাম ৬২৪ নম্বর রুমে। আর, ৬৪৫-এ এলো আব্দুল মান্নান ও মুকিত। মান্নান শেষ পর্যন্ত ৬৪৫ নম্বর রুমেই ছিলো।

মহসীন হলের বাসিন্দাদের মধ্যে নূর মোহাম্মদ ভাই ছিলেন পুলিসের আইজি, মরক্কোর রাষ্ট্রদূত, সবশেষে ক্রীড়া সচিব এবং বর্তমানে এমপি।

আবু আলম ভাই ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা সচিব ও পরে এলজিআরডি সচিব, এখন অবসরে এবং সম্ভবতঃ উচ্চ পর্যায়ের একজন কনসাল্ট্যাণ্ট।

আর সর্বশেষ, আমার প্রিয় আব্দুল মান্নান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি, চট্টগ্রামের ডিসি, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার হয়ে আজ স্বাস্থ্য সচিব হলো। অভিনন্দন জানাই মান্নানকে!

আমি আশা করি, বৈশ্বিক মহামারীর এ দুঃসময়ে জনগণের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে সর্বোচ্চ পেশাদারী দক্ষতা,সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে জাতির স্বাস্থ্য পরিষেবায় নেতৃত্ব দেবে আমাদের প্রিয় মান্নান।

কী বলবো মহসীন হলের ৬৪৫ নম্বর কক্ষটিকে? জননী হলে বলা যেতো রত্নগর্ভা। আমি কি বলতে পারি না, রত্নকক্ষ ৬৪৫?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের ৬৪৫ নম্বর কক্ষ সৃষ্টি করুক আরও নূর মোহাম্মদ, আবু আলম ও আব্দুল মান্নান। ভালো থেকো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ভালো থেকো মহসীন হল, ভালো থেকো রত্নকক্ষ ৬৪৫! ফেসবুক থেকে

২৯/০৫/২০২০
লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত