প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এনবিআরের মতে দেশে বিড়ি শ্রমিক ৪৬ হাজার, কারখানা মালিকদের দাবি ২০ লাখ

মো. আখতারুজ্জামান : [২] বিড়ির সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করা, সম্পূরক শুল্কের একটি অংশ সুনির্দিষ্ট কর আকারে আরোপ করা এবং অর্জিত বাড়তি রাজস্ব বিড়ি শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থানে ব্যয় করার সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গবেষণায়।

[৩] জানা যায়, নীতিনির্ধারকদের প্রভাবিত করতে প্রতিবছর বাজেট ঘোষণার আগে বিড়ি মালিক এবং কিছু সুবিধাভোগী বিড়ি শ্রমিক নেতা শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মিথ্যাচার করে আসছেন। তারা দাবি করেন বিড়ির কর বাড়ানো হলে দেশের বিড়ি কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে ২০ থেকে ৩০ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। বিড়ি কারখানার মালিকরা বছরে পর বছর ধরে বিড়ি শ্রমিকদের যে তথ্য দিয়ে আসছে তা কাল্পনিক।

[৪] এনবিআর বিগত ২০১৯ সালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশে বিড়ি শিল্পে কর্মরত নিয়মিত, অনিয়মিত এবং চুক্তিভিক্তিক মিলিয়ে মোট শ্রমিক সংখ্যা মাত্র ৪৬ হাজার ৯১৬ জন। বিড়ি শিল্পের কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মজুরিও খুব কম, মাসে গড় আয় মাত্র ১,৯৭২ টাকা। এক জনের আয়ে সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবারের শিশু, নারীসহ সকলকেই বিড়ি তৈরির ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সম্পৃক্ত হতে হয়।

[৫] গবেষণা প্রতিবেদনে বিড়ির কার্যকর মূল্য বৃদ্ধির জন্য সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করার সুপারিশ করা হয়েছে। বিড়ির কর ও মূল্য কার্যকরভাবে বৃদ্ধি করা হলে, কয়েক লাখ বর্তমান এবং ভবিষ্যত বিড়ি ধূমপায়ীর অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে। বিড়ি থেকে রাজস্ব আয় বেড়ে যাবে দ্বিগুণেরও বেশি।

[৬] গবেষণায় বলা হয়েছে, বিড়ি খাত থেকে প্রাপ্ত বাড়তি রাজস্ব দিয়ে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হলে খুব সহজেই এই ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হবে। সরকারিভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হলে ৭৮.৪ শতাংশ বিড়ি শ্রমিক এ ক্ষতিকর পেশা ছেড়ে দিতে চায় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত