প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এক করোনা জয়ীর গল্প :ঘরে থেকেই করোনামুক্ত হওয়া সম্ভব

মনিরুল ইসলাম : [২] এক করোনাজয়ীর আত্মপ্রত্যয়ের গল্প। তিনি কি ভাবে দৃঢ় মনোবলের সাথে জয়ী হলেন কোভিড-১৯। এ কথাই বললেই আজকের করোনা জয়ী কাহিনী। তিনি হলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও রাইফলে মফিজ খ্যাত অভিনেতা শহীদ আলমগীরের সহধর্মিণী সুরাইয়া মিশু। তারা ২জন ভালোবেসে ঘর বাঁধেন। তাদের সংসারে রয়েছে একটি ফুটফুটে ১৫ মাস বয়সী ছেলে সন্তান।

[৩] সম্প্রতি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন সুরাইয়া মিশু। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। কোনো হাসপাতালে যাননি তিনি। বাসায় থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে আজ তিনি করোনামুক্ত।

[৪] আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে থেকেও করোনা মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে জানালেন মিশু।

[৫] সুরাইয়া মিশু তার জয়ী হবার গল্প বলতে গিয়ে বলেন, আসলে আত্মবিশ্বাস থাকলে ঘরে বসেই করোনা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমি গত ১৫ দিন ঘরে থেকে করোনা যুদ্ধ করেছি। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলেছি। চিকিৎসা নিয়েছি।

[৬] তিনি বলেন, এখানে বিশেষ করে বলা উচিত আমার স্বামী ২৪ ঘণ্টা আমার পাশে থেকে আমার সেবা করেছেন। কোন অবহেলা করেননি। ভয়ও পাননি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সে আমার সেবা করেছে। আমাকে সাহস যুগিয়েছে। আমার এত পাশে থেকেও করোনায় আক্রান্ত হননি।

[৭] মিশু করোনাকালীন কি কি করেছেন জানতে চাইলে বলেন, আমি প্রচুর গরম পানি খেয়েছি। গরম পানি পান করায় গলায় প্রচণ্ড ব্যথা থাকা সত্বেও কিছুটা শান্তিও পেয়েছি । মালটার জুস আর লেবুর শরবত খাওয়া হয়েছে অনেক বেশি। আদা, এলাচ আর দারুচিনি গরম পানিতে জ্বাল দিয়ে খেয়েছি। আর প্রতিদিন গরম পানির ভাপ নিয়েছি কয়েকবার। বারান্দায় রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থেকেছি ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কিছু ওষুধও খেয়েছি।

[৮] এদিকে, স্ত্রীর সেবা কীভাবে করেছেন, জানতে চাইলে শহীদ আলমগীর বলেন, আমি এই ১৫ দিন স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার সেবা করেছি। হ্যান্ড গ্লাভস, মুখে মাস্ক রেখেছি সব সময়। যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায় রেখেছি মিশুর সঙ্গে।

[৯] ঘর পরিষ্কার রেখেছি, প্রতিদিন স্যাভলন দিয়ে ঘর মুছেছি। মিশু বাথরুম থেকে আসার পর প্রতিবার স্যাভলন দিয়ে তা পরিষ্কার করেছি। আর প্রতিদিন রাতে আমার পরনের কাপড় ও তার কাপড় গরম পানি দিয়ে ধুয়েছি। ২০ মিনিট পরপর আমরা দুজনেই স্যানিটাইজার দিয়ে হাত জীবাণুমুক্ত করেছি।

[১০] শহীদ আলমগীর আরো বলেন, করোনায় কেউ আক্রান্ত হলে আশপাশের মানুষ সেটা ভালোভাবে নেয় না। যে কারণে আমরা বিষয়টি এত দিন গোপন রেখেছি। কাউকে বুঝতে দেইনি।

[১১] তিনি বলেন, আমার ১৫ মাসের ছেলেকে পাশের রুমে রেখেছিলাম। আমি ধন্যবাদ দিতে চাই ডা. মুশতাক ভাই ও রত্না ভাবিকে। তাঁদের পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রীকে সেবা করে সুস্থ করেছি। আল্লাহর রহমতে স্ত্রী এখন পুরোপুরি সুস্থ। আমরা সুস্থ আছি। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন। মনোবল হারাবেন না। করোনায় আক্রান্ত হলেই মৃত্যু, বিষয়টি এমন নয়।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত