প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়তো ছিলো, মানুষকে বাঁচানোর ব্যবস্থা ছিলো না

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : [২] নামমাত্র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে চলছে ইউনাইটেড হাসপাতাল। বুধবার রাতে হাসপাতালটির আঙ্গিনায় করোনা ইউনিটে অগ্নিকান্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নানা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় নানা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস গঠিত তদন্ত দল। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

[৩] ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ২৪ ঘণ্টা একজনের থাকার কথা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় কেউই ছিলেন না। কে কি কাজ করবে, তাও নির্ধারণ করা ছিল না। এছাড়া হাসপাতালে ১১টি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র থাকলেও তার আটটিরই মেয়াদ এক মাস আগে শেষ হয়ে গেছে।

[৪] অগ্নিকান্ডে ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন ফায়ার ব্রিগেড ট্রেনিং সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবুল চক্রবর্তী, উপ-সহকারী পরিচালক নিয়াজ আহমেদ এবং বারিধারার জ্যেষ্ঠ স্টেশন অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ।

[৫] দেবাশীষ বর্ধন বলেন, হাসপাতালে কতজনের অগ্নিনির্বাপক দল রয়েছে তা জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। নতুন স্থাপিত বর্ধিত অংশেও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা বলতে কিছুই ছিল না। ফায়ার হাইড্রেন্ট ছিল কিন্তু সেটির মুখ খুলে দেওয়ার মত কেউ ছিল না আগুন লাগার পর। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে তা করেছে বলে জানান দেবাশীষ।

[৬] অগ্নিকান্ডের কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরোটাতেই বৈদ্যুতিক লাইন দেওয়া। কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না, কারণ নেগেটিভ প্রেসারের এসি ছিল। বেশ কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সবগুলো বিষয় পর‌্যালোচনা করে কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে কোথায় থেকে আগুন লেগেছিল।

[৭] এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তদন্ত শুরু করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট না অন্য কারণে অগ্নিকান্ড তা খতিয়ে দেখছে সিআইডি।

[৮] অপরদিকে ঘটনার ১৮ ঘন্টা পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক ব্রিফিংয়ে জানায়, অগ্নিকান্ডের সময় তাদের কোনো নার্স ডাক্তার ওই আইসোলেশন সেন্টাওে উপস্থিত ছিলেন না, তারা বাইরে ছিলেন। আগুনের খবর ফায়ার সার্ভিসকে জানাতে দেরি হয়েছে, না ফায়ার সার্ভিস দেরি করে এসেছে এমন প্রশ্নেব জবাব এড়িয়ে যায় কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার পর মানুষকে বাাঁচানোর কেমন চেষ্টা করা হয়েছে এমন প্রশ্নেরও উত্তর তারা দিতে পারেননি। এছাড়া আগামী রোববার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অগ্নিকান্ডের ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠণ করা হবে বলে জানানো হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত