প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পরকীয়া প্রেমিক-ঘাতক স্ত্রীসহ  গ্রেফতার ৫, আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি

আসাদুজ্জামান বাবু, মাহাবুব সুলতান: [২] ভাতের সাথে ঘুমের টেবলেট খাইয়ে অচেতনের পর গলায় গামছা পেচিয়ে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার তালপুখুরিয়া গ্রামের কাঠমিস্ত্রি স্বামী কমলেশকে হত্যা করেছে স্ত্রী ও পরকীয়া প্রেমিক মন্মথ।

[৩] নিহত কমলেশ কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তালপুখুরিয়া গ্রামের কেনারাম বাড়ৈর ছেলে। পুলিশের কাছে আটক মন্মথ ও কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ পুলিশ ও আদালতে দেয়া ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেছে।

[৪] বুধবার দুপুর দুপুর পৌনে ২ টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহম্মদ ছানোয়ার হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নিহত কাঠমিস্ত্রি কমলেশ গত ২ মার্চ পেশাগত কাজ শেষে বিকেলে বাড়ী ফেরে। এদিন রাতে নিহতর স্ত্রী পুবপরিকল্পিত ভাবে  ভাত ও তরকারীর সাথে বেশ কয়েকটি ঘুমের টেবলেট মিশিয়ে স্বামীকে খেতে দেয়। খাওয়ার কিছুক্ষন পরেই কমলেশ ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১২ টার পর পরকীয়া প্রেমিক মন্মথ ও স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ  কমলেশের গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাষরোধ করে হত্যা করে। এরপর তারা দু-জনেই কমলেশের লাশ বাড়ীর ৪ থেকে ৫ শত গজ দুরে মন্মথর মাছের ঘেরপাড়ে মাটির নিচে পুতে রাখে।

[৫] ঘটনার ৭ দিন পর ১০ মার্চ নিহত কমলেশের ভাই বাদী হয়ে থানায় একটি জিডি করে। জিডির সূত্রধরেই কোটালীপাড়া থানা পুলিশ তদন্তে মাঠে নামে। জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রামের বিভিন্ন পেশার মানুষকে। ঘটনার ২ মাস ২৪ দিন পর গতকাল ২৬ মে ওই গ্রামের বিপুল বাড়ৈ নামে এক ব্যক্তি মম্মথর মাছের ঘেরপাড়ে  ঘাস কাটতে গিয়ে  মাটি খোঁড়া দেখতে পায়।

[৬ ] এরপর খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে কমলেশের লাশ উদ্ধার করে।  তিনি আরও জানান, সুবর্ণা পরকীয়া প্রেমিক মম্মথর সহযোগিতায় কমলেশকে হত্যা করে মরদেহ ঘের পাড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈ, সুবর্ণার পরকীয়া প্রেমিক মম্মথ বাড়ৈর ভাই কৃষ্ণ বাড়ৈ, সহযোগী বিষ্ণু বাড়ৈ ও মম্মথর বন্ধু কালু বাড়ৈকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদের পর নিহতর স্ত্রী রাতেই হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে এবং পলাতক মন্মথর সন্ধান দেয়।  পুলিশ রাতেই মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলা এলাকায় থেকে মন্মথকে গ্রেফতার করে।

[৭] এরপর পুলিশ মন্মথ ও সুবর্ণা বাড়ৈ এক জায়গায় করে সামনা সামনি হত্যাকান্ডের বিস্তারিত জানতে চায়। এক সময় দু-জনই কেন এবং কিভাবে কমলেশকে হত্যা করা হয়েছে তা পুলিশের কাছে স্বীকার করে। কমলেশ বাড়ৈর ভাই রবেণ বাড়ৈর থানায় দায়েরকৃত জিডির বরাত দিয়ে কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান বলেন, পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈর সাথে প্রতিবেশী মাছের ঘের মালিক  মম্মথ বাড়ৈর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কয়েকবার ঝগড়া ও মনোমালিন্য হয়েছে।

[৮] এ নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিকবার সালিশ বৈঠকও করেছেন। কিন্তু, তাতেও কোনো কাজ হয়নি। এরপর স্ত্রী সুবর্ণা ও পরকীয়া প্রেমিক মন্মথ কমলেশকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার ৫ দিন আগে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ব্যথ হওয়ার একপর্যায়ে ৩ মার্চ রাতে ভাত ও তরকারির সাথে ঘুমের টেবলেট মিশিয়ে ভাত খাইয়ে কমলেশকে অচেতনের পর রাত ১২ টার পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে কমলেশকে হত্যা করে স্ত্রী ও তার প্রেমিক মন্মথ।  সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

 

 

নিখোঁজের প্রায় ৩ মাস পর মাছের ঘেরপাড়ে মাটির নিচে পুতে রাখা কাঠ মিস্ত্রি কমলেশের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়  পুলিশ। গতকাল ২৬ মে (মঙ্গলবার)  সন্ধ্যার কিছুক্ষন আগে কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের তালপুকুরিয়া গ্রামের একটি বিলের মধ্যে মাছের ঘেরপাড়ে মাটির নিচে পুতে রাখা অবস্থায় পুলিশ নিহতর লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ কাঠ মিস্ত্রী কমলেশের স্ত্রী সুবর্ণা বাড়ৈসহ ৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। নিহত কমলেষ বাড়ৈ স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি নিহতের পরিবারের। উদ্ধারকৃত মরদেহটি ওই গ্রামের কেনারাম বাড়ৈর ছেলে কমলেশ বাড়ৈর (৪৫)। তিনি কাঠ মিন্ত্রীর কাজ করতেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত