প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গণস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে ‘প্রটোকল’ না মানার অভিযোগ ওষুধ প্রশাসন ও বিএসএমএমইউ’র

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস শনাক্তে ‘জিআর র‌্যাপিড ডট ব্লট’ কিটের সরকারি অনুমোদনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) বলছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৈরি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে, তারা ফলাফল পেলেই প্রকাশ করবেন। গণস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তারা গোপনীয়তার চুক্তি ভঙ্গ করেছেন। একইসঙ্গে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর বলছে, বিএসএমএমইউ’র প্রতিবেদন পেলেই তারা ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু এর আগে নিবন্ধনবিহীন কিছু ব্যবহার, পরীক্ষণ, সরবরাহ বা বাজারজাত থেকে যেন বিরত থাকা হয়।

[৩] মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ২ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, যদিও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়মতান্ত্রিকভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘায়িত করছে। তার দাবি, বিএসএমএমইউ ইতোমধ্যে ৩০০ কিটের কার্যকরিতা পরীক্ষা করেছে।

[৪] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে আমাদের স্টাডি শেষ হয়নি। তারা প্রথমে বলেছিল ব্লাড থেকে টেস্ট করবে, এখন বলছে, সেলাইবা ( লালা) থেকে টেস্ট করবে, গত ২০ মে তারা অ্যান্টিজেনের কিট দিয়েছে। স্টাডি শেষ হবে কীভাবে। আমাদের কাছে এসবের অফিসিয়াল ডকুমেন্টস রয়েছে। অথচ তারা বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কথা বলছে। রক্ত থেকে পরীক্ষার বদলে লালা পরীক্ষার কারণে পুরো প্রটোকল বদলাতে হবে, তারপরও দ্রুততার সঙ্গে আমরা সেটা করার চেষ্টা করছি। ভিসি বলেন, ‘সব কিছু শেষ হোক, আমরা আমাদের কথা বলবো। তারা যেভাবে কিট দিচ্ছে আমরা সেভাবেই করছি। আমরা এখন রিফিউজ করতে পারতাম, কিন্তু তাতে করে একটা ব্লেইম আসবে। ‘রিফিউজ না করে চুপচাপ কাজ করছি’মন্তব্য করে ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘তারা যা দিয়েছে তা দিয়েই কাজ হচ্ছে। রেজাল্ট যা পাই তাই পাবলিশ করে দেব।

[৫] ১৭ মার্চ করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের পরীক্ষার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণায় কিট উৎপাদনের কথা জানায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ১৯ মার্চ কিট উৎপাদনে যায় প্রতিষ্ঠানটি। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে ড. নিহাদ আদনান, ড. মোহাম্মদ রাঈদ জমিরউদ্দিন, ড. ফিরোজ আহমেদ এই কিট তৈরি করেন।

[৬] ২৫ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং বিএসএমএমইউতে করোনা টেস্টের কিট হস্তান্তর করা হয়। ৩০ এপ্রিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের থেকে বিএসএমএমইউ বা আইসিডিডিআর,বিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেয়া হয়। ২ মে কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য বিএসএমএমইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমকে প্রধান করে ৬ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। মঙ্গলবার থেকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে কিটের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের কথা ছিল। যদিও পরে এদিন বিকালে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানান,  ওষুধ প্রশাসনের অনুরোধে তারা ট্রায়াল স্থগিত রেখেছেন।

[৭] ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. রুহুল আমিন জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণস্বাস্থ্যের পারফরমেন্স স্টাডি হচ্ছিল, সে স্টাডি পূর্ণাঙ্গ শেষ হয়নি। কিন্তু সে স্টাডিই মূল বিষয়। বিএসএমএমইউর ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি। গণস্বাস্থ্যকে বলা হয়েছিল বিএসএমএমইউর রিপোর্ট পাওয়ার পরই কেবল নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে, সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কিন্তু বিএসএমএমইউর রিপোর্ট ঈদের আগের দিন পর্যন্ত পাইনি আমরা। বিএসএমএমইউ’র প্রতিবেদন পাওয়ার আগে গণস্বাস্থ্যের বর্তমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে ওষুধ প্রশাসনের এই পরিচালক বলেন, নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন না হওয়া পর্যন্ত বা রেজিস্ট্রেশনবিহীন কিছু যেন ব্যবহার বা পরীক্ষণ, সরবরাহ বা বাজারজাত থেকে যেন আপাতত বিরত থাকা হয়। আর স্টাডি রিপোর্ট না আসলে তো রেজিস্ট্রেশনের প্রক্রিয়া করা যাবে না।  ওষুধ প্রশাসন থেকে কাউকে থামিয়ে দেয়া হয়নি। মূলত তাদের কাজটিই শেষ হয়নি বিএসএমইউতে। পারফরমেন্স স্টাডির কাজ চলমান রয়েছে। আর গণস্বাস্থ্যও কিন্তু বলেছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুরোধে আমরা স্থগিত করেছি।

[৮] ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিএসএমএমইউ’র কাজ পুরো শেষ হয়নি সেটা জানি। ৩০০টা করেছে, আর কত করবে, করুক। আর ওষুধ প্রশাসনের বিষয়ে বলবো, আপনি কোনওটিরই বেলায় অনুমোদন ছাড়া দেন, আমাদের সমস্যা কোথায়। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত