প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহে ‘ভিটিএম কিট’  তৈরি হলো দেশে

মাজহারুল ইসলাম : [২] বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডেজিগনেটেড রেফারেন্স ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল মেজারমেন্ট (ডিআরআইসিএম) করোনা ভাইরাস শনাক্তে নমুনা সংগ্রহের জন্যে এই ভাইরাল ট্রান্সপোর্ট মিডিয়া (ভিটিএম) কিট তৈরি করে।  ডিআরআইসিএমের পরিচালক মালা খানের নেতৃত্বে ৪ জন বিজ্ঞানীসহ ১২ জন সদস্য মিলে এই কাজটি করেছেন। দেশের বর্তমান ভয়াবহ করোনা সংকট মোকাবিলায় সঠিক টেস্টের জন্য সঠিক পদ্ধতিতে নমুনা সংগ্রহ জরুরি।

[৩] স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৭’মে ডিআরআইসিএমকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, এই কিট দিয়ে তারা পরীক্ষা করে আশাব্যঞ্জক ফল পেয়েছে। এ জন্য এই কিট নমুনা সংগ্রহে ব্যবহার করতে চায় অধিদপ্তর। সার্স ও কোভ-২-এর নমুনা সংগ্রহের জন্য বিশেষ ধরনের ডিটিএম তৈরির গাইডলাইন দিয়েছে সেন্টার ফর ডিসিজ কন্ট্রোল (সিডিসি, ইউএসএ) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

[৪] ডিআরআইসিএম জানিয়েছে, সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি, ইউএসএ) অথবা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী ‘কোভিড-১৯’ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করতে হয় মূলত ৩টি স্থান থেকে। নাকের দুটি ছিদ্র ও গলা। নাকের মধ্যে একটি নমুনা হলো ন্যাজাল সোয়াব এবং অপরটি হলো নাকের শেষ প্রান্তে গিয়ে গলার পেছনের অংশ থেকে Nasopharyngeal সোয়াব। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলো Nasopharyngeal নমুনা সংগ্রহ পদ্ধতি। ‘Nasopharyngeal নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতি একটু জটিল। তাই এই পদ্ধতিটিকে সহজ করার জন্য কিটটিতে স্যাম্পল কালেকশনের উপযুক্ত সায়োব স্টিক দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া গলার Oropharyngeal স্যাম্পল কালেকশন করার ক্ষেত্রে রোগীকে যেন দীর্ঘক্ষণ মুখ খোলা রাখতে না হয়, সেজন্য কিটটিতে রয়েছে একটি “টাং হাল্ডোর’ যা ব্যবহার করে সহজেই ডিপ থ্রট থেকে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব।

[৫] এ রকম ৫ হাজার কিট মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে উপহার হিসেবে দিয়েছে ডিআরআইসিএম। তবে এরপর সেগুলো কিনে সংগ্রহ করতে হবে। একেকটি কিটের দাম পড়বে গড়ে ২ থেকে আড়াই’শ টাকা। বর্তমানে নমুনা সংগ্রহের বিদেশ থেকে ৪৩০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় একেকটি কিট আমদানি করতে হয়।

[৬] সংস্থাটি জানিয়েছে, ভিটিএম হচ্ছে লবণ, প্রোটিন ও অ্যান্টিবায়োটিকের সমন্বয়ে তৈরি এক বিশেষ ধরনের সল্যুশন বা দ্রবণ, যার মাধ্যমে ভাইরাস সংগ্রহ, ট্রান্সপোর্ট এবং দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায়।

[৭] মালা খান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এই কিট করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে আনার সময় নমুনা সংরক্ষণ জরুরি। এই ভিটিএম কিটে সংগৃহীত নমুনা ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সহজেই ৩ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে সংরক্ষণের অভাবে নমুনা বাতিল হওয়া বা বাতিলের কারণে একই নমুনা একাধিকবার সংগ্রহ করার দীর্ঘ প্রক্রিয়াটিও এড়ানো সম্ভব। এই কিটে নমুনা খুব সঠিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব।

[৮] ডিআরআইসিএম জানিয়েছে, কিটটিতে সল্যুশন রাখার জন্য টিউব নির্বাচন করা হয় বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে। টিউবটি হালকা। সহজে এক হাতে ধরে রাখা যায়। এতে রাবার স্টপার্স–সংবলিত মুখ থাকায় চুইয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই। এ ছাড়া কিটটিতে নমুনা সংগ্রহের জন্য উপযুক্ত সোয়াব স্টিক দেয়া হয়েছে। রয়েছে একটি ‘ট্যাং হোল্ডার’, যা ব্যবহার করে সহজেই ডিপ থ্রট থেকে নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব। কিটটিতে ছবিযুক্ত একটি নির্দেশনালিপি দেয়া হয়েছে, যাতে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা সহজেই অনুসরণ করতে পারবেন।

[৮] গবেষক দলের প্রধান মালা খান বলেন, করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য দেশে এই কিট প্রথম তৈরি হলো। প্রতিদিন ৫০০০ কিট তৈরি করার সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজন হলে সুবিধা বাড়িয়ে সংখ্যাটি আরও বাড়ানো সম্ভব। প্রথমআলো, জাগোনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত