প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ মূক ও বধিরদের জন্য ‘স্বচ্ছ মাস্ক

ডেস্ক রির্পোট: [২] করোনাভাইরাস মহামারীর সময় স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম উপকরণ ফেস মাস্ক বা মুখোশ। প্রত্যেক মানুষের জন্য মাস্ক এখন দৈনন্দিন জীবনের কাজের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মানুষ নিজ ঘরে, হাসপাতালে, সুপারমার্কেট যেখানেই কাজ করুন না কেন মাস্ক পরতে হচ্ছে। এতে করে দেখা যাচ্ছে না ঠোঁট, কিংবা তার কম্পন। ফলে বাজার-দোকানে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বধির কিংবা শ্রবণ-সমস্যায় যারা আক্রান্ত তারা পারছে না লিপ-রিডিং এর সুবিধা নিতে।

[৩] মূলত মূক এবং বধিরদের ক্ষেত্রে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ‘সাইন ল্যাঙ্গোয়েজ’ আর ‘লিপ রিডিং’। তাঁদের অনেকটাই নির্ভর করতে হয় ‘লিপ রিডিং’-এর উপর। মানুষ কী বলছেন, তা তারা ঠোঁটের ওঠানামা দেখে বুঝে নেন। ‘আপনি যে ভাষায় কথা বলতে পারেন। মাস্ক পরা থাকলে আমি তা বুঝতে পারি না‘-বলছিলেন যুক্তরাজ্যের শিশু বিষয়ক চিকিৎসক ফিজ ইজাগারেন, যিনি দু’বছর বয়স থেকেই বধির।

[৪] কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস মহামারীর সময় স্বাস্থ্যবিধির অন্যতম উপকরণ ফেস মাস্ক বা মুখোশ। মাস্ক প্রত্যেক মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল কাজের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। চিকিৎসক ফিজ ইজাগারেন বলেন, যখন কেউ মাস্ক পরে আমি তার মুখের ভাষা পড়তে পারি না। তবে দুয়েকটি শব্দ এলোমেলোভাবে শুনতে পাই। যার কোনো অর্থ হয় না।

[৫] যখন কেউ মাস্ক পরেন তখন আমি ঠোঁট ও মুখের ভাষা পড়তে পারি না। কাজেই বাক্য গঠনের মূল বিষয়গুলো আমি হারিয়ে ফেলছি‘-বলছিলেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী বিশ্বের ৪৬৬ মিলিয়ন লোক মূক ও শ্রবণ সমস্যাজনিত কারণে ভুগছে। যাদের জন্য প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড যেসব মাস্ক ব্যবহৃত হচ্ছে তা কার্যকর ও উপযোগী নয়। এমন পরিস্থিতিতে বিকল্প উদ্যোগ নিয়ে চলছে একাধিক প্রয়াস। দাতব্য সংস্থা এবং নির্মাতারা সবাই মিলে একটি নতুন রকমের সমাধান নিয়ে আসার চেষ্টা করছে।

[৬] বিবিসি বলছে, মেইন ডানস লা মেইন (হ্যান্ড ইন হ্যান্ড), এমনই একটি সংস্থা যা উত্তর ফ্রান্সের শেভেরিয়াসে অবস্থিত, যারা মূক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীদের সমর্থন করে ট্রান্সপারেন্ট মাস্ক বা স্বচ্ছ মুখোশ ডিজাইন করেছে। ট্রান্সপারেন্ট এই মাস্ক পরলে ঠোঁট ও মুখ পরিষ্কার দেখা যায়। এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন কেলি মোরেলন ও তার মা সিলভি। দুজনে মিলে নাক ঢাকা এবং মুখ ও ঠোঁট দৃশ্যমান করে তোলা এমন একটি মাস্কের ডিজাইন করেছেন, যা সংক্রমণ এড়াতে পারে আবার যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহায়ক।

[৭] তারা বলছেন, এই মাস্ক পরে কথা বললে মুখের ভাষা স্পষ্ট পড়তে সক্ষম হবে বধির ও শ্রবণশক্তিহীনরা। এতে করে লিপ রিডিং এর কোনো সমস্যা থাকে না। মূক-বধিরদের যোগাযোগ সমস্যার অনেকটাই সুরাহা হবে তাতে। কেলি বিবিসিকে বলেছেন, এই মাস্কের মূল লক্ষ্য হলো বধির ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী লোকদের কারও সাথে কথা বলার সময় ঠোঁট পড়ার সুযোগ দেওয়া। এই মাস্ক অটিস্টিক ব্যক্তি, অক্ষরজ্ঞানহীন এবং শিশুদের ভীতি এড়াতেও উপযুক্ত হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হবে। তথ্য চ্যানেল আই,

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত