প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন চিকিৎসক-পুলিশ-সাংবাবাদিকরা

মহসীন কবির : [২] করোনায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। প্রায় চার হাজার সদস্যের মধ্যে করোনা-জয় করে কাজে ফিরেছেন সাতশর বেশি সদস্য। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়শেনের হিসাবে এ পর্যন্ত আক্রান্ত প্রায় সাতশ চিকিৎসক। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন প্রায় একশ’ জন। আক্রান্ত দেড় শতাধিক সাংবাদিকের মধ্যে সুস্থ হয়ে পেশাগত দায়িত্বে পালন করছেন বিশ জনের মত। এমনই তিন পেশার তিন জনের অভিজ্ঞতা নিয়ে এবারের প্রতিবেদন। ডিবিসি টিভি ও চ্যানেল২৪

[৩] ফারজানা আক্তার। রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানার উপ-পরিদর্শক। দায়িত্ব পালন করতে করতেই আক্রান্ত হন করোনাভাইরাসে। তারপর শুরু হয় ভীষণ এক যুদ্ধ। শারীরিক ও মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রাণান্ত চেষ্টা।নিজেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে পুলিশ ব্যারাকে অবস্থান নেন ফারজানা। আঁধারে মোড়া একেকটি দিন যেন হয়ে ওঠে বিষণ্ণতার মহাকাব্য। তিনি বলেন, ‘যখন আমি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হই, মানষিকভাবে একটু ভেঙ্গে পড়ি। আমার মনে হয়েছে আমি কি আবার কাজে ফিরে যেতে পারবো কিনা। তবে আমি আমার পরিবারের লোকদেরকে কিছু জানাইনি।গোপন রেখেছি।’

[৪] ধীরে ধীরে একটু একটু করে দেখা মেলে আলোর রেখার। আক্রান্তের দুসপ্তাহের বেশি সময় পর, দুটি পরীক্ষাতেই ঘোষিত হয় কোভিডের পরাজয়। পরদিনই কর্মক্ষেত্রে যোগ দেন ফারজানা। এই ফেরাকে দ্বিতীয় জীবনের সূচনা দেখছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মনে হয় আমি নতুন করে আবার জীবন ফিরে পেয়েছি। কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে আমি যে আবার কাজে ফিরতে পেরেছি এটা আমার জীবনের অবশ্যই নতুন করে পাওয়া।’

[৫] কোভিডকে পরাস্ত করতে সম্মুখসমরে দক্ষ সেনাপতির ভূমিকায় একেকজন চিকিৎসক। সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার গোবিন্দ চন্দ্র রায় তাদেরই একজন। রোগীর সেবা দিতে দিতেই করোনা আক্রান্ত হন তিনি। বাসাতেই বিচ্ছিন্ন থেকে শুরু হয় কোভিড জয়ের প্রক্রিয়া। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. গোবিন্দ্র চন্দ্র রায় বলেন, ‘পরিবারের সহযোগীতা হাসপাতালে দেয়া সম্ভব না। তাই আমি পরামর্শ দিব যে, যারা মাইল্ড টু মডারেট কেস তারা হোম ট্রিটমেন্টে ভালো থাকবেন।’

[৬] দুসপ্তাহ পর করোনামুক্ত হয়েই চিকিৎসা পেশায় ফেরেন ডাক্তার গোবিন্দ। রোগীর সেবার মাঝেই জীবনের সার্থকতা খোজেন তিনি। ডা. গোবিন্দ্র চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘আমি রোগীদেরকে বলি আমিও করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমি সুস্থ। আপনারা ভয় পাবেন না। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলুন।’

[৭] বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যেও দেশ-বিদেশের সব খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে ছুটছেন সাংবাদিকরা। এই ছুটতে ছুটতে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তেষট্টিটি সংবাদমাধ্যমের ১৭২ জন। এরমধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৭ জন। কাজে ফিরেছেন বেশ কয়েজন। এ প্রসঙ্গে দীপ্ত টিভির সাংবাদিক আহাদ হোসেন টুটুল জানান, ‘চেষ্টা করছি আমি নতুন উদ্যামে ঘুরে দাঁড়াতে। অফিসে আগের মতো করে কাজ করতে।’

[৮] করোনাজয়ী এই তিন পেশার মানুষেরা সুস্থ্য হয়ে কাজেই যোগ দেননি তাদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত অন্যদের জীবন বাঁচাতে প্লাজমা দিচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত