প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ গবেষণায় নিয়োজিত একাধিক সুপার কম্পিউটারে হ্যাকারের হানা

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] কভিড-১৯ নিয়ে গবেষণায় ব্যবহৃত ইউরোপের একাধিক সুপার কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। এমন সাইবার আক্রমণের পর কিছু কম্পিউটার অফলাইনে রাখা হয়েছে।

জানা যায়, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের কিছু সুপার কম্পিউটার হ্যাকিংয়ের শিকার হয়। এই ঘটনার উদ্দেশ্য কী কিংবা কে এর পেছনে জড়িত সে ব্যাপারটি এখনো পরিষ্কার নয়।

[৩] কভিড-১৯ কিংবা অন্যান্য জটিল রোগের তথ্য বিশ্লেষণ, সম্ভাব্য ওষুধ ও ভ্যাকসিনর তৈরির গবেষণায় সাহায্য করে সুপার কম্পিউটার। সিমুলেশন পরিচালনা করে কোষের ওপর কোনো প্যাথোজেন কতটা প্রভাব ফেলতে পারে এবং রোগটির সম্ভাব্য চিকিৎসাই বা কী হতে পারে, সে ব্যাপারে ধারণা দেয় সুপার কম্পিউটার।

[৪] আক্রান্ত একাধিক ল্যাব জানায়, শুধু লগইন পোর্টাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কম্পিউটেশন পরিচালনাকারী মেশিনারি নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সুপারকম্পিউটিং প্রকল্পের কর্মী জানিয়েছেন, সাইবার হামলাকারী হয়তো গবেষণার তথ্য চুরি করতে কিংবা এর অগ্রগতি নস্যাৎ করতেই সিস্টেমের নিরাপত্তা ভাঙতে চেয়েছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী প্রকাশ্যে কথা বলতে পারেন না বলেই ওই ব্যক্তি নাম প্রকাশ করেননি।

তিনি বলেন, ‘আক্রমণকারীরা হয়তো মেধাস্বত্ব চুরি করতে কিংবা কভিড-১৯ নিয়ে লড়াইয়ের গতিকে মন্থর করতে চেয়েছিল।’

[৫] সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটিং সেন্টার সাইবার আক্রমণের কথা নিশ্চিত করে বলেছে, ইউরোপের আরো কিছু হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটার ফেসিলিটিও আক্রমণের শিকার হয়েছে। এখন তদন্তের স্বার্থে তারা এসব কম্পিউটারে প্রবেশাধিকার বন্ধ রেখেছে।

[৬] সেন্টারটি জানায়, ‘ইউরোপের একাধিক হাই-পারফরম্যান্স ও একাডেমিক কম্পিউটার প্রকল্পে সাইবার আক্রমণ চালানো হয়েছে। সিস্টেমগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব কাজে ফেরাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের সিস্টেম প্রকৌশলীরা।’

[৭] করোনাভাইরাসের ছোট্ট ঝিল্লি প্রোটিন নিয়ে গবেষণার জন্য সম্প্রতি সুইস ন্যাশনাল সুপার কম্পিউটিং সেন্টারের অনুমতি পেয়েছে দ্য সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।

[৮] আর্চার নামের যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটিং সার্ভিস সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার কথা জানায়। আক্রান্ত হওয়ার পাঁচদিন পরও আর্চারের সিস্টেম অফলাইনে ছিল। ইম্পেরিয়াল কলেজের ‘সেন্টার ফর গ্লোবাল ইনফেকশাস ডিজিস অ্যানালাইসিস’-এ করোনাভাইরাস মহামারী বিস্তারের সিমুলেশন তৈরি করা হচ্ছিল।

[৯] জার্মানিতে ব্যাডেন-ভুর্টেমবার্গে অবস্থিত দ্য সুপার কম্পিউটিং সেন্টারও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে। তবে এটা নিশ্চিত নয় যে, এই সেন্টারটি কভিড-১৯ নিয়ে কোনো ধরনের গবেষণা করছিল কিনা।

[১০] সাইবার আক্রমণের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। বছরের পর বছর ধরে মেডিকেল ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল এবং প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও অন্যান্য খাতের মেধাস্বত্ব হাতিয়ে নিতে সাইবার আক্রমণ করা হয়েছে এবং এর পেছনে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

[১১] গত ১৩ মে এফবিআই ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (যুক্তরাজ্য) থেকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষকদের এই বলে সতর্ক করে দেয়া হয় যে, তারা চীনভিত্তিক হ্যাকারদের আক্রমণের শিকার হতে পারেন।

[১২] এক বিবৃতিতে বলা হয়, চীনা সাইবার আক্রমণকারীরা কভিড-১৯ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণাকে টার্গেট করেছে, যা নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। এসব আক্রমণকারীরা বেআইনিভাবে মূল্যবান মেধাস্বত্ব ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য যেমন ভ্যাকসিন, চিকিৎসা এবং কভিড-১৯ এর পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণার তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য এই চুরির ঘটনা নিরাপদ, কার্যকর ও দক্ষ চিকিৎসা কার্যক্রমকে বিপণ্ণ করে তুলছে।

ব্লুমবার্গ অবলম্বনে গাজী রাকিব

বণিক বার্তা, প্রিয়ডটকম

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত