প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]হংকংয়ে চীনের নিরাপত্তাআইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ পুলিশের

লিহান লিমা: [২] চীনে কংগ্রেসে পাশ হওয়া বিতর্কিত সামরিক নিরাপত্তা আইনের বিরুদ্ধে হংকংয়ের রাজপথে বিক্ষোভ করেছে শতশত বিক্ষোভকারী। রোববার আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের ওপর টিয়ারগ্যাস ও জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। মানবাধিকারকর্মীরা বলছে রাষ্ট্রদ্রোহ, সহিংসতা ও বৈদেশিক হস্তক্ষেপবিরোধী এই আইন হংকংয়ের অধিবাসীদের বাক-স্বাধীনতা ও অধিকার ক্ষুণ¥ করবে। আল জাজিরা, এএফপি, দ্য গার্ডিয়ান

[৩]চীনের কংগ্রেসে এই বিল পাশ হওয়ার পর থেকেই করোনা ভাইরাসের লকডাউন অমান্য করে রাজপথে নেমে পড়ে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের বাধা অমান্য করে বিক্ষোভকারীরা তীব্র প্রতিবাদ করে। তারা চীনের শাসন বিরোধী বিক্ষোভ, ব্যানার, ফেস্টুন দেখিয়ে প্রতিবাদ জানায়। ছয় মাসের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ‘হংকংকে স্বাধীন করো, এখন সময় বিদ্রোহের’, ‘হংকংকে স্বাধীন করাই এক মাত্র উপায়’ ইত্যাদি ¯েøাগানে রুপ নেয়। অন্যরা হংকংয়ের স্বাধীনতা পন্থী নীল পতাকা ওড়ায়।

[৪]বেইজিংয়ের নিরাপত্তা আইনে এই ধরণের বিক্ষোভ অবৈধ। পুলিশ এই বিক্ষোভকে অবৈধ ঘোষণা করে ও বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আহŸান জানায়।

[৫]তবে বিক্ষোভকারীরা আইনী বাধা মানছেন না। বিক্ষোভকারী মেসি ওং বলেন , স্বাধীনতাই হংকংয়ের দীর্ঘদিনের লক্ষমাত্রা। হয়তো নিকট ভবিষ্যতে এটি সম্ভব না কিন্তু দিনশেষে প্রত্যাশিত সাফল্য অবশ্যই আসবে।

[৬]হংকংয়ের মিনি সংবিধানের আর্টিকেল ২৩ অনুযায়ী, বিদ্রোহ ও রাষ্ট্রদ্রোহের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের কথা বলা আছে। কিন্তু মানবাধিকার এবং বাক স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হওয়ার আশঙ্কার এই আইন কখনোই প্রণয়ন করা হয়নি।

[৭] হংকংয়ে চীনের ‘এক দেশ, দুই ব্যবস্থা’ নীতি চালু রয়েছে। গত বছরের জুনে তীব্র গণআন্দোলনের মুখে চীন হংকংয়ের অপরাধী প্রত্যাপর্ণ বিল বাতিল করে।

[৮]২০০৩ সালেও এমন একটি আইন প্রণয়নের চেষ্টা করেছিল চীন। প্রায় ৫ লাখ মানুষের বিক্ষোভের মুখে চীনের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

[৯] ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর ইজারার মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই হংকং চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি। নেতা নির্বাচনে হংকংয়ে ভোট দেয়ার সুযোগ পান ১২শ জনের একটি বিশেষ কমিটি, যদিও অঞ্চলটির জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ।