প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নিউমার্কেট থানায় গত এক মাসে করোনা নতুন সংক্রমণ হয়নি

মাসুদ আলম : [২] বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে না পড়তেই জনগণের নিরাপত্তায় ঝাঁপিয়ে পড়লেন ফ্রন্ট-ফাইটার হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। জনগণকে ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এমন কোন কাজ নেই যা করেননি পুলিশ সদস্যরা। ফলে একক পেশা হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হন পুলিশের সদস্যরা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি এমন একটি থানা নিউমার্কেট। এই থানায় কর্মরত ৩৩ জন সদস্য করোনা পজেটিভ হয়েছেন।

[৩] নিউমার্কেট জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল হাসান জানান, ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকে কোন প্রশিক্ষণ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই একপ্রকার খালি হাতে করোনার বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন থানার কর্মকর্তা ও সদস্যরা। জনগণকে ঘরে রাখা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো, ত্রান দেওয়া, নিয়মিত চেকপোস্ট ডিউটিসহ বহুমূখী জনকল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করার ফলে পুলিশ জনগণের সাথে মিশে যান, ফলে পুলিশ সদস্যরা ব্যাপকভাবে করোনা আক্রান্ত হতে থাকেন। রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সাজ্জাদুর রহমান দিক নির্দেশনা ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে সংক্রমণ শূন্যের কোটায় নেমে আসে নিউমার্কেট থানায়। পুলিশ সদস্যরা আক্রান্ত হওয়া শুরু করলে থানার সকল সদস্যকে সরিয়ে বিভিন্ন হোটেলে আলাদা কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করা হয় এবং ডিএমপির লজিস্টিকস বিভাগের সহায়তায় পুরো থানাকে জীবানুমুক্ত করা হয়।

[৪] তিনি আরো জানান, পুলিশ সদরদপ্তরের প্রণয়ন করা নকশা মোতাবেক পুলিশ ব্যারাকের বিছানা স্থাপন করে দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত বিছানা ও আসবাবপত্র সরিয়ে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। অফিসার ও ফোর্সের জন্য আলাদা ব্যারাক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। থানায় কর্মরত পুলিশ এবং আনসার সদস্যদের সবার করোনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে যাদের রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তাঁদের থানার কাজে ফিরিয়ে আনা হয় এবং আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

[৫] সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এপ্রিল মাসের শুরুতে ধানমন্ডি পূর্ব ফাঁড়ির এক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর কিছুদিন না যেতেই নিউমার্কেট থানার দুজন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হলে তাঁদের সংস্পর্শে আসা অন্য সদস্যদের পৃথক করা হয়। তবে হঠাৎ আক্রান্ত হওয়া এই দুই পুলিশ সদস্যের সংস্পর্শে
হয়।

[৬] অফিসার ও ফোর্সের সংক্রমণ রোধে থানায় কর্মরতদের দুটি গ্রæপে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি গ্রæপ টানা এক সপ্তাহ ডিউটি করেন। ফলে একসপ্তাহ অন্তর তারা এক সপ্তাহের বিশ্রাম লাভ করেন যা তাদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখে। আক্রান্ত সদস্যদের মধ্যে ৩২ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বাকি এক জন অচিরেই ফিরে আসবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত