প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]মাঝ রাস্তায় সন্তান প্রসবের পরও ১৬০ কিমি হাঁটলেন মা, উঠে এলো শিল্পীর তুলিতে

আক্তারুজ্জামান : [২] ঘটনাটি এক সপ্তাহ আগের। তবে নতুন করে আলোচনায় এসেছে এক শিল্পীর কারণে। যিনি ওই শ্রমিক মায়ের একটি চিত্র তুলিতে এঁকেছেন। এরকম দৃশ্য মানুষ হয়তো আগে কখনো ভাবেওনি। সেটাই করে দেখিয়েছেন ওই মা।

[৩] নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিছুটা হাঁটার পর রাস্তাতেই সন্তানের জন্ম দেন পরিযায়ী শ্রমিকের স্ত্রী। তবে মনের জোরের কাছে হার মেনেছে ক্লান্তি। সন্তান জন্ম দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে আবারও হাঁটতে শুরু করেন ওই মা। পরে বিষয়টি নজরে আসায় এবং পরিস্থিতি বিচার করে পরিযায়ী শ্রমিক দলকে বাড়ি পৌঁছনোর ব্যবস্থ করে দেয় পুলিশ। খবর : বাংলা হান্ট

[৪] নিজের এলাকায় উপার্জন নেই। তাই জোটে না পেট ভরার মতো খাবার। বাধ্য হয়ে একটু বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় নাশিখে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানেই ভালোভাবেই চলছিল তাদের কাজ। কিন্তু লকডাউনেও অন্য রাজ্যে আটকে পড়েন। কাজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই টান পড়ে পেটে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়ি ফেরার জন্য হাঁটতে শুরু করেন একদল পরিযায়ী শ্রমিক। ১৬-১৭ জনের সেই দলে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ কে নেই! দ্য ওয়াল

[৫] সেই দলেই ছিলেন সন্তান জন্ম দেয়া মা শকুন্তলা। হাঁটতে হাঁটতেই হবু মা ভাবতে থাকেন সন্তান জন্ম দেয়ার আগে বাড়ি ফিরলে ভাল হয়। তাই কষ্ট করেও হাটতে থাকেন তিনি। কিন্তু গর্ভস্থ সন্তান মায়ের কথা শুনল না। পরিবর্তে রাস্তাতেই জন্ম নিল সে। পরিযায়ী নারী শ্রমিকদের সাহায্যেই সন্তানের জন্ম দেন শকুন্তলা।

[৬] সন্তান জন্ম দিয়ে হাঁপিয়ে ওঠেননি মা শকুন্তলা। তাই তো সন্তান জন্মের পর আবারও হাঁটতে শুরু করলেন তিনি। কোলে সদ্যোজাত। মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ সীমান্ত লাগোয়া সেন্ধওয়ার কাছে আসার পর পুলিশের নজরে পড়েন ওই পরিযায়ীরা। শকুন্তলার কোলের সন্তান যে সবে সবেই পৃথিবীতে এসেছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি পুলিশের।

[৭] দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তারা। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং খাবারদাবারের ব্যবস্থা করেন পুলিশকর্মীরা। এছাড়াও ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের দলে থাকা যে শিশুরা খালি পায়ে হাঁটছিল, তাদের জন্য জুতোরও ব্যবস্থা করেন। শকুন্তলার সন্তান জন্ম দেয়ার আগের লড়াইয়ের কথা শুনে অবাক হয়ে যান তারা। এরপর একটি বাসে করে তাদের গন্তব্যে পাঠিয়ে দেন। মহানগর২৪

[৮] শকুন্তলার স্বামী বলেন, শুধু পুলিশই নয়। রাস্তায় আমাদের একটি শিখ পরিবারও সহযোগিতা করেছে। আমার দুধের সন্তানের জন্য পোশাক দিয়েছে। কিছু অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীও দিয়েছেন তারা। আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।

সর্বাধিক পঠিত